ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৬ ঘন্টা আগে
ডা. সাবিকুন নাহার

ডা. সাবিকুন নাহার

এমবিবিএস, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ। 


২৮ অগাস্ট, ২০১৮ ১৩:৩৭

হাসপাতালে ফিরে আসবো আরো যোগ্য হয়ে

হাসপাতালে ফিরে আসবো আরো যোগ্য হয়ে

প্রতিদিনই এই হোস্টেলটা থেকে কেউ না কেউ চলে যাচ্ছে। হোস্টেলটা এখন প্রায় জনমানবহীন শূন্য চরাচর। চলে যাওয়ার স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে শূন্য রুমগুলাও যেন নিরব বিলাপে মত্ত। একটা-দুইটা শূন্য চৌকি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু লিটারেচার, অপ্রয়োজনীয় এটা-সেটা, আর যারা চলে গেলো তাদের শেষবারের পায়ের ছাপ। দরজায় কোথাও তালা ঝুলছে, কোথাও ঝুলছে না। এই শেষ, ছিটকিনিতে আর কোনোদিন তাদের হাতের ছাপটা পড়বে না। 

ভাবতেই অদ্ভুত শূন্যতায় বুকটা হাহাকার করে উঠে, ঈদের পর এই মানুষগুলো ছুটি শেষ ভেবে আর ফিরে আসবে না।

হাসপাতালের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় অজান্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। কতকিছু ঘটে যাচ্ছে এর ভিতরে। গাইনি ইউনিট-৩, মেডিসিন ইউনিট-২, সার্জারি ইউনিট-৩, পেডিয়াট্রিকস এবং অন্যান্য পেরিফেরিতে। কত খারাপ খারাপ পেশেন্ট আসছে। কতশত ওটি হচ্ছে। কেউ মারা যাচ্ছে। কেউ ফিরে যাচ্ছে সুস্থতার হাসি হেসে। অথচ কোন গল্পেরই আমি আর কোন অংশ না। জানি না এটা ঈর্ষা কিনা। কিন্তু এইটুকু জানি আমি আমার হাসপাতালটাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি। এই হাসপাতাল আমার অস্তিত্বেরই অংশ।

হাসপাতালটার দিকে তাকালে আমি নিজের মনেই যেন দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, ইনশাআল্লাহ আমি আবার ফিরে আসবো এই হাসপাতালে। কিংবা এরকমই কোন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ফিরে যে আসতেই হবে। ফিরে আসবো গরিব, অসহায়, দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোর চিকিৎসার আরো বড় পরিসরের দায়িত্ব নিয়ে। 

রাউন্ডে আমার পিছনে ছোটখাটো একটা মিছিল থাকবে এবং যোগ্যতার মাপকাঠিতে সেই মিছিল ক্রমেই বড় হতে থাকবে। সেই সময়গুলোতে এই হাসপাতালের বিভিন্ন চেয়ারে হয়তো আমার এই ফ্রেন্ডদেরই কেউ না কেউ থাকবে। দেশের আরো অনেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২১তম ব্যাচের নক্ষত্ররা থাকবে লিডিং পজিশনে। আমরা তখন জমিয়ে আড্ডা দিবো। স্মৃতিচারণা করবো এই যে এইখানে যেসব দিন ফেলে যাচ্ছি তাদের নিয়ে।

কে বললো আমরা চলে যাচ্ছি? আমরা তো চলে যাচ্ছি আবার ফিরে আসার জন্যই, আরো একটু বেশি যোগ্য হয়ে। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত