ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

ডা. আহমাদ হাবিবুর রহিম

লেখক, কলামিস্ট

বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ।


৩১ জুলাই, ২০১৬ ০২:৩২ পিএম

৩৭ তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতিঃ কিছু পরামর্শ

৩৭ তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতিঃ কিছু পরামর্শ

আসছে ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারী পরীক্ষা। তাই রইলো মেডিভয়েসের পাঠকদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে কিছু পরামর্শ।

মূলত এই লেখাটি যারা স্বাস্থ্য ক্যাডারে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন তাদের জন্য। আমাদেরকে খুব কম সময়েই অনেক কিছুর প্রস্তুতি নিতে হয়। তাই লক্ষ্য থাকে সবচেয়ে বেশী উত্তর দিতে পারার চেয়ে কম সময়ে কিভাবে কুশলী প্রস্তুতি নেয়া যায় সেটা।

প্রথমেই এক নজরে পরীক্ষার নম্বর বন্টনঃ [ মোট ২০০ নম্বর, সময় ২ঘণ্টা ]

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-৩৫, ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য-৩৫, বাংলাদেশ বিষয়াবলী- ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী- ২০, ভুগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা- ১০, সাধারণ বিজ্ঞান-১৫, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ১৫, গাণিতিক যুক্তি- ১৫, মানসিক দক্ষতা- ১৫, নৈতিকতা মুল্যবোধ ও সুশাসন- ১০

যে সব বই থেকে প্রস্তুতি নেয়া যেতে পারে:

বাজারে  প্রফেসরস, এসিওরেন্স, এমপিথ্রি, ওরাকল প্রভৃতি সিরিজের বই রয়েছে। এখান থেকে যে কোনটি পড়া যেতে পারে। যে কোন একটা সিরিজের সবগুলো বই কিনে অথবা বিষয়ভিত্তিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশনীর বইও সংগ্রহ করা যেতে পারে।

ডাইজেস্ট (সবগুলো বিষয়ের বাছাইকৃত তথ্যসমৃদ্ধ একটি বই) পড়ে অল্প সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চান অনেকে। এটা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বেসিক যদি আগে থেকেই খুব ভালো না থাকে তাহলে শুধু ডাইজেস্ট পড়ে আপনি সুবিধা করতে পারবেন না। কারণ এখানে তথ্যগুলো শুধু বোঝাই করা থাকে খুব একটা গোছানো থাকে না। যারা প্রথমবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য পরামর্শ রইলো কষ্ট করে একটু সময় বের করে বড় বইগুলো থেকেই বিশদ প্রস্তুতি নিয়ে নিন। বিসিএস এমন একটা পরীক্ষা যেটি একাধিক বার দেয়া লাগতেই পারে। তাই একবার ভালো করে প্রস্তুতি নিলে পরেরবারের প্রস্তুতি নেয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। 

বিষয়ভিত্তিক যে বইগুলো কিনবেন সেগুলোই হবে আপনার মূল বই। আর সাথে অন্য বই বা উপকরণ থেকেও আপনি পড়া বুঝতে ও মনে রাখতে সাহায্য নিতে পারেন। কিন্তু কোথা থেকে কি পড়লেন বা বুঝে নিলেন তা অবশ্যই টুকে রাখবেন মূল বইটিতে। তা নাহলে পরবর্তীতে আপনি ব্যাপারটা বেমালুম ভুলে যাবেন। তখন রিভিশন দেয়ার সুযোগটুকু মিস করবেন।

বাংলার প্রস্তুতি নিতে সিরিজের বইয়ের বাইরেও আরো কিছু বইয়ের সাহায্য নিতে হবে আপনাকে। যেমন, ব্যাকরণের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে ড. সৌমিত্র শেখরের লেখা 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা' বইটির সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এছাড়া নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটিতো আছেই।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এর সেই প্রাচীন যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা নিতে পড়তে পারেন ড. হুমায়ুন আজাদের 'লালনীল দীপাবলী বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী।' খুব সংক্ষিপ্ত আর প্রাঞ্জলভাবে সাহিত্যের বিবর্তনকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। তবে এখানে তথ্যের পরিমাণ তুলনামুলক কম। আর যদি আরও বিস্তারিত ভাবে বাংলা সাহিত্য নিয়ে জানতে চান, পড়তে পারেন ড. মাহবুবুল আলমের লেখা 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস'। 

বাংলা ও ইংরেজী সাহিত্য উভয়ের ক্ষেত্রেই কোন লেখক কি বই লিখেছেন কিংবা কোনটি কোন ভাষার শব্দ এগুলো সুন্দর করে নোট করে পড়লে বেশ উপকার হবে এবং এমনভাবে গুছিয়ে নিতে পারেন চাইলে যেন পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষার সময়ও এই নোটটাই অনুসরণ করতে পারেন আপনি। নানা বিতিকিচ্ছিরি নাম বা শব্দগুলো মনে রাখতে বিভিন্ন কবিতা বা ছন্দের সাহায্য নিতে পারেন। 

ইংরেজীর প্রস্তুতির জন্য প্রফেসর’স সিরিজ এর বইটা ভালো। তাছাড়াও বাড়তি অনুশীলনের জন্য 'English for Competetive Exams.-Md. Fazlul Haque' বইটি দারুণ সহায়ক।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো প্রিলিমিনারীর প্রস্তুতি নেয়ার সময়েই সিলেবাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর বিস্তারিত জেনে নিতে বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার জন্য বের হওয়া বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের বইগুলো থেকে সাহায্য নিন। বিস্তারিত জানা থাকার কারণে দেখবেন অনেক ব্যাপারই আপনাকে কষ্ট করে মুখস্ত করতে হচ্ছে না। 

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করুন নিয়মিত। যদিও স্বাস্থ্য ক্যাডারের অধিকাংশ প্রার্থীই ব্যস্ততার জন্য কাজটি করতে পারবেন না বলেই মনে হয়। আপনি যদি করতে পারেন তাহলে আপনি এক কদম এগিয়ে গেলেন! অন্তত এই কয়েকমাস কারেন্ট এফেয়ার্স, নিউজ বা কিছু একটা নিয়মিত পড়ুন। লাভটা টের পাবেন অবশ্যই।

বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে সম্যক একটা ধারণা নিতে হবে আপনাকে। প্রয়োজনে এক সপ্তাহ শুধু সংবিধান নিয়ে পরে থাকুন। এতে কি কি ভাগ আছে, অনুচ্ছেদসমূহ, কোনটা কী সম্পর্কিত, ব্যাখ্যা কি, সংশোধনী, তফসিলগুলো কি কি ইত্যাদি যা আছে সব জেনে নিন। গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলোর ধারাক্রমগুলো মুখস্ত করে ফেলুন। বিসিএস এর জন্য সংবিধান খুবই গুরুত্বপুর্ণ। দেখবেন পরীক্ষার অনেক জায়গায় আপনি সংবিধানের এই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারছেন!

ভৌগোলিক ব্যাপারগুলো জানতে বাংলাদেশের ও বিশ্বের দুটো ম্যাপেই দখল রাখলে ভালো হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো যেমন, মহাদেশ, মহাসাগরগুলো কোথায় আছে, কী কী দেশ আছে, বিভিন্ন অঞ্চলগুলো কিভাবে ভাগ করা হচ্ছে, বিভিন্ন সীমান্ত আর প্রণালী গুলো কোথায় আছে, কাদের মাঝে আছে; এগুলো বুঝতে পারলে প্রস্তুতি নেয়াটা দারুণ মজার ব্যাপার হবে।

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি হচ্ছে 'গোল্ড মাইন'। যিনি এগুলোতে ভালো করবেন তিনি বেশ এগিয়ে যাবেন। প্রথম থেকেই প্রতিদিন অন্ততঃ একটি করে অধ্যায় থেকে প্রস্তুতি নিন। অংক করার সময় মূল নিয়ম আর শর্টকাট দু ভাবেই করে রাখুন। তাহলে লিখিত পরীক্ষার সময়েও আপনি বেশ এগিয়ে থাকবেন। শর্টকাট নিয়মে অংক করতে বাজারে বেশ ভালো কিছু বই পাওয়া যায়। আর মানসিক দক্ষতা বিষয়টাতে  সামান্য একটু শ্রম দিলেই দারুণ ফল পাওয়া সম্ভব। 

সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন এর প্রস্তুতির জন্য সিরিজের নির্ধারিত বইগুলোই যথেষ্ট। আর নৈতিকতা, মুল্যবোধ ও সুশাসনের কিছু প্রশ্নোত্তর কমন সেন্স থেকেই উত্তর করার সুযোগ থাকে। তাই অনুশীলন করলে নিজেকে ভাল করে প্রস্তুত রাখতে পারবেন।

কেউ যদি কোচিং এ ভর্তি হতে চান বাঁধা নেই। এটি আপনাকে ভালোই সাহায্য করবে। তবে চিকিৎসদের জন্য কোচিং করা একটু কঠিন। তবে কোচিং না করলেই যে চান্স পাওয়া যাবে না এমনটি ভাবার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। প্রতি বিসিএস এ শত শত চিকিৎসক কোন কোচিং না করেই স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ পাচ্ছেন।

পরিশেষে এটুকুই বলবো বর্তমানে বেসরকারী স্বাস্থ্যখাতের বেশ উন্নয়ন হলেও চাকরির বাজারে সরকারী চাকরির অবস্থান এখনো বেশ ওপরে। উচ্চ শিক্ষা, পদন্নোতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও সুযোগ সুবিধার, চাকরির নিশ্চয়তায় বিসিএসকে এখনই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাই এই সোনার হরিণ পেতে কিছুটা কষ্ট করা যেতেই পারে।
 

আগের নিউজ
পরের নিউজ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত