ঢাকা      বৃহস্পতিবার ২১, মার্চ ২০১৯ - ৬, চৈত্র, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী

লেকচারার, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ


গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবনে হতে পারে কিডনির সমস্যা

একটা অ্যাড ছিল বেশ কিছু দিন আগে। এক ভদ্রলোক সিঙ্গারা খেল আর পেট ফুলে শার্টের বোতাম খুলে গেল!

ব্যাপারটা কিন্তু কিছুটা বাস্তব। সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে এই পেট ফুলে যাওয়ার সম্যসাকে সাধারন মানুষ গ্যাস্ট্রিক বলে।

গ্যাস্ট্রাইটিস কিংবা গ্যাস্টিক আলসার কী? 

- সাধারণত নাভির উপরে পেটে ব্যাথা হবে। 
- খালি পেটে কিনবা ভোর রাতের দিকে ব্যাথা তীব্র হয়। 
- গলা-বুক-পেট জ্বলে, টক ঢেকুর উঠে। 
- ঝাল-তেল-মসলা জাতীয় খাবারে ঝামেলা বেশি করে। 

আমাদের দেশে যে কোন পেটে ব্যাথা মানেই গ্যাস্ট্রিক। তাই যে কোন কারনে পেটের সম্যসা হোক না কেন Seclo/Loscetil/Maxpro/Sergel/Pantonix/Esotid/PPI/Nuprazol/Probitor ইত্যাদি খাও। আমার মনে হয় পুরো পৃথিবীতে এত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ অন্য কোন দেশে খাওয়া হয় কিনা সন্দেহ আছে। 

আমি দেখেছি প্রস্রাবের ইনফেকশানের জন্য তল পেটে ব্যাথা তার জন্য আন্টি আলসারেন্ট খাচ্চে!

যাই হোক শুরু করেছিলাম পেট ফুলা নিয়ে। আমাদের দেশে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ যে কারনে অপ্রয়োজনীয় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খায় সেই সম্যসা হচ্ছে:

- একটু খাবার খেলে পেট ভরা ভরা লাগে, অস্বস্তি লাগে 
- খুদা লাগে না। এক বেলা খেলেই মনে হয় ১ সপ্তাহের খাওয়া খেয়ে ফেলেছে। 
- পেট ফুলে যায়। অনেকের তো ঢোল হয়ে যায়।
- শব্দ করে ডেকুর হয়। 
- “গ্যাস” বের হয় – মুখ দিয়ে ও পায়ুপথ দিয়ে। 
- অনেকের গ্যাস উপরের দিকে চাপ দেয়; বুক ধড়ফড় করে উঠে! এমনকি অনেকের শাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়! 
- দুধ কিনবা দুধের তৈরি খাবার (সেমাই, কাস্টার্ড, আইসক্রিম ইত্যাদি), আটা দিয়ে তৈরি খাবার (পরোটা, কেক, সিঙ্গারা, পাউরুটি ইত্যাদি) আর মশুরের ডাল খেলে সমস্যা বাড়ে।

আসলে উপরের কোন লক্ষণই আমাদের ভাষায় প্রচলিত গ্যাস্টিক না। এখানে পেটে গ্যাস তৈরি হয় বেশি। এইসব ক্ষেত্রে Omeprazole, Esomeprazole, lansoprazole, Rabeprazole কোন ভুমিকা নেই।

অতিরিক্ত এবং অপ্রয়োজনীয় গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের কুফল? 

যারা প্রয়োজন ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে জাচ্ছেন দিনের পর দিন তাদের ভবিষ্যতে আয়রন, ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম এর অভাব দেখা দিবে। এমনকি হাড্ডি খয়, অল্প আঘাতেই হাড্ডি ভেঙে জাওয়ার প্রবণতা সেই সাথে শরীরে কিছু রোগ জীবাণু প্রবেশের সক্ষমতা বেড়ে যাবে। এমনকি কিডনিতে মারাত্তক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিজের রোগ সম্পর্কে জানুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ খাওয়া পরিহার করুন।

সুস্থ থাকুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নাকডাকা রোগের চিকিৎসা

নাকডাকা রোগের চিকিৎসা

স্লিপ এপনিয়ার (নাক ডাকা রোগ) চিকিৎসা যতটা না বায়োমেডিকেল সাইন্স ভিত্তিক, তার…

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং স্ট্রোক

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং স্ট্রোক

জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি বা ওরাল কণ্ট্রাসেপটিভ পিল (ওসিপি) খুব জনপ্রিয়। আবিষ্কারের পর যুগ…

ব্যাথানাশক ওষুধ থেকে সাবধান

ব্যাথানাশক ওষুধ থেকে সাবধান

অনেকে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খান। আমাদের দেশে এই কালচার বহুল…

ডায়রিয়া থেকে আকস্মিক কিডনি বিকল

ডায়রিয়া থেকে আকস্মিক কিডনি বিকল

একিউট কিডনি ইনজুরি বা আকস্মিক কিডনি বিকল বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তারমধ্যে…

অস্টিওপোরোসিস

অস্টিওপোরোসিস

অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ পরিচিত এক অসুখ। এটি এমন একটি অসুখ…

অস্টিওনেক্রোসিস রোগের কারণ ও প্রতিকার

অস্টিওনেক্রোসিস রোগের কারণ ও প্রতিকার

অস্টিওনেক্রোসিস রোগে অস্থির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায়। অস্থিতে রক্ত চলাচলে সমস্যা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর