ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. জামান অ্যালেক্স

বিসিএস মেডিকেল অফিসার


সুচিকিৎসার জন্য দরকার দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান

আউটডোরে রোগী দেখছি, সাথে ডা. নাজমুল। হঠাৎ নাজমুল একটি রিপোর্ট আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে চোখেমুখে হাসি ফুটিয়ে বললো,'ভাই, এক্সরের রিপোর্টটা একটু দেখেন'....

আমি রিপোর্টটি হাতে নিয়ে প্রথমে নাম-পরিচয় দেখে দ্রুত কমেন্টে নজর দিলাম, বুকের এক্সরে (CXR)....

Heart, Lungs এ No abnormality detected, হাতের লেখা। নিচে সাইন দেখি Professor and Departmental head of Nuclear Medicine of DMCH এর। 

রোগী বেশি, তাই দ্রুত রিপোর্টটি ফেরত দিলাম।নাজমুল রিপোর্টটি হাতে নিয়ে একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'ভাই কি এইবার একটু কষ্ট কইরা এক্সরে প্লেটটা দেখবেন?'...

আমি এক্সরে প্লেটটা হাতে নিয়ে টাসকি খেলাম। রিপোর্টটা নাজমুলের কাছ থেকে আবার হাতে নিয়ে এক্সরে প্লেটের সাথে এর নাম, বয়স ও রেজিঃ নাম্বারও মিলালাম, সবই ঠিক আছে। সমস্যাটা হলো, এক্সরে প্লেটটি ছিল X ray PNS ( হেড রিজিয়নের এক্সরে)।

Head রিজিয়নের এক্সরে কিন্তু কমেন্ট Heart/Lungs সম্পর্কে!! বিষয়টা খারাপ না, অতি আধুনিক দেশে এমনটা হতেই পারে....

সমস্যাটা কিন্তু ডাক্তারের না, ডাক্তার কখনো এতবড় ভুল করবেন না, ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলো অর্ধশিক্ষিত, দায়িত্বজ্ঞানহীন টেকনিশিয়ান দিয়ে চললে এরকম ঘটনা অবশ্য স্বাভাবিক...

কেস স্টাডি-২

উপরের মহলের নির্দেশ- হাসপাতালে পাড়া দিতে হবে সকাল ৮ টায়।আমি পাড়া দেই ৭:৫৫ তে।সিগনেচার করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে হাসপাতাল লাগোয়া জুয়েলের টং দোকানে আমি সকালের এক কাপ বিস্বাদ চা খাই।

সেদিনও খেতে গেলাম, দেখি জুয়েলের বাঁ হাতে ক্যানুলা ফিট করা।আমি কথা বলা শুরু করলাম...

--ঘটনা কি জুয়েল?...

--স্যার, রাতে পেটে মারাত্ম বেদনা নিয়া হাসপাতালে ভর্তি অইছি, স্যালাইন দিছে...

--তো, দোকানে আসলা ক্যান?..

--স্যার, পেট চালাইতে অইব না! হাসপাতাল থেইক্কা আল্টাসনো করতে কইছে, কই করামু স্যার?

--পিজিতে যাওগা...

--হে হে, স্যার এইটা একটা কথা! সামাইন্য পেটে বেদনা, এরলাইগ্যা পিজি!! এইহানে কই করামু, সেইটা কন?...

--এখানে করা না করা তো সমান, এখানকার আল্ট্রাসনোগ্রামরে তো আমরা বলি উল্টাসনোগ্রাম....

কিছুক্ষণ পর দেখলাম জুয়েলের দোকানের শাটার নামানো, বুঝলাম আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে গিয়েছে....

দুপুর ১২টায় আউটডোরে রোগী দেখছি, জুয়েল তার আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে রুমে হাজির।স্থানীয় এক ক্লিনিকে করা।

আমি রিপোর্ট দেখে জুয়েলকে বললাম, "মিষ্টি খাওয়াও জুয়েল, রিপোর্ট তো ভালো।"

--হে হে, আমি তো আগেই কইছিলাম, সামাইন্য সমস্যা, আপনে তো আমারে পিজিতে পাডায় দিছেলেন আরেট্টু অইলে।তা স্যার রিপোর্টের ভালো কথাটা কি?...

--জুয়েল, রিপোর্টের ভালো কথা হইলো তুমি পোয়াতী, তোমার পেটে যে বাচ্চা তার বয়স অলরেডী ৩ মাস, বাচ্চা সুস্থ আছে, কও-আলহামদুলিল্লাহ!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 




জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর