মাহবুব কবির মিলন

মাহবুব কবির মিলন

সদস্য (যুগ্ম সচিব) বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ


০৫ অগাস্ট, ২০১৮ ১২:০১ পিএম

আমরা খাচ্ছি কী?

আমরা খাচ্ছি কী?

অনেক বছর আগে মৎস্য অধিদপ্তর শুরু করেছিল সমন্বিত মৎস্য খামার প্রকল্প। যেখানে পুকুরের উপর করা হতো হাঁস মুরগী পালন।

হাঁস মুরগীর বিষ্টা ছিল মাছের খাবার। সরকারিভাবে ট্রেনিং দেয়া হতো। অধিদপ্তর যখন বুঝতে পারল এর ভয়বহ পরিণতি, ততদিনে সর্বনাশ হয়ে গেছে। হেভি মেটালের আধার এই হাঁস মুরগীর বিষ্টা।

এখন সরকারিভাবে তা অনুৎসাহিত করা হয় কিন্তু এখনও অনেক মৎস্য খামারে হাঁস মুরগীর বিষ্টা ব্যবহার করা হয়। পুকুরে উপরে হাঁস মুরগী পালন কমে গেলেও মুরগীর খামার থেকে লিটার (বিষ্টা) কিনে তা পুকুরে দেয়া হয়। আইন না থাকায় কাউকে শাস্তিও দেয়া যাচ্ছে না।

মুরগীতে এন্টিবায়োটিকের প্রয়োগ ভয়াবহ। আরও ভয়াবহ উইথড্রল পিরিয়ড না মেনে মুরগী বাজারজাত করা। সকালে এন্টিবায়োটিক দিয়ে বিকালে মুরগী বাজারে, রাতে তা আমাদের খাবারের টেবিলে।

গরুর ফিড মিলে স্টেরয়েড পাওয়া গেছে। তার মানে কোম্পানিগুলো ফিড বানানোর সময় স্টেরয়েড দিচ্ছে, যাতে তাদের খাবার খেয়ে গরু ছাগল মোটাতাজা হয়। শুনেছি ফিডে এন্টিবায়োটিকও দেয়া হয়।

পোলট্রি এবং মৎস্য ফিডে কী দেয়া হচ্ছে আল্লাহ মালুম! মুরগী এবং মৎস্যে আমরা হেভি মেটাল পেয়েছি। পোলট্রি এবং মৎস্য ফিডে এন্টিবায়োটিক এবং স্টেরয়েড পরীক্ষা করলে বুঝতে পারব, কী অবস্থা সেখানে?

চাষ করা মৎস্য যেভাবে ফুলে ফেঁপে উঠছে, দুই তিন কেজি চাষ করা রুই মাছের ঘাড়ের মাংস যেভাবে ফুলে থাকে, সন্দেহ হয় ফিশ ফিডে স্টেরয়েডের ব্যবহার চলছে কিনা!

ধ্বংস নামিয়ে আনছে আমাদের দেশে আমদানি করা এমবিএম (মিট এন্ড বোন মিল)। ফিডে এমবিএম ব্যবহার পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বন্ধ হয়ে গেছে। আছি শুধু আমরা। ডাম্পিং গ্রাউন্ড বা ভাগাড়।

প্রোটিন সোর্স হিসেবে এমবিএমের ভাল বিকল্প হচ্ছে ফিসের প্রোটিন সোর্স। যা দামে একটু বেশি হলে অনেক ভাল এবং রোগ বালাইয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমবিএমের মাধ্যমে ছড়াতে পারে মারাত্মক রোগ ব্যাধির জীবাণু, যার কোন প্রতিষেধক নেই। আমদানিকারকেরা জীবন পানি করে এমবিএম নিয়ে আসছেন। এমবিএমের প্রতি তাঁদের আগ্রহ দেখলে হতবাক হতে হয়।

মাঝে মাঝে গভীরভাবে চিন্তা করি, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি আমরা!

আমাদের দেশে কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতকৃত খাদ্য সামগ্রীকে একটি লাইনে আনা যাবে। যেহেতু এখানে তাঁদের গুড উইল জড়িত। এক্ষেত্রে সব কোম্পানি নিজেরাই এগিয়ে আসছে তাঁদের ভুলত্রুটি দূর করার জন্য। একটি অত্যন্ত ভাল লক্ষণ বলা চলে। কিন্তু দেশে লাখ লাখ পোলট্রি আর মৎস্য খামারের অব্যবস্থাপনা দূর করা যাবে কিভাবে?

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না