ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১৫ মিনিট আগে
ডা. লতিফুর রহমান

ডা. লতিফুর রহমান

ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


২৯ অগাস্ট, ২০১৮ ১২:০০

বিসিএস (স্বাস্থ্য) এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে!

বিসিএস (স্বাস্থ্য) এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে!

বিসিএস (স্বাস্থ্য) এখন গলার কাঁটা ও দিল্লিকা লাড্ডু হয়ে দাঁড়াবে। খেলেও পস্তাবে না খেলেও পস্তাবে।

এখন ব্যাপক হারে ডাক্তাররা বিদেশ মুখি হবে। সমস্যায় পড়বে প্রান্তিক জনগণ। শুনেছি, ভুতের পা নাকি থাকে পেছনে। এক কদম সামনে এগুলে আরো কয়েক কদম পিছলিয়ে পেছনে চলে যায়। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নতুন নতুন নিয়ম নীতি যেন ভুতের মত। কিভাবে স্বাস্থ্যখাতকে নিচে নামানো যায় সেটা নিয়েই যেন যত নিয়ম করা হয়।

নতুন নিয়ম: 
- ৪ বছর গ্রামে থাকতে হবে। কোন ট্রেনিং পোস্টে ঢুকা যাবে না। তাহলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তৈরি হবে কবে?
- ২৫ বছরে এমবিবিএস।
- ভাগ্য ভাল হলে ২/৩ বছরের মাথায় বিসিএস না হলে ৪/৫ বছর লাগবেই, ২৬-৩০ বছর।
- গ্রামে ৪ বছর= ৩০-৩৪ বছর।
- ভাগ্য ভাল হলে প্রথম চান্সে পোস্ট গ্রাজুয়েশনে চান্স পাওয়া + ৫ বছর ট্রেনিং= ৩৫-৪০ বছর (ট্রেনিংয়ে বদলি হতে আরো কয়েক বছর দেরি হতেই পারে)।
- এরপর ম্যারাথন দৌড়= পোস্ট গ্রাজুয়েশনে পাশের হার ০-১০%। অর্থাৎ পাশ করতে করতে ৪০/৫০ পার হয়ে যায়।

বেসরকারিতে এত ঝামেলা নাই, অন্তত ট্রেনিং পর্যন্ত। ফলে বিসিএসে বড় একটা অংশ যেতে চাইবে না বা জব ছেড়ে দিবে (অনেকেই সরকারি জব ছেড়ে দিচ্ছেন এসব ঝামেলার কারণে)।

অন্যদিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, কয়েক বছরের মাথায় বিদেশের ডিগ্রি হয়ে যায়। দেশের এক্সামিনারদের কাছে বারবার ফেল করলেও বাইরে এর তুলনায় অনায়াসেই পাশ করা যায়। সুতরাং, বড় একটা অংশ দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

সবকিছু সহজ করার বদলে কেন জানি কঠিন করে ফেলছে দেশে থাকা, সরকারি জব করা। এতে আল্টিমেটলি লাভটা হচ্ছে কার? ব্রেইন ড্রেইন হচ্ছে, সিস্টেম লস হচ্ছে, নয় ছয় হচ্ছে।

পৃথিবীর আর কোথাও এ ধরনের অদ্ভুত সিস্টেম আছে কিনা জানি না। পুরো ফালতু সিস্টেমের গ্যাঁড়াকলে স্বাস্থ্যখাত। কখন যে বিরক্ত হয়ে বিদায় স্বদেশ জানাতে হয়, আল্লাহ মালুম।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত