ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১৩ ঘন্টা আগে
অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম

ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ


২৪ অগাস্ট, ২০১৮ ১২:০৫

বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাস

বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাস

যুগ পরিবর্তনের সাথে মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে গেছে। হারিয়ে গেছে অনেক আঞ্চলিক খাবারের ঐতিহ্য। সময় এবং পরিস্থিতি এজন্য দায়ী। কিন্তু কোরবানিতে আমি বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এই দুই অঞ্চলের দু'টি ঐতিহ্য রক্ষা করার চেষ্টা করি। ছোটবেলায় আমাদের দেখা কোরবানি যেটা ছিল তার ধারে কাছেও কিছু করা সম্ভব নয়। পরপর তিনদিন কোরবানি দেয়া হতো। গরুই প্রাধান্য ছিল। বিশ ত্রিশ কেজি চালের গুঁড়া করা হতো।

যেহেতু ফ্রিজ ছিল না সহজেই অনুমেয় যে এ তিনদিন কী হতো। আত্মীয়, অনাত্মীয় সবার অবাধে এসে মাংস রুটি ভক্ষণ। মাকে সাহায্য করার লোকেরও কোন অভাব ছিল না।

বরিশাল, পটুয়াখালী কোরবানি মানেই মাংস এবং চালের রুটি। কাজেই এটি একটি অবশ্য করণীয় বিষয়। আমার মেয়েরাও খুব পছন্দ করে।

শ্বশুরবাড়ির (সাতক্ষীরা) আকর্ষণীয় বিষয় হলো গরু, খাসীর ভুঁড়ি। এই ভুঁড়ি এবং শুটকি এ দু'টো জিনিস আমাদের অঞ্চলে খাবারের প্রচলন নেই। হোস্টেলে থাকার সুবাদে ইন্টারডিস্ট্রিক্ট বান্ধবীদের কাছ থেকে খাওয়া শিখেছি। আমার মা এবং বড় দু'বোন খাওয়াতো দূরের কথা বাসায় রান্না হলে নোটিশ পাঠাতে হবে যে আগামী সাতদিন এদিকে এস না।

শ্বশুরবাড়িতেও শুটকির প্রচলন নেই। সারা বছর ঘেরের মাছ খেয়েই অস্থির শুটকি আর কখন খাবে। ভুঁড়ি হোস্টেলে একদিনের অভিজ্ঞতা হলেও ভাল লাগেনি; গন্ধ লেগেছে। কিন্তু শাশুড়ি মার রান্না ছিল অত্যন্ত লোভনীয় এবং ভুঁড়ি খেয়ে ভুঁড়ি লাভার হয়ে গেলাম। সেই থেকে শুধু খাওয়া নয় একদম সাফ করা থেকে সব নিজেই করি।

শাশুড়ি সাথে খাদ্যাভ্যাসের এক্সচেঞ্জ অব ভিউ হল-আমি ভুঁড়ি খেলে উনি শুটকি খাবেন। উনিও শুটকির মজা পেলেন। কিন্তু কঠিন জিনিস হল আমার শাশুড়ির ছেলেরা।

বিশেষ করে যিনি আমার ভাগে পড়েছেন। ছোটবেলায় যে খাবার খাওয়া শিখেছে তার বাইরে যাওয়াই যাবে না। তাই ভুঁড়ি খেলেও শুটকি খায় না। শুটকি রান্না করতে হয় গোপনে। গোপনে শুটকি রান্না কী যেন তেন কথা?

আরও আছে। মাংসে গরম মসল্লা খাবে না। মাছ খাবে সাঁতরানো অবস্থায়। রান্নার পরে তো আর মাছ সাঁতরাতে পারে না। কিন্তু চামচ দিয়ে নাড়া দিলে সাঁতরাবে। আর বরিশালের মানুষ খায় ভাজি, ভুনা। আমি সাঁতরানোটা খেলেও সে শুকনা পরে থাকাটা খায় না। তো বাধ্য হয়ে মাঝে মধ্যে দুই স্টাইলেই রান্না করা হয়। কখনও আবার মধ্যম পন্থা অবলম্বন করি। তখন তাকে এই বলে বোঝাতে হয়, এতো সমুদ্রের মাছ না যে অত পানি থাকবে। এ হলো ডোবার মাছ, পানি অনেক কম আর কাঁদা মাখা বলে ঘন

এই মধ্যম পন্থাতেই কাজ ভাল হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত