৩১ জুলাই, ২০১৬ ০১:১৭ পিএম

বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা

বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা

ক্যান্সার একটি ভয়াবহ রোগের নাম। ক্যান্সারের কারনে প্রতিবছর সারা বিশ্বে যে পরিমান মানুষ মারা যায় তার পরিমান যক্ষা, এইডস এবং ম্যালেরিয়া থেকেও বেশী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সালে সারাবিশ্বে ৮.২ মিলিয়ন মানুষ শুধুমাত্র ক্যান্সারের কারণে মৃত্যু বরণ করেছেন। শুধু তাই নয় সংস্থাটি ভবিষ্যতবাণী করেছে ২০৩০ সালে পৃথিবীতে ১৩ মিলিয়ন মানুষ মারা যাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। এর মধ্যে ৭০% মানুষ মারা যাবে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। ২০১০ সালে আরেকটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয় তাতে দেখা যায় বর্তমানে বিশ্বের মোট ৫৫% ক্যান্সার রোগী রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে।

এবার আসি বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ। GLOBOCAN ২০০৮ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৪১.১ হাজার মানুষ প্রতিবছর ক্যান্সার আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১০৩.৩ হাজার মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এত ক্যান্সারের রোগী থাকার পরও আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপ্রতুল। বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য প্রথম রেডিওথেরাপী মেশিন স্থাপিত হয় গাজীপুরে অবস্থিত কুমুুদিনী হাসপাতালে ১৯৫৩ সালে। দ্বিতীয় ঈড়নধষঃ -৬০ মেশিন স্থাপিত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৫৯ সালে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাংলাদেশে ক্যান্সার সেবা দানের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে ১৯৮১ সালে। বর্তমানে ১৫০ টি শয্যাসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন তিনটি ডুয়েল এনার্জী  লিনিয়ার এক্সিলেটর দুটি ঈড়নধষঃ -৬০ মেশিন, হাই ডোজরেট (ঐউজ), ব্রাকিথেরাপী নিয়ে ক্যান্সার গবেষণা ও সেবা দানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। মেডিকেল অনকোলজি, সার্জিকাল অনকোলজি এবং রেডিয়েশন অনকোলজিসহ এটি বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে এটি মাল্টিডিসিপ্লিনারী সেবা দিয়ে যাচ্ছে রোগীদের। আমাদের দেশের অধিকাংশ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞই ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট হিসেবে কাজ করেন যারা একই সাথে রেডিয়েশন ও মেডিকেল অনকোলজি সেবা দিয়ে থাকেন। এছাড়া সার্জিকাল অনকোলজিতে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। 

এই কিছু দিন আগেও বাংলাদেশের একমাত্র প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টার ছিল ইঝগগট তে যেটি ২০০৭ সালে ১৮ টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি Asia Pacific Hospice Palliative Care Network এর সাথে মিলে ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শুরু হয়েছে প্যালিয়েটিভ কেয়ার। যদিও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাদের।

কিন্তু দুঃখের বিষয় সরকারি পর্যায়ে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইন্সটিটিউটসহ মাত্র নয়টি মেডিকেল কলেজে বর্তমানে অনকোলজি বিভাগ চালু রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলো দেশের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত রোগীদের সেবা দেয়ার গুরুদায়িত্ত্ব পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব সেবা প্রদানকে দূরহ করে তুলছে। সুতরাং অধিকাংশ রোগী তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি সেবার পাশাপাশি কিছু প্রাইভেট হাসপাতালও ক্যান্সার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু করে ৩৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি ২টি লিনিয়ার এক্সিলেটর, ২টি Cobalt-৬০ এবং ২টি ব্রাকিথেরাপী এর মাধ্যমে ক্যান্সার সেবা দিয়ে আসছে। 

এছাড়াও স্কয়ার হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উন্নত ক্যান্সার সেবা দিয়ে আসছে। কিছু বে-সরকারি সংস্থা ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন আহসানিয়া মিশন, ক্যান্সার সোসাইটি, আশিক ফাউন্ডেশন, দিগন্ত মেমোরিয়াল, মোসাব্বির ক্যান্সার সেন্টার তাদের নিজ নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসা ও সচেতনতায় অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা International Atomic Energy (IAEA) বাংলাদেশের জনশক্তিকে রেডিয়েশন থেরাপীতে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

কিন্তু এতদসত্ত্বেও আমাদের সামনে বিস্তর বাধা রয়েছে-চিকিৎসার উচ্চ খরচ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, প্রশিক্ষিত জনশক্তির অভাব এবং সচেতনতার অভাব ইত্যাদি বিভিন্ন কারনে আমাদের ক্যান্সার সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতসব বাধা উত্তরণের মাধ্যমেই আমাদের দেশের ক্যান্সার সেবা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাবে এই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : আবদুল্লাহ আহমেদ তানভী
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

 

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৫, বর্ষ ২, জুন-জুলাই ২০১৫ তে প্রকাশিত)

 

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’
যৌন হয়রানির শিকার শেবাচিমের নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’

যৌন হয়রানির শিকার শেবাচিমের নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক

‘চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলাম, এর মধ্যে আবার এ হয়রানি’

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত