ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১২ ঘন্টা আগে


০৩ অগাস্ট, ২০১৮ ১২:৪৩

সব আন্দোলনকেই সরকার পতনের আন্দোলন বানিয়ে ফেলি কেন?

সব আন্দোলনকেই সরকার পতনের আন্দোলন বানিয়ে ফেলি কেন?

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনটি যৌক্তিক আন্দোলন, আমরা সবাই এই আন্দোলনকে সমর্থন করি। সরকার প্রধান আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়েছেন, সড়ক নিরাপত্তা আইন সংসদের আগামী অধিবেশনেই পাস হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন, সারাদেশে সব স্কুল, কলেজের সামনে স্পিডব্রেকার হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, রমিজ উদ্দিন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫ টি বাস দিবেন বলেছেন, এয়ার পোর্ট রোডে আন্ডারপাস হবে বলেছেন। প্রায় সবগুলো কাজ এবং আশ্বাসবাণীর জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

এখন উপরের কোন কথাটি বা কাজটি খারাপ হয়েছে যে এই কাজ এবং আশ্বাসবাণীতেও আপনারা বিরক্ত? প্রধানমন্ত্রীর উপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন কেন? আপনারা কী চেয়েছিলেন? কোমলমতি শিশুদের এই আন্দোলন চলুক, ততোদিন পর্যন্ত চলুক যতোদিন পর্যন্ত না এই সরকারের পতন ঘটছে?

নিরাপদ সড়ক কী শুধু আইন করে নিরাপদ করা সম্ভব? আমাদের দেশে গণ পরিবহনের তীব্র সংকট আছে কেননা গণ পরিবহনের তুলনায় যাত্রী অনেক বেশি আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বাস মালিকেরা ফিটনেস নেই গাড়ী ও রাস্তায় নামানোর সাহস পায়, আর এত বাস চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত ড্রাইভার কোথায় পাবে? তখন অদক্ষ ড্রাইভারের হাতে, হেলপারের হাতে তুলে দেয় বাসের চাবি। আর সেই ফিটনেস বিহীন গাড়ী আর অদক্ষ ড্রাইভার আর হেলপারের কারণেই বেড়ে গেছ দুর্ঘটনা। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কখন নিজের বাসের যাত্রী করবে সেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে আর তাই ওভারটেক আর গতির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। এইখানে তাদের নিয়ন্ত্রিত করার জন্য আইন এবং আইনের প্রয়োগ দরকার।

আমরা নিরাপদ সড়কের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারি বেশি বেশি ফিট গণ পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে, সরকারীভাবে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, রাস্তার লেইন নির্ধারণ করে দিতে হবে, বাসের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ীর জন্য, ট্রাকের জন্য, উল্টো পথে গাড়ী আসলেই গাড়ীর ড্রাইভারকে হাজতে পুরা হবে।

পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য ওভারপাস, আন্ডারপাস নির্মাণ করতে হবে, সব স্কুল, কলেজের সামনে যাত্রী ছাউনি চাই, বাস স্টপেজ চাই, স্পিড ব্রেকার দিতে হবে বলতে পারি।

বি আর টি এ কে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে, ঘুষমুক্ত করতে হবে,  ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ নিয়েছে প্রমাণিত হলে তাদের বরখাস্ত করতে হবে, রাস্তায় চাঁদাবাজি করা হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক এইসব দাবী জানাতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী কেন নিহত ছাত্রছাত্রীর পরিবারকে টাকা দিলেন? টাকা দিয়ে কী আর জীবন ফিরে পাওয়া যাবে? রাস্তায় এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি বা তার সরকার কি দায়ী? দায়টা সিস্টেমের, সিস্টেম নষ্ট গত ৪৭ বছর ধরেই, সরকারের দায় হল সরকার এই সিস্টেম পরিবর্তনের জন্য জোরালো কোন পদক্ষেপ নেন নাই।

দোষ হল শাহজাহান খানের, যিনি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে দিয়েছেন, সহমর্মিতা দেখানোর বদলে দাত কেলিয়ে হেসে তিনি শুধু নিজেকেই বিতর্কিত করেন নাই একই সাথে সরকারকেও বিপদে ফেলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আবারো ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, তিনি নিহতদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্যই টাকাটা দিয়েছেন।

আমরা নিজেরাই জানি না আমরা কী চাই? আমাদের দাবী কী? আমাদের কোথায় থামতে হবে আমরা জানি না, তাই যৌক্তিক আন্দোলনগুলো ও একসময় দিকভ্রান্ত হয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে রুপ নেয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত