ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা

ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা

এমবিবিএস, এফসিপিএস (গাইনী)

ফিগো ফেলো (ইতালি)

গাইনী কনসালট্যান্ট, বগুড়া।


০৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:২১ পিএম

রোগীদের ‘অতিপ্রিয়’ দুইটা মুদ্রা দোষ!

রোগীদের ‘অতিপ্রিয়’ দুইটা মুদ্রা দোষ!

ম্যাডাম, আপনের প্যাটে কুনকুন করে ব্যাতা করিচ্চে।
- আমার পেটে? কখন থেকে?
- আপনের হাত পানি শুকাচ্চে না। খালি যাওয়া আর আসা।
- কই, আমার হাত তো শুকনাই দেখছি। না হলে তোমার প্রেস্ক্রিপশন লিখছি কী করে?
- (মুচকি হাসি) আপনের মাজাত সেই ক্যানক্যানি ব্যাদনা।
- ও! মাজাতও ব্যাদনা।
- হ, ম্যাডাম। আপনের মাজার ব্যাদনা ঠ্যাঙ দিয়্যা শিরশির কর‍্যা ন্যামে যায়।
- আমার আর কোন কোন জাগাত ব্যাদনা বাপ?
- থ্যামেন না ক্যা, কচ্চি।
- কও। শুইন্যা কান জুড়াই।
- হ। ভাল কতা মনে কইর‍্যা দিছেন ম্যাডাম। আপনের কানের ভিত্রে কটকট করে।
- আমার হাড়ের ভিত্রে মড়মড় করে না?
- হ, ম্যাডাম। সে কতা আর কওয়া লাগে! হাড়ের যন্ত্রণাত আপনের সুক নাই।
- আর আমার সুখ! যত ব্যাদনা তুমি ঢুক্যে দিলা মাথাত...
- থামেন ম্যাডাম, কব্যার মুনে নাই। মাতার ভিত্রে খাড়াতি চিলিক ম্যারে উঠে।
- নিয়ন বাত্তির চিলিক না বিজলী বাত্তির চিলিক?
- আপনের ঘাড়ের পিছন দিয়্যা ট্যানে ধরে সদ্যি সদ্যি।
- ওও। কে ট্যানে ধরে, সেডা কও না ক্যা?
- তারপর আপনের হাতের ভিত্রে...
- থাম বাপ, এবার থাম। আর বলিস না। নাল্যে হাতের ব্যাদনাত কল্যে আর প্রেসক্রিপশন লেকে দিব্যার পারমু না।

কেস-২
ম্যাডাম, মুনে করেন যে, সাতদিন থ্যাকে সেই অক্ত ভাঙা ভাংজ্ঞিচ্চে।
- আচ্ছা, মনে করলাম।
- তারপর, মুনে করেন যে, পেট্যের মদ্যে খামচি দিয়া ধরিচ্চে। বেদনাত খালি গগাচ্চি হ্যামি।
- আচ্ছা, সেটাও মনে করলাম।
- মুনে করেন যে, মাজাও ট্যানে ধরিচ্চে। বস্যাও থ্যাকপার পারি না, শুত্যাও সুক পাই না।
- আচ্ছা, মুনে করল্যাম। এটা পাটি গণিতের না বীজ গণিতের সূত্র ধইর‍্যা মনে করব?
- (ডাক্তারের বেহুদ্দা রসিকতায় কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে) আপনের মুনে করেন যে, শরীলের ভিত্রে সেই ব্যাদনার ব্যাদনা। মুনে করেন, সেই ব্যাদনা খাড়াতি হাতত উঠিচ্চে, খাড়াতি পাওত নামিচ্চে, আবার খাড়াতি মুনে করেন যে তনের ভিত্রেও কিটকিট করিচ্চে।
- একটু থামো। মনে করতে করতে মনের ভিত্রে জাগা কমে গেছে তো! খানিক জাগা আগে খালি করে লিই।

আমার রোগীদের অতিপ্রিয় দুইটা মুদ্রা দোষের কথা উল্লেখ করলাম। আপনের মুনে করেন যে সারাদিন এগল্যা কতাই শোনা লাগে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না