ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. আব্দুর রব

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)। 

এফসিপিএস-২ ট্রেইনি (সার্জারি)।

 সাবেক শিক্ষার্থী, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। 


চাচার চিকিৎসায় কমিশন চায় ভাইপো!

লোকটা নিজে পল্লী চিকিৎসক। আপন চাচাকে নিয়ে এসেছেন। চাচাই নাকি মানুষ করেছে। ছোটবেলায় বাবা ছিল না।

চাচা খুবই গরিব মানুষ। এক হাতের অর্ধেক প্রায় পঁচে গেছে। টেন্ডনগুলো সরু পাটের সুতার মত অবহেলায় পড়ে আছে। সেই নাকি চিকিৎসা করে এই দুরাবস্থা করেছে। বললাম অপারেশনটা ফ্রি করে দেব। কত মানুষেরই তো ফ্রি অপারেশন করি। গরিব মানুষ, উপকার হোক তার। 

ক্লিনিকে রোগী চলে গেল। আমার আরো অপারেশন আছে। সেগুলো করতে লাগলাম। 
- অজ্ঞানের ডাক্তার ভাইকে বললাম, আমি ফ্রি অব কষ্টে করতেছি, আপনাকে কিন্তু কম নিতে হবে। 
- রাজি হল। 
- ক্লিনিক যে দাদার, তিনিও বললেন গরিব মানুষ যা দিতে পারবে দিক। 

একটা ওটি শেষ করে খোঁজ নিতে গেলাম। চাচা চলে গেছে। অপারেশন করবে না। 
- ক্লিনিকের দাদার কাছে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কী? এত খারাপ রোগী, অপারেশন না করে চলে গেল কেন? মারা যাবে তো!
- দাদা বললেন, চাচার সেই ভাইপো কমিশনের টাকা চেয়েছে আমার কাছে। রোগী নাকি বড় লোক। একবার স্বামী-স্ত্রী হজ করে এসেছে। আবার ওমরাহ করতে যাবেন। ভাইপোকে কমিশন দিতে রাজি হইনি। তাই চলে গেছে। এই ভাইপোকেই সে মানুষ করেছে।

পুরো হতভম্ব হয়ে গেলাম। খুবই অদ্ভুত। জীবনে এগুলোও দেখতে হবে ভাবিনি। মানুষ এতটা অমানুষ হয় সেটাও ধারনায় ছিল না। প্রায় ১০ হাজার টাকা মাফ করে দিয়ে নিজে চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে একি পেলাম পরিণামে? নিজের চাচাকেও ক্ষমা করতে পারে না, এ জাতির কী হবে? 

মনটা যেভাবে নষ্ট হয়েছে, আগামীকাল কোন গরিব মানুষ খারাপ অবস্থায় আসলে আমি ভরসা করব কিভাবে? সে দুই বার হজ করা গরিব মানুষ কিনা, আমাকে কেউ ঠকাচ্ছে কিনা? আমার নামে কেউ মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে কিনা? আসলে একসময় মানুষের জন্য ভাল কিছু করার মনটাই থাকে না। দোষ এই অমানুষগুলোর। 

কিছুদিন আগে আরেক চাচার মেজর একটা ওটি করে দিলাম ফ্রি। চাচা নাকি খুবই গরিব। ঠিক মত খাইতে পারে না। মনটা নরম হয়ে গেল আমার। পরে শুনি চাচা কোটিপতি। অপারেশনের নাম করে চাচার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা খসিয়ে আমাকে গরিব বলে চালিয়ে দিয়েছে। অপারেশনের পরে গাড়ি ভরে সব ভিআইপি লোকজন দেখতে আসে। পুরো অবাক হয়ে গেলাম। আমার মনে হয় পুরো দেশেরই এই বাজে অবস্থা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমি পড়ি ঠিকই কিন্তু আইটেমের সময় সব ভুলে যাই

আমি পড়ি ঠিকই কিন্তু আইটেমের সময় সব ভুলে যাই

স্যার, আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস করেছি।…

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভয়াবহতা!

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভয়াবহতা!

সার্জারিতে ইন্টার্নশিপ প্রায় শেষ দিকে। এক ব্যাচমেট রিকুয়েস্ট করলো মেডিসিনে তার একটি নন-এডমিশন…

‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

১৯৮৫ সনে যখন আমরা এমবিবিএস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি…

বাংলাদেশি ডাক্তারদের সেবার কথা এখনো ভুলেনি ইরানিরা! 

বাংলাদেশি ডাক্তারদের সেবার কথা এখনো ভুলেনি ইরানিরা! 

ইরানের ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জিহাদে সালামাত’ নামক একটি সংস্থার উদ্যোগে ইরানের পাহাড়ি…

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

মা তার মেঘে ঢাকা তারা

শুভ্র মেডিকেলে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে তখন। হঠাৎ এক সকালে বাবা তাকে ফোন…

একটা ভুত আমার সামনে দিয়ে কবরখানায় ঢুকে পড়লো!

একটা ভুত আমার সামনে দিয়ে কবরখানায় ঢুকে পড়লো!

খুব সম্ভব ১৯৮২ সনের কথা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে থার্ড ইয়ারে পড়ি। এল…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর