ডা. কাওসার উদ্দিন

ডা. কাওসার উদ্দিন

সহকারী সার্জন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


১৩ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩৪ পিএম

'জ্বরের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, প্যারাসিটামল যেন ঝলসানো রুটি!'

'জ্বরের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, প্যারাসিটামল যেন ঝলসানো রুটি!'

সকাল থেকে রাত, অসংখ্য জ্বরে আমি কুপোকাত! রোগীর যত যা সমস্যা, তার সাথে জ্বর থাকবেই। অল্প জ্বর, বেশি জ্বর, জ্বর জ্বর ভাব, মাথায় জ্বর, গায়ে জ্বর, পায়ে জ্বর, আরো কত যে জ্বর, জ্বরে জ্বরে জ্বরাগ্রস্ত হওয়ার দশা। একটুখানি চেষ্টা করে দেখি এত জ্বরের ভীড়ে দিশা না হারিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় কিনা।

আসলে জ্বর কেন হয়? 
এক কথায় এর কারণ হলো- ইনফেকশন, ইনফ্লামেশন, মেটাবলিক বা নিওপ্লাজম। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস নামের জীবাণু সন্ত্রাসী শরীরে ঢোকে, ইম্যুনিটি পুলিশ বাহিনী গুলি (pyrogens) করা শুরু করে, আর এই গুলিতেই জ্বর আসে। অর্থাৎ জ্বরের জন্য কিন্তু শরীর নিজেই দায়ী। শরীরের গুলি হল cytokines, এরা hypothalamus এর temperature set point পরিবর্তন করে, ফলেই জ্বর আসে।

চলুন যাই, জ্বরের সমুদ্রে হাবুডুবু খাই!

Continuous fever:
জ্বর এসে সারাদিনে আর কমে না। সকাল বিকাল রাত একই রকম থাকে। সামান্য ওঠানামা করলে তাও ১ ডিগ্রির কম!
- Pneumonia
- Typhoid
- UTI
- Infective endocarditis
- Brucellosis
- Typhus

Remittent fever:
জ্বর সারাদিন ওঠা নামা করে, ১ ডিগ্রির বেশি। তবে নেমে কখনো নর্মালে আসে না।
- Infective endocarditis
- Brucellosis

Intermittent fever:
জ্বর সারাদিন ওঠা নামা করে। নামতে নামতে নর্মালেও আসে।
- Pyogenic infection
- Tuberculosis

Double Quotidian fever:
ওই যে উপরে intermittent fever পড়লাম, সেখানে ওঠানামা যদি এমন হয়, যেমন- জ্বর সকালে আসে দুপুরে নাই, আবার রাতে আসে অর্থাৎ দুই (double) বার আসে।
- Tuberculosis

Inverse fever:
ওই যে উপরে Double Quotidian fever পড়লাম, সেখানে দুইবেলার পরিবর্তে যদি একবেলা জ্বর আসে এবং সেটা সকালে তবে তাকে বলে Inverse fever.
- Miliary Tuberculosis

Relapsing fever:
অনেকটা intermittent fever এর মত। তবে এই জ্বর সারাদিনে উঠানামা করে না, উঠানামা করে ১/২/৩ দিন পরপর।
- Borrelia
- Malaria

Malaria তে আবার ৪ টা Plasmodium আছে৷ সেগুলোতে জ্বর আসে এভাবে-
P. vivax ও P. ovale - ২ দিন পরপর (Tertian fever)
P. malariae - ৩ দিন পরপর (Quartan fever)
P. falciparam - একটু অন্যরকম। কখনো ১২, কখনো ২৪, কখনো ৩৬, কখনো বা ৪৮ ঘন্টা পরপর জ্বর আসে! টাইম টেবিল বোঝা কঠিন, তাই এটা বিপজ্জনকও বটে!

Pel Ebstein fever:
জ্বর ৩ দিন ধরে আস্তে আস্তে বাড়বে। এরপর ৩ দিন একই রকম থাকবে। এরপর ৩ দিন ধরে আস্তে আস্তে কমবে। ৩+৩+৩= মোট ৯ দিন ধরে জ্বর থাকবে, তারপর ৯ দিন আর জ্বর নাই।
- Hodgkin's lymphoma

Step ladder fever:
জ্বর ladder বা মইয়ের মত step by step উপরের দিকে উঠতে থাকে। অর্থাৎ আজকের থেকে কাল বেশি, কাল থেকে পরশু বেশি, এভাবে চলতে থাকে।
- Typhoid

Saddleback/Biphasic fever:
জ্বর কয়েকদিন থেকে একদম কমে যায়। ২/৩ দিন পর আবার ব্যাক করে, তাই এটা saddleback!
- Dengue

Breakbone fever:
জ্বরের সাথে গায়ে প্রচন্ড ব্যথা। গায়ে বলতে- মাথায় ব্যথা, চোখে ব্যথা, মাংসে ব্যথা, হাড্ডিতে ব্যথা, গিরায় গিরায় ব্যথা।
- Dengue
- Chikungunya

Low/Intermediate/High grade fever:
100 -101° F : Low grade
- Tuberculosis
- UTI
- HIV
- Neoplasm

102°F: Intermediate

103 -104°F: High grade
- Pyogenic Bacterial infection
- Viral infection

105° or more: Hyperpyrexia
- Malaria
- Septicaemia
- Heat Stroke
- Encephalitis
- Pontine hemorrhage

অজ্ঞাতনামা জ্বর (PUO/FUO)
PUO লিখে রোগী ভর্তি দিয়েছি। স্যাকমো রেজিস্টারে লিখছে PUD, আবার জিগায় স্যার গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট কই! সে যাই হোক, কোন টাইপের জ্বরকে আমরা pyrexia of unknown origin বলি।

রোগীর ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বর, এই জ্বরের জন্য সে আগেও দুবার ডাক্তার দেখিয়েছে, এমনকি হয়তো হাসপাতালেও ৩ দিন ভর্তি ছিল। সে সময় তার কিছু রুটিন টেস্টও করা হয় কিন্তু জ্বরের নির্দিষ্ট কোন কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে চেষ্টা করে যান, কারণ তো অবশ্যই আছে, আপনিই পারবেন এ রহস্য সমাধান করতে। সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ হলো-
- HIV AIDS
- Tuberculosis
- Periodic fever syndrome (Familial mediterranean fever)
- Concealed abscesses (empyema)
- Any neoplasm: specially blood borne - Lymphoma, Leukaemia
- Endocrine disease: specially Thyrotoxicosis, Addison's.
- Connective tissue disease: RF, SLE, Still's disease.
আছে আরো...

Neutropenic fever:
কোন ইনফেকশন থেকে জ্বর হলে শুরুর দিকে শরীরে পুলিশ বাহিনীর (Neutrophil) সংখ্যা বাড়ে। তাই প্রথম প্রথম আমরা Neutrophilia পাই। শত্রুবাহিনী Bacteria হলে Neutrophilia বেশি হয়। কিন্তু শরীরে প্রবেশ করা শত্রু বাহিনী যদি পুলিশ বাহিনী অপেক্ষা শক্তিশালী হয় তবে উল্টো তারাই পুলিশকে (neutrophil) মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবে, হবে neutropenia. একে বলে neutropenic fever.

Factitious fever:
পড়া হয়নি, স্কুলে গেলে পিঠে আজ দু চার ঘা পড়বেই। তাই দু কোয়া রসুন দু বগলে রেখে জ্বর আনার চেষ্টা। সুস্থ মানুষ এসে বলবে 'অনেক জ্বর' মেপে বললেন ‘কই জ্বর?’
- উত্তরে বলবে 'একটু আগেও ছিল, এখন নাই!'

Bacterial infection জনিত জ্বরে যেমন neutrophil বাড়ে (Neutrophilia), তেমনি Viral infection এ বাড়ে Lymphocytes (Lymphocytosis).

ইনফেকশন হয়ে রক্তে ব্যাপক শত্রুসেনা টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে, মাঝেমধ্যে গুলিও (toxin release) ছুড়ছে। অন্যদিকে ইম্যুনিটি আছে বেহাল দশায়। একে বলে Septicaemia. আর এই দশার জ্বরকে বলে Septic/Hectic fever.
- Bacterial infection

জ্বর সন্ধ্যার দিকে আসে, রাতে ঘাম দিয়ে ছাড়ে৷ Fever with Night Sweat.
- Tuberculosis

জ্বরের চাপে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে! কম্বল দিয়ে চেপে ধরেও কাঁপুনি থামানো যাচ্ছে না। Fever with Chills and Rigors.
- Malaria
- Kala azar
- Cholangitis
- Septicaemia
- UTI

এই জ্বর খালি হাতে বেড়াতে আসে না, সাথে নিয়ে আসে লাল লাল মিষ্টি (র‍্যাশ)! Fever with Rashes.
- Chicken pox
- Small pox
- Measles
- Rubella
- Allergy
- Septicaemia
- Infective endocarditis
- Vasculitis

জ্বরের প্রকোপে কানে চোখে কিছু দেখছে না (photophobia), সাথে প্রচন্ড মাথা ব্যথা।
- Meningitis
- Encephalitis

জ্বরের ঘোরে ভুলভাল বকে (Delirium)!
- Meningitis
- Encephalitis
- Typhoid

'যেখানেই দেখিবে জ্বর, ভালভাবে জিজ্ঞেস কর, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রোগ!'

জ্বর নিজে তো কোন রোগ না, এটি অন্য রোগের সিম্পটম মাত্র। জ্বরের এই প্যাটার্নগুলো জানা থাকলে অন্য ফিচারগুলো মিলিয়ে ডায়াগনসিস সহজ হয়। জ্বর নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমারই একটু জ্বরজ্বর ভাব হচ্ছে, এটা মনে হয় 'রাতজাগা জ্বর'।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে