ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ১১:১৫

এখন বেশিরভাগ ডাক্তার নিজের পিঠ বাঁচানোর চিন্তাই আগে করেন

এখন বেশিরভাগ ডাক্তার নিজের পিঠ বাঁচানোর চিন্তাই আগে করেন

সব মানুষের একটা পারসেপশন হল কমবয়সী/মধ্যবয়সী ডাক্তারদের মধ্যে যারা একটু লম্বা, স্বাস্থ্যবান, চশমা পরেন তাঁরা চিকিৎসক হিসেবে বেশি জ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ। এজন্য তাঁদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে মানুষজন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, ভরসা পান এবং তুলনামূলক বেশি নিশ্চিন্তে থাকেন। 

সেখানে আমি হলাম পুরোই উল্টো। বেশির ভাগ মানুষই দেখলে মনে করেন আমি মাত্র মেডিকেলে এডমিশন নিয়েছি। পাশ করার পর এক ভাইয়ের চেম্বারে মিষ্টি নিয়ে গেলাম, সেখানে একজন মিষ্টি দেখে বলে বসলেন আমি নাকি মেডিকেলে চান্স পেয়ে মিষ্টি নিয়ে আসছি! আরেকদিন নাইট ডিউটি করছি, একজন এসে সবিনয়ে একটি প্রশ্ন করতে চাইলেন। অনুমিত মেলার পর উনার প্রশ্নটা ছিল, ‘আপনি কী স্টুডেন্ট নাকি ডক্টর?’

আজকে শেষমেশ নার্সও এসে একই কথা বললেন, আপনাকে দেখে কেউ ডাক্তার হিসেবে মেনে নিতে চাইবে না। পাশাপাশি নার্সও সেই এক কথা বলে গেলেন, সবাই বয়স ধরে রাখতে চায় আর আপনার মাঝে সহজে বার্ধ্যক্যের ছাপ আসবে না। 

তবে বর্তমানে ডাক্তারি পেশা যেরকম রিস্কি হয়ে গেছে, তাতে এই ‘ভেরী ইয়াং’ লুক নিয়ে আসলে বিপদেই পড়া লাগবে মনে হচ্ছে। দেখা গেল সঠিক ট্রিটমেন্ট দিলেও মানুষ পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারবে না। ভাববে এত অল্প বয়সী ডাক্তার, এ আর কী ট্রিটমেন্ট দিবে! এজন্য মাঝে মাঝে মনে হয়, ক্লিনিক্যাল বাদ দিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করা উচিত। তার চেয়েও ভালো যদি প্রফেশন পরিবর্তন করা যায়। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তারিটা প্রফেশন হিসেবে খুবই রিস্কি, এর চেয়ে প্যাশন হিসেবে থাকতে পারে। কারণ সঠিক চিকিৎসা দিয়ে রোগী মারা গেলেও মানুষ বলে, ভুল চিকিৎসা বা ইনজেকসন দিয়ে রোগী মেরে ফেলছে! মানুষের মাঝে এই মিস কনসেপসন ছড়িয়ে দেয়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী কিছু সাংবাদিক। তাঁরা শুধু ডাক্তারদের ক্ষতি করে নাই, রোগীদেরও অনেক ক্ষতি করছে। সেদিন একজন রোগী মারা যাচ্ছিল, এক স্টাফ বললো সিপিআর দিতে, কিন্তু আমি ইচ্ছে করেই দেইনি। কারণ রোগী এমনিতেও মারা যাবে, উল্টো সিপিআর দিলে বলতো ‘ডাক্তার রোগীর বুকে চাপ দিয়ে মেরে ফেলছে!’

কী দরকার উপকার করতে গিয়ে বিপদ ঢেকে আনার। এজন্যই এখন বেশির ভাগ ডাক্তার নিজের পিঠ বাঁচানোর চিন্তাই আগে করেন। ওসব পরিস্থিতিতে রোগী বাঁচানোর জন্য কিছু করা মানে, নিজের বিপদ নিজেই ঢেকে আনা। কারণ বাঙালী দু লাইন বেশি বুঝে। আর ঔষধের দোকানদার, সাংবাদিক, পাশের বেডের রোগীর লোক এসব মানুষকেই চিকিৎসাশাস্ত্রের মণীষী ভাবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত