২৮ জুলাই, ২০১৮ ১২:৫৫ এএম

কেন বন্ধ হয়ে গেল জিএসকে?

  • কেন বন্ধ হয়ে গেল জিএসকে?
  • কেন বন্ধ হয়ে গেল জিএসকে?
  • কেন বন্ধ হয়ে গেল জিএসকে?
  • কেন বন্ধ হয়ে গেল জিএসকে?

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশের বহুল পরিচিত বহুজাতিক ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশে তাদের ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে জিএসকে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

শুক্রবার বিকালে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে জিএসকের চেয়ারম্যান বলেন, অলাভজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভায় জিএসকের ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। তবে কনজুমার হেলথকেয়ার ইউনিট চালু থাকবে। তাছাড়া ইউনিসেফ এবং ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্স ‘গ্যাভি’র সহায়তায় পাওয়া জিএসকের ভ্যাক্সিন যথারীতি বাংলাদেশ পাবে।

জিএসকে গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক প্লান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ, এটি বিচেনায় রেখেই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের কারণেই এ সিদ্ধান্ত। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

কারখানা বন্ধের ঘোষণায় ৯ কর্মী অজ্ঞান

এদিকে প্রতিষ্ঠান বন্ধের খবরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কারখানার ভেতরে জ্ঞান হারান ৯ শ্রমিক-কর্মচারী। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রিজিওনাল হেড অব সাপ্লাই চেইন রাজু কৃষ্ণ গোস্বামীকে কারখানার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তালা ঝুলিয়ে তারা প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন।

শুক্রবার বেলা ১২টায় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন। বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জিএসকে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইলিয়াছ  বলেন, ‘কারখানা চালুর দাবিতে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছি। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। শনিবার সকাল ১০টায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কর্মসূচি নেয়া হবে।

কারখানার বন্ধে নেপথ্যে কী?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিএসকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, দুই বছর আগে থেকে দেশি-বিদেশি একটি মহল জিএসকে বন্ধের পরিকল্পনা নেয়। শাটডাউন এই প্রজেক্টের নাম ‘সিডর’।

এক মাস আগে একটি টিম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামে। এর সঙ্গে কারখানার ৮ কর্মকর্তা জড়িত। বিশেষ সুবিধা নিয়ে তারা এ কাজের জন্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের অর্থবছর শেষে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ২৮ জুন থেকে ফার্মা কোম্পানির বন্ধের খবরে পুঁজিবাজারে এর শেয়ারের দাম কমতে থাকে।

এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত। কেননা ৭ মাস আগে পরিচালকদের বেতন দ্বিগুণের বেশি করা হয়েছে। গত দুই বছরে কারখানার আধুনিকায়ন ও কমপ্লায়েন্সের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। লোকসান হলে এ অর্থ ব্যয়ের কারণ কী?

গত ৫ বছরে ৩৫১ কোটি ৮০ লাখ ঢাকা মুনাফা করেছে। সরকারকে হাজার কোটি টাকা রাজস্বও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নকিবুর রহমান বলেন, জিএসকে যে মুনাফা করছে, সেটি কনজ্যুমার হেলথকেয়ার অংশের কারণে। কয়েক বছর ধরে ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট লোকসান দিচ্ছিল। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিএসকে নিজস্ব প্যাটেন্ট নিয়ে ওষুধ তৈরি করে। বাংলাদেশে যেসব ওষুধ তৈরি হতো, তা সবই অনেক পুরনো এবং স্বল্প দামের। তাছাড়া এসব ওষুধের বিকল্প বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে। জিএসকে বন্ধ হলে এদেশের মানুষের কোনো অসুবিধা হবে না। 

তিনি বলেন, বাজারে জিএসকের যেসব ওষুধ রয়েছে, কারখানা বন্ধ করায় জনসাধারণের ওপর যেন প্রভাব না পড়ে, সেজন্য নির্দিষ্ট সময় উৎপাদন অব্যাহত থাকবে। ওষুধগুলোর সর্বশেষ মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পর্যন্ত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হবে। কর্মীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া হবে। তারা অত্যন্ত দক্ষ, তাই তাদের নতুন চাকরির বিষয়েও সহযোগিতা করা হবে। ২০০ জনকে কনজুমার হেলথকেয়ারে সংযুক্ত করা হতে পারে।

জিএসকে পরিচিতি

যুক্তরাজ্যভিত্তিক জিএসকে ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট শিল্প এলাকায় গড়ে তোলা হয়। জিএসকে কনজুমার হেলথকেয়ার হরলিকস, মালটোভা, বুস্ট, ভিভা, গ্ল্যাক্সোজ-ডি, সেনসোডাইন টুথপেস্ট ও হরলিকস বিস্কুটের মতো পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করছে বাংলাদেশের বাজারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত