ঢাকা      সোমবার ১৯, নভেম্বর ২০১৮ - ৪, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. আব্দুর রব

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)। 

এফসিপিএস-২ ট্রেইনি (সার্জারি)।

 সাবেক শিক্ষার্থী, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। 


চাচার চিকিৎসায় কমিশন চায় ভাইপো!

লোকটা নিজে পল্লী চিকিৎসক। আপন চাচাকে নিয়ে এসেছেন। চাচাই নাকি মানুষ করেছে। ছোটবেলায় বাবা ছিল না।

চাচা খুবই গরিব মানুষ। এক হাতের অর্ধেক প্রায় পঁচে গেছে। টেন্ডনগুলো সরু পাটের সুতার মত অবহেলায় পড়ে আছে। সেই নাকি চিকিৎসা করে এই দুরাবস্থা করেছে। বললাম অপারেশনটা ফ্রি করে দেব। কত মানুষেরই তো ফ্রি অপারেশন করি। গরিব মানুষ, উপকার হোক তার। 

ক্লিনিকে রোগী চলে গেল। আমার আরো অপারেশন আছে। সেগুলো করতে লাগলাম। 
- অজ্ঞানের ডাক্তার ভাইকে বললাম, আমি ফ্রি অব কষ্টে করতেছি, আপনাকে কিন্তু কম নিতে হবে। 
- রাজি হল। 
- ক্লিনিক যে দাদার, তিনিও বললেন গরিব মানুষ যা দিতে পারবে দিক। 

একটা ওটি শেষ করে খোঁজ নিতে গেলাম। চাচা চলে গেছে। অপারেশন করবে না। 
- ক্লিনিকের দাদার কাছে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা কী? এত খারাপ রোগী, অপারেশন না করে চলে গেল কেন? মারা যাবে তো!
- দাদা বললেন, চাচার সেই ভাইপো কমিশনের টাকা চেয়েছে আমার কাছে। রোগী নাকি বড় লোক। একবার স্বামী-স্ত্রী হজ করে এসেছে। আবার ওমরাহ করতে যাবেন। ভাইপোকে কমিশন দিতে রাজি হইনি। তাই চলে গেছে। এই ভাইপোকেই সে মানুষ করেছে।

পুরো হতভম্ব হয়ে গেলাম। খুবই অদ্ভুত। জীবনে এগুলোও দেখতে হবে ভাবিনি। মানুষ এতটা অমানুষ হয় সেটাও ধারনায় ছিল না। প্রায় ১০ হাজার টাকা মাফ করে দিয়ে নিজে চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে একি পেলাম পরিণামে? নিজের চাচাকেও ক্ষমা করতে পারে না, এ জাতির কী হবে? 

মনটা যেভাবে নষ্ট হয়েছে, আগামীকাল কোন গরিব মানুষ খারাপ অবস্থায় আসলে আমি ভরসা করব কিভাবে? সে দুই বার হজ করা গরিব মানুষ কিনা, আমাকে কেউ ঠকাচ্ছে কিনা? আমার নামে কেউ মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছে কিনা? আসলে একসময় মানুষের জন্য ভাল কিছু করার মনটাই থাকে না। দোষ এই অমানুষগুলোর। 

কিছুদিন আগে আরেক চাচার মেজর একটা ওটি করে দিলাম ফ্রি। চাচা নাকি খুবই গরিব। ঠিক মত খাইতে পারে না। মনটা নরম হয়ে গেল আমার। পরে শুনি চাচা কোটিপতি। অপারেশনের নাম করে চাচার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা খসিয়ে আমাকে গরিব বলে চালিয়ে দিয়েছে। অপারেশনের পরে গাড়ি ভরে সব ভিআইপি লোকজন দেখতে আসে। পুরো অবাক হয়ে গেলাম। আমার মনে হয় পুরো দেশেরই এই বাজে অবস্থা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

‘হে ঈশ্বর এটাই শেষ কেইস, আর ডেলিভারি রোগীর দায়িত্ব নেব না!’

‘হে ঈশ্বর এটাই শেষ কেইস, আর ডেলিভারি রোগীর দায়িত্ব নেব না!’

প্রতিবছর রেসিডেন্সির রেজাল্ট দিলে আমি দেখতে চেষ্টা করি কোন ছেলে চান্স পেলো…

চাতক চাতকী

চাতক চাতকী

গাইনী আউটডোরে দেখতাম প্রায়ই রোগী আসে এবরশন করানোর জন্য। কখনও আসে কিভাবে…

মেয়ের বাবা ও ডাক্তারের গল্প

মেয়ের বাবা ও ডাক্তারের গল্প

ফ্ল্যাটের এক আঙ্কেল সরকারি এক ব্যাংকের রিটায়ার্ড উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ভদ্রলোককে আমি বেশ…

ভালোবাসার এপিঠ-ওপিঠ

ভালোবাসার এপিঠ-ওপিঠ

তরুণী শাওনের মাঝবয়সী হুমায়ুন আহমেদ এর প্রেমে পড়ার কথা শুনে অনেকেই ভ্রু…

ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন

ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন

আমি তখন মেডিকেল কলেজে ৫ম বর্ষের ছাত্র। হঠাৎ খেয়াল করলাম চান্দি খালি…

বব ভাই

বব ভাই

বব ভাইকে চিনি প্রায় আঠার বছর। যখন আমি NITOR (পঙ্গু হাসপাতাল) এ…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর