ডা. জহির সাদিক

ডা. জহির সাদিক

শিশু বিশেষজ্ঞ

জাবের আল আহমেদ আর্মড ফোর্সেস হাসপাতাল, কুয়েত।


২৫ জুলাই, ২০১৮ ০৩:১৫ পিএম

‘দোয়া করেছি, আমার বাচ্চার জন্য নয় আপনার জন্য!’

‘দোয়া করেছি, আমার বাচ্চার জন্য নয় আপনার জন্য!’

রাত সাড়ে দশটা। গাইনোকোলজিস্টের টেলিফোন। আপনাকে দ্রুত আসতে হবে। ইমার্জেন্সি সিজার হবে। মায়ের অবস্থা খুব খারাপ। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বাচ্চার কোন হার্টবিট শোনা যাচ্ছে না।

সিজার করা হলো। দেখা গেল মায়ের রাপচারড ইউটেরাস। বাচ্চা বের করা হয়েছে কিন্তু কোন হার্টবিট, শ্বাস প্রশ্বাস, কান্না কিছুই নেই। আল্লাহর অশেষ কৃপায় বিশ মিনিট resuscitation করার পর বাচ্চার হার্টবিট ফিরে আসলো এবং বাচ্চা থেমে থেমে শ্বাস নেয়া শুরু করেছে।

রাত ১টার দিকে বাচ্চা কিছুটা স্টাবল হবার পর নবজাতক আইসিইউ থেকে বের হবার সময় দেখলাম বাচ্চার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। উনাকে বললাম আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি আপনার বাচ্চার জন্য। এখন বাচ্চার হার্টবিট আছে, মোটামুটি শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে তবে মাঝেমাঝে খিঁচুনি হয়। আমরা সব ধরনের মেডিসিন দিয়েছি। আপনি শুধু আল্লাহর কাছে বাচ্চার জন্য প্রার্থনা করেন।

পরের দিন সকালে বাচ্চাটিকে দেখতে গেলাম। এখন বাচ্চা আগের চেয়ে একটু ভাল। মাঝেমাঝে কান্না করে, খিঁচুনি কমেছে, গায়ের রং নীল থেকে পিংক হয়েছে। আমার মনটাও কিছুটা ভাল।

বাচ্চার বাবাকে বললাম, ‘আপনার বাচ্চা গত রাতের চেয়ে ভাল।’ দেখলাম বাচ্চার বাবার চোখে পানি।

বাচ্চার বাবা কান্নাভেজা গলায় বলল, ‘স্যার গতরাতে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে অনেক সময় ধরে দোয়া করেছি। আমার বাচ্চার জন্য নয়। আপনার জন্য। আল্লাহ যেন আপনাকে বহু বছর সুস্থ্যতার সাথে বাঁচিয়ে রাখেন।’

বাচ্চার বাবার অশ্রুস্নাত চেহারার দিকে বেশক্ষণ চেয়ে থাকলাম। পৃথিবীটা কতই না সুন্দর। এই পৃথিবীর মানুষগুলো আরও সুন্দর। আমার পেশাটিও অসম্ভব সুন্দর। সত্যিই মহান এক পেশা। 

মাঝেমাঝে এসব সাদা মনের চেহারার দিকে তাকিয়ে হাজার বছর বেঁচে থাকার সাধ হয়!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত