৩১ জুলাই, ২০১৬ ১২:৫৪ পিএম

থার্মোমিটার

থার্মোমিটার

থার্মোমিটার চেনেন না এমন কাউকে সম্ভবত পাওয়া যাবে না। সহজলভ্য ও বেশ সাধারণ গড়নের এই যন্ত্রটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেশ দর্পের সাথেই নিজের অপরিহার্যতা ধরে রেখেছে। থার্মোমিটার আবিষ্কারের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। সতেরোতম শতাব্দীর একেবারে প্রথমদিকে থার্মোমিটার আবিষ্কার হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো এই যন্ত্রটি একই সাথে অনেক বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন এবং যদিও এর কাজ ছিলো তাপমাত্রা পরিমাপ করা কিন্তু প্রতিটি যন্ত্রের গঠন ও এককে যথেষ্টই পার্থক্য ছিলো। এদের মধ্যে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি, কর্নেলিস ড্রেবেল, রবার্ট ফ্লাড ও সান্তোরিও এর নাম উল্ল্যেখযোগ্য।

১৬১৭ সালে জোসেফ বানচানি প্রথম যে থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন সেখানে একটি পানিতে ডোবানো খাড়া একটি নলে প্রসারণশীল পদার্থ হিসেবে বায়ু ব্যবহৃত হয় এবং বায়ুর প্রসারণ পানির উচ্চতা হ্রাস বৃদ্ধি দিয়ে নির্ধারণ করা হতো। তখন দেখা গেলো বায়ুচাপের পরিবর্তনের কারণে পদার্থের প্রসারণে তারতম্য হচ্ছে। তাই ১৬৫৪ সালে আবদ্ধ থার্মোমিটারের প্রচলন শুরু হয়। তখনও কোন তাপমাত্রা পরিমাপের একক নির্দিষ্ট করা যায়নি। 

১৭২৪ সালে বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট বায়ুশূন্য থার্মোমিটারের পারদের আনুপাতিক সংকোচন প্রসারণ অনুপাতকে ভিত্তি করে পানির হিমাংকে স্কেলের নিম্ন-স্থিরাঙ্ক ৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং স্ফূটনাংকে ঊর্ধ্ব-স্থিরাঙ্ক ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট ধরে মাঝের অংশকে সমান ১৮০ ভাগে ভাগ করেন এবং এর নাম দেন ফারেনহাইট স্কেল। প্রতি ভাগকে বলা হয় এক ডিগ্রি ফারেনহাইট (oF) । ১৭৪২ সালে বিজ্ঞানী এন্ডার্স সেলসিয়াস স্থিরাংকের মাত্রা ০ ও ১০০ রেখে 'সেলসিয়াস স্কেল' প্রচলন করেন। ১৮৫৭ সালে স্যার থমাস ক্লিফোর্ড এবার্ট ক্লিনিকাল থার্মোমিটার আবিষ্কার করেন।

থার্মোমিটারে দুইটি অংশ থাকে। একটি হচ্ছে তাপ সুবেদী অংশ, অন্যটি একক চিহ্নিত দাগকাটা পরিমাপক অংশ। যখন সুবেদী অংশটিকে উত্তপ্ত স্থানে রাখা হয় সুবেদী অংশের প্রসারিত অংশে জমা থাকা প্রসারণশীল পদার্থটি প্রসারিত হয়। তখন দাগকাটা অংশ দেখে তাপমাত্রা পরিবর্তন নির্ণয় করা যায়। ক্লিনিকাল থার্মোমিটারে প্রসারণশীল পদার্থ হিসেবে পারদ ব্যবহার করা হয়। থার্মোমিটার বেশ কয়েক প্রকারের হতে পারে। পারদ থার্মোমিটার, এলকোহল থার্মোমিটার, ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, থার্মিস্টর, গ্যাস থার্মোমিটার, সিক্স'স থার্মোমিটার, ধাতব থার্মোমিটার, তরল স্ফটিক থার্মোমিটার, ক্রায়োমিটার প্রভৃতি।

লেখক : ডা. তুহিন মুশফিক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

(মেডিভয়েস : সংখ্যা ৬, বর্ষ ২, ডিসেম্বর-জানুয়ারী ২০১৬ তে প্রকাশিত)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত