ঢাকা      বুধবার ২৪, জুলাই ২০১৯ - ৯, শ্রাবণ, ১৪২৬ - হিজরী

Gray's Anatomy

Gray's Anatomy মানবদেহের অঙ্গসংস্থান বিদ্যার উপর লেখা একটি অনন্য সাধারণ বই। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৮ সালে। ঐতিহাসিক এই বইটি লেখেন চিকিৎসা বিজ্ঞানী হেনরী গ্রে এবং ছবিগুলো এঁকেছিলেন হেনরী কার্টার।  অঙ্গসংস্থানবিদ্যার উপর লেখা সর্বজন স্বীকৃত সর্বকালের সেরা বই হিসেবে সারাবিশ্বের সবকটি মেডিকেল কলেজে পঠিত হয়ে আসছে। নিয়মিত সংস্করণ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বইটির ৪১তম সংস্করণ চলছে।  ২০০৮ সালে এ বইটির ১৫০ বছর পূর্তি হয়। 

ইংরেজ অঙ্গসংস্থানবিদ হেনরী গ্রে ১৮২৭ সালে এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত মেধাবী গ্রে মাত্র ২১ বছর বয়সে সেন্ট জর্জ হাসপাতাল মেডিকেল স্কুল থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৮৫৩ সালে তিনি এ প্রতিষ্ঠানেই অঙ্গসংস্থানবিদ্যার প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।  ১৮৫৫ সালে তার সহকর্মী হেনরী কার্টারের সাথে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজবোধ্য পাঠ্যবই প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা করেন। 

তারা একত্রে কাজ শুরু করেন ১৮৫৭ সালে। টানা ২০ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা অসংখ্য শবদেহ ব্যবচ্ছেদ করেন। অবশেষে ১৮৫৮ সালে তাদের কঠিন পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এই বইটি প্রকাশিত হয়। তখন বইটির নাম ছিল Anatomy: Descriptive & Surgical। বইটি লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। প্রকাশক ছিলেন উইলিয়াম কার্টার। প্রথম প্রকাশিত বইটিতে ছিল ৭৫০ পৃষ্ঠা ও ৩৬৩টি ছবি যার সবগুলোই হেনরী কার্টারের আঁকা। আমেরিকায় বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে। আমেরিকায় বইটি সম্পাদনা করেন রিচার্ড জেমস ডাংলিসন। 

হেনরী গ্রে ও হেনরী কার্টারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রম অঙ্গসংস্থান বিদ্যায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং বইটির মাধ্যমেই অঙ্গসংস্থান বিদ্যা একটি সুন্দর গাঠনিক রূপ পায়। ফলে বইটি খুব দ্রুতই জিতে নেয় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হৃদয়, নিজ গুণেই জায়গা করে নেয় মেডিকেল জীবনালেখ্যে।  তাই বিভিন্ন গল্প, সাহিত্য, নাটকেও স্বগৌরবে স্থান করে নিয়েছে Gray's Anatomy।

লেখক : নাহিয়ান মুনতাসির, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৬, বর্ষ ২, ডিসেম্বর-জানুয়ারী ২০১৬ তে প্রকাশিত)

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর