২৯ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩৩ পিএম

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন ঘটেছে

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন ঘটেছে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানুষ হেপাটাইটিস ভাইরাসের চিকিৎসা যেনো সঠিক সময়ে পায় সেজন্য চিকিৎসক সমাজকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ অনেক উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন ঘটেছে। তবে দেশের মানুষের চিকিৎসার ব্যয় সাধ্যের মধ্যেই রাখতে হবে।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে রোববার ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন।

ডা.রোকসানা বেগমের পরিচালনায় এবং অধ্যাপক ডা. হারিসুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হেলথ এন্ড পপুলেশন অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি ডা.রোকেয়া সুলতানা, সম্প্রীতি বাংলাদেশের কনভেনার অভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রেকটিশনারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুনিরুজ্জামান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, হেপাটাইটিস এ ও ই  খাদ্য  ও পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আরবিসি এবং ডি দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ এবং আক্রান্ত  ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ায়। শুধু হেপাটাইটিস ভাইরাসই নয় সকল ভাইরাসকেই আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

অভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একসময় কলেরায় হাজারো মানুষ মারা যেত। কিন্তু এখন আর তা মারা যায় না। ম্যালেরিয়া যেভাবে নির্মূল হয়েছে সেভাবেই হেপাটাইটিস ভাইরাসও নির্মূল হবে। তবে গ্রামের অপচিকিৎসা ও ভ্রান্ত ধারণা আমাদের দূর করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মুনিরুজ্জামান বলেন, ন্যাসভ্যাক হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারফেরনের ব্যবহারে যেখানে মাত্র ৩৮ শতাংশ ক্রনিক হেপাটাইসিস বি রোগী উপকৃত হয়েছেন, সেক্ষেত্রে  ন্যাসভ্যাক ব্যবহারে ৫৯ শতাংশ ক্রনিক হেপাটাইসিস বি রোগী উপকার পেয়েছেন। আর ওষুধ বন্ধ করার ১ বছর পরও ‘ন্যাসভ্যাক ’হেপাটাইটিস বি-এর চিকিৎসায় পেগালাইটেড ইন্টারফেরনের তুলনায় শ্রেয়তর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, আমাদের দেশে ফুসফুস আর পাকস্থলীর ক্যান্সারের পর ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ লিভার ক্যান্সার। আর সাথে যদি হেপাটাইটিস সি-কে যোগ দেয়া যায় তাহলে দেখা যাবে বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ লিভার ক্যান্সার হচ্ছে এই দুটি ভাইরাসের যে কোন একটির কারণে। পৃথিবীতেই ক্রনিক হেপাটাইটিস ও লিভার সিরোসিসের প্রধানতম কারণ এই দুটি ভাইরাসই।

শরীরে একবার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস প্রবেশ করলে তা শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে লিভারে স্থায়ী ইনফেকশন তৈরী করে যাকে আমরা বলে থাকি ক্রনিক হেপাটাইটিস সি। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে রোগের কোন লক্ষণ থাকে না বললেই চলে। অথচ ১০-১৫ বছরের মধ্যে এদের বেশিরভাগই লিভার সিরোসিসের মত মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন, যাদের অনেকেরই পরবর্তীতে লিভার ক্যান্সার। ইদানিং নতুন নতুন ওষুধ চলে আসায় চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য।

সেমিনারে ‘আপনার স্বাস্থ্য’ বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়াও নয়ন বাউল ও তার দল হেপাটাইটিস ভাইরাস নির্মূলে ‘জানতে হবে, জানাতে হবে’ সচেতনতামূলক গান পরিবেশন করেন।

আরও পড়ুন-

►আক্রান্ত ১ কোটির ৯০ লাখই শনাক্তের বাইরে

►প্রতি দশ জনে ৯ জনই জানেন না তারা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত

►প্রতি ৩ মিনিটে একজন কিশোরী এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়

►হেপাটাইটিস বি ও সি নির্মূলে কাজ করছে সরকার

►চিকিৎসার চেয়ে হেপাটাইটিস প্রতিরোধই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন

►হেপাটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের ভয়ের কিছু নেই

►হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি নিয়েছে সরকার

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত