ডা. জহির সাদিক

ডা. জহির সাদিক

শিশু বিশেষজ্ঞ

জাবের আল আহমেদ আর্মড ফোর্সেস হাসপাতাল, কুয়েত।


২২ জুলাই, ২০১৮ ০২:১৮ পিএম

নস্টালজিয়া: ছেলেবেলার জ্বর

নস্টালজিয়া: ছেলেবেলার জ্বর

আশির দশকের প্রথম দিক হবে। ঘনঘন জ্বর আসতো। বর্ষা মৌসুমে জ্বর হতো বেশি। বাড়ির সামনে ছিল বড় পুকুর। শ্রাবণ মাসে সেই পুকুর পানিতে টুইটুম্বুর থাকতো। খুব ভাল সাঁতরাতে পারতাম। একবার পানিতে নামলে আর উঠার কোন নামগন্ধ থাকতো না।

জ্বর অবস্থায় পুকুরে নামা ছিল নিষেধ। যতদিন জ্বর থাকতো ততদিন গোসলও নিষেধ। অন্যরা পুকুরে হৈ-হুল্লোড় করছে আর আমি ঘরে শুয়ে আছি ব্যাপারটা ছিল ভীষণ কষ্টদায়ক। শুধু মনে হতো, কবে জ্বর ভাল হবে? কবে আবার পুকুরে নামবো? কবে আবার সাঁতরাবো?

জ্বরের সময় খাবারের অনেক বিধিনিষেধ থাকতো। সব খাবার খেতে দিত না। সেলেকটিভ খাবার দিত। সাগু বার্লি টাইপের খাবার। এমনিতেই জ্বরের জন্য অরুচি। তারমধ্যে সাগু বার্লি! কষ্টের উপর মহাকষ্ট।

জ্বর হলে পড়াশুনার কথা কেউ মুখে আনতো না। পড়াশুনা নাই মানে আনন্দ আনন্দ অনুভব করতাম। বাড়ির সবাই খুব আদর করতো। ওই সময় কেউ বকাঝকা করতো না। সবাই খোঁজ খবর নিত। মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে দিত।

নরমালি আব্বা অতটা আদর করতো না। কিন্তু জ্বর আসলে আব্বার মধ্যেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেত। আব্বাও আদর করা শুরু করতো। কিছুক্ষণ পরপর এসে কপালে হাত দিয়ে জ্বর দেখতো। জ্বর দুইদিনে ভাল না হলে আব্বা সাইকেলে করে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেন। ডাক্তার জ্বর দেখে সাদা পাউডার যাকে পুরিয়া বলে তার মধ্যে তিন চার ফোটা ওষুধ ঢেলে দিত। সেই পাউডার মজা করে খেতাম। কারণ ওটা খেতে একটু মিষ্টি মিষ্টি লাগতো।

যতদিন জ্বর থাকতো মাকেই কেন জানি খুব চিন্তিত মনে হতো। জ্বর কমানোর জন্য মায়ের সে কী প্রাণান্ত চেষ্টা! ভেজা তোয়ালে অথবা গামছা দিয়ে সারা শরীর অনর্গল মুছে দিত। সারাক্ষণ মাথায় পানি ঢালতো। ওই সময় খুব আরাম পেতাম। আরামে চোখদুটো বন্ধ হয়ে আসতো। রাতের বেলা মা আমাকে জাপটে ধরে সমস্ত জ্বর কেড়ে নেবার চেষ্টা করতো!

সবকিছু মিলিয়ে সেই সময়কার জ্বর অতটা খারাপ লাগতো না। মনে মনে চাইতাম জ্বরটা আরও কিছুদিন থাকুক। এভাবে আরও কিছুদিন চলুক। জ্বরের কষ্টটুকু ছাড়া বাকি সবকিছুই তো ভাল ছিল!

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না