ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

প্রসব-পূর্ব সেবা

একজন নারী যখন গর্ভধারণ করেন তখন তার দেহে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। এ সময় অনাগত শিশু ও মায়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয়। একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভধারণ থেকে শুরু করে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত কী কী বিশেষ সেবা প্রয়োজন সে সম্পর্কে নিম্নে আরোচনা করা হলো-

কখন মা হবেন
বিয়ের পর স্বাভাবিক নিয়মেই সবাই মা হতে চান। তবে সবার মনে রাখতে হবে একজন সুস্থ মা-ই জন্ম দিতে পারেন একটি সুস্থ-সুন্দর শিশু। শিও সবার কাছেই অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার ধন। সেই আশা যেন নষ্ট না হয়ে যায় সে জন্য বাচ্চা নেওয়ার আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত।

গর্ভধারণের আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত 
- গর্ভধারণে ইচ্ছুক মহিলার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি হওয়া উচিত।
- বর্তমানে মহিলার কয়টি শিশু আছে। অধিক বাচ্চার মাকে পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ করুন। 
- ছোট বাচ্চার বয়স যেন কমপক্ষে ২ বছরের বেশি হয়। 
- আগের গর্ভকালীন সময়ের ইতিহাস।
- আগের প্রসবকালীন বিস্তারিত ইতিহাস (বিশেষ করে জটিলতা হয়ে থাকলে)।
- আগে গর্ভপাতের কোনো ঘটনা আছে কি না। 
- আগে মৃত বাচ্চা প্রসব হয়েছিল কি না। 
- আগে যমজ বাচ্চা প্রসব হয়েছিল কি না। 
- আগে অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্ম হয়েছিল কি না।
- আগের বাচ্চা জন্মের সময় ওজন কত ছিল। 
- গর্ভধারণে ইচ্ছুক মহিলার শারীরিক উচ্চতা ও ওজন।
- তার শারীরিক কোনো অক্ষমতা আছে কি না পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
- তার দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ আছে কি না (ডায়াবেটিস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, জটিল ধরনের জন্ডিস ইতাদি)।
- তার রক্তের গ্রুপ, রক্তশূন্যতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ ও পরীক্ষা
উর্বর সময়ে কোনো সক্ষম মহিলার ডিম্বাণু এবং কোনো সক্ষম পুরুষের। শুক্রাণু মিলিত হলে জ্বণের সঞ্চার হয়; অর্থাৎ মহিলা গর্ভবতী হয়। ভ্রূণ জরায়ুতে বড় হতে থাকে, এই অবস্থাকে গর্ভাবস্থা বলা হয়। একটি সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য গর্ভাবস্থায় একজন গর্ভবতী মহিলাকে বিভিন্ন ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। গর্ভধারণের সময় শরীরে অনেক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 

গর্ভাবস্থার লক্ষণ
- মাসিক স্রাব বন্ধ হওয়া।
- বমি বা বমি বমি ভাব।
- ঘন ঘন প্রস্রাব ত্যাগ।
- স্তনের পরিবর্তন। 
- জরায়ুর পরিবর্তন।
- তলপেটে ও মুখে কালো দাগ দেখা যায়, তল পেটের ত্বক টান। ধরলে পেটের ত্বকে সাদা দাগ দেখা যায়।
- শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়।
- গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া টের পাওয়া (৪ মাস পর)।
- গর্ভস্থ শিশুর হৃদস্পন্দন (৫ মাস পর)। 

গর্ভাবস্থা পরীক্ষা
- নিয়মিত তারিখে মাসিক না হবার আরো ২ সপ্তাহ পর প্রস্রাব পরীক্ষা করে গর্ভাবস্থা বোঝা যায়।
- যেসব মহিলার মাসিক অনিয়মিত বা অন্য কোনো সমস্যা থাকে তাদের আন্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় (নিয়মিত তারিখে মাসিক না হবার কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ পর)।

সূত্র- গর্ভবতী মা ও শিশুর পরিচর্যা

ডা. জেনিফার হং

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

ঈদে ভোজন-পূর্ব যে বিষয়গুলোতে দৃষ্টি রাখবেন

শুরুতেই ঈদ মোবারক। কোরবানী ঈদের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আকর্ষনীয় শেষ পর্ব- মাংস কাটা,…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর