ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমা বিভাগ,

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল


১৯ অগাস্ট, ২০১৮ ১১:১৪ এএম

গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা জানবেন

গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যা জানবেন

আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বাহ্যিক তাপমাত্রার ওঠা-নামার সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রাও পরিবর্তিত হয়। মানবদেহে তাপ উৎপাদন হয় প্রধানত থাইরয়েড হরমোনের প্রভাবে খাদ্যের বিপাকের ক্রিয়া-বিক্রিয়ায়। তাপ উৎপাদন হলে শরীরের তাপমাত্রা সঠিক মাত্রায় রাখার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে, খাদ্যের সঙ্গে, প্রস্রাব-পায়খানা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপায়ে তাপ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কোনো কারণে এই বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার ব্যাঘাত ঘটলে শরীরে তাপ প্রবাহজনিত বিভিন্ন সিনড্রোম বা উপসর্গ দেখা যায়।

মাংসপেশির ক্র্যাম্প:
বাইরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি এবং আর্দ্রতা ৭০% এর বেশি হলে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। ফলে সোডিয়াম লবণের ঘাটতি দেখা যায় যা মাংসপেশির ক্রিয়া-বিক্রিয়ার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এ সমস্যা সাধারণত ঠান্ডা পানিতে গোসলের পর বেশি হয়ে থাকে। শরীরের সব মাংসপেশিতেই এ ধরনের কম্পন হয় তবে বেশি দেখা যায় পায়ের কাফ মাংসপেশিতে। কর্মক্ষম এবং যাদের ঘাম বেশি হয় তাদের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে।

প্রতিকার 
প্রচুর পরিমাণ লবণ জাতীয় পানীয় পান করতে হবে। এক লিটার পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। খাবার লবণের পরিমাণও বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।

সিনকোপ:
প্রচণ্ড গরমে বেশি কাপড়-চোপড় পরে বের হলে ঘাম হয়ে শরীর থেকে অধিক পানি বের হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ কমে যায় এবং মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয়ে অজ্ঞানের মতো অবস্থা হয়। একে সিনকোপ বলে।

প্রতিকার 
এমন অবস্থা হলে রোগীকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে পানীয় পান করাতে হবে। এ আবহাওয়ায় সাদা কাপড় পরে বাইরে বের হওয়া উচিত।

অস্বস্তি:
সাধারণত বয়স্করা যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করে থাকেন এবং যাদের হার্ট ফেইলিওর জাতীয় রোগে আছে তাদের তাপজনিত এই অস্বস্তি বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড ও ভাসকুলার সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে মাথাব্যথা ও পিপাসা হয়, পায়ের অনুভূতি কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কখনো কখনো এ ধরনের রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তবে এদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে।

প্রতিকার
রোগীকে ঠান্ডা জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হবে। বেশি লবণ, চিনি মিশ্রিত শরবত পান করাতে হবে। রোগীকে শোয়া অবস্থায় রাখতে হবে।

স্ট্রোক:
সাধারণত মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের বাধা বা শিরা ছিড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে স্ট্রোক হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি হলে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যথা হয়। মস্তিষ্কে খুব তাড়াতাড়ি এ উপসর্গ দেখা যায় বলে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং স্ট্রোকের মতো উপসর্গ দেখা যায়। এটি একটি জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা। সময় মতো চিকিৎসা না হলে এ থেকে মৃত্যুহার সর্বাধিক। কারণ এ সমস্যায় মাল্টি অর্গান জড়িত হয়। যেমন- যকৃত, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট, সঞ্চালন সিস্টেম এবং রক্তে ভিআইসি রোগ দেখা যায়। এই রোগীদের শরীরের ঘাম বন্ধ হয়ে যায় বলে শরীর শুকনো থাকে। কিছু কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের এই সমস্যা বেশি হয়। যারা অধিকমাত্রায় কায়িক পরিশ্রম করেন তাদেরও এ সমস্যা হতে পারে।

প্রতিকার 
প্রথমেই রোগীকে ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুইয়ে দিতে হবে। পরিধেয় কাপড় খুলে ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে দিতে হবে। ফ্যান এক বা একাধিক চালিয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। শরীরে বরফ দেওয়া উচিত নয়। কারণ এটি শরীরের তাপ নির্গমনে বাধা দেয়। রোগীকে অতিসত্বর হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে