১৩ অগাস্ট, ২০১৮ ১১:৫৪ এএম

৬০ মিনিট: ঢামেকের জরুরি বিভাগের চিত্র

৬০ মিনিট: ঢামেকের জরুরি বিভাগের চিত্র

দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে গড়ে ১৫০০ থেকে ১৮০০ নতুন রোগী আসেন। এর মধ্যে ইমারজেন্সি বা জরুরি বিভাগের চাপই সবচেয়ে বেশি। সেবা নিতে আসা বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সাধারণ মানুষ নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন।  রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ চতুর্থ শ্রেণির বেশকিছু অসাধু কর্মচারীর দৌরাত্ম। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ এক প্রকার অসহায়।  গত বুধবার (৮ আগস্ট) বিকালে সরেজমিন ঘুরে এসে লিখেছেন মামুন ওবায়দুল্লাহ 

বিকাল ৬:০১-৬:১৫ 
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে একটি অ্যা্ম্বুলেন্স এসে দাঁড়ালো। ভেতরে ৩৫ বছরের এক যুবকের রক্তাক্ত নিথর দেহ। গাড়িকে ঘিরে কমলা কালারের অ্যাপ্রোন পরিহিত চার পাঁচজন যুবকের তড়িঘড়ি। রক্তাক্ত দেহটিকে ভেতরে নেবেন তা নিয়ে চলছে বাগবিতণ্ডা।  

সন্ধ্যা ৬:১৬-৬:৩০ মিনিট
এবার রক্তাক্ত দেহটি ট্রলির ওপর উঠালেন ট্রলিম্যান। রেসকিউ রুমে নিয়েই দায়িত্ব শেষ।  কমলা অ্যাপ্রোন পরিহিত এক যুবক রোগীর স্বজনকে বলেছেন,ভাই টাকা দেবেন না? 

১০০ টাকার একটি নোট বের করে দিতে চাইলে ট্রলিম্যান (কমলা কালারের অ্যাপ্রোন)বলছে, আরে ভাই আপনি তো সালামি দিলেন, ট্রলির ভাড়া দেবেন না? দ্বিতীয় পর্বের ভোগান্তি এখানে শুরু। ১০০ টাকার বেশি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রোগীর ওই স্বজনের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে ট্রলিম্যান। বলছে, বেটা ২০ হাজার টাকা দিয়ে এখানে আইছি কি মাগনা কামলা দেয়ার জন্য? 

কমলা কালারের ড্রেস পরিহিত লোকজন  মূলত হাসপাতালে ট্রলিম্যান হিসেবে কাজ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা এখানকার স্টাফ নন। কর্তৃপক্ষও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। কিন্তু জনবল সংকটের কারণেই তাদের দিয়েই কাজ করাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

সন্ধ্যা ৬:৩১-৬:৪৫ 
জরুরি বিভাগের সামনের খালি জায়গা হঠাৎ এক কিশোরীর আর্তনাদ।  বুকফাটা আহাজারি।  সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়, তার মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে কাঁদছে কিশোরীটি।  কিশোরীর মাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে।  হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা জানান তার মা পথেই মারা গেছেন। 

পাশে দুই চার জন তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছে।  কেউ তাকে সান্ত্বনা আবার কেউ মেয়েটির মাথায় পানি দিচ্ছে।  চলছে শোকের মাতম।  আবার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেউ কেউ, তাকাচ্ছেও না একবার।  মনে হলো নিষ্ঠুর পৃথিবীর এটা মনে হয় নিষ্ঠুর খেলার দৃশ্যপট।
সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কে কার দিকে তাকাবে!

জরুরি বিভাগের সামনের জায়গাটুকু শুধু হাউমাউ চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ। কেউ স্বজনের জন্য অপেক্ষা করছে।  কারো রোগী আসবে।  রোগ আর রোগী নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলছে মানব সার্কাস।  সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত।  প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে যেন হতাশা, চিন্তাগ্রস্থ মনে হচ্ছে। কেমন জানি একটা অস্থির জায়গা। 

সন্ধ্যা ৬:৪৬-৭:০০ মিনিট
জরুরি বিভাগের সামনে লুঙ্গি পরিহিত মধ্যবয়সী একজন ব্যক্তি এক বয়স্ক নারীর সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করছেন। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে ওই নারীর সাথে তিনি ঝগড়া করছেন। 

মহিলা বলছে, আমাদের সাথে সে রাস্তা থেকে অন্য রোগী মেডিকেলে নিয়ে আসছে, অথচ আমরা গাড়িটি রিজার্ভ করেছি। এখন তার সাথে আমাদের যে চুক্তি ছিল তা তাকে পরিশোধ করেছি। কিন্তু উনি আরো বেশি ভাড়া দাবি করছেন। 

ওই মহিলার সাথে ওই ব্যক্তির চিৎকার চলছে। পরে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ তাকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলেন। এবার বিদায় নেয়ার সময় হলো। পরে ওই নারীর সাথে চালকের বাগবিতণ্ডা কতদূর গড়িয়েছে তা জানা যায়নি। কারণ, আমরা সেদিনের মতো ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ ত্যাগ করি।
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি