ঢাকা      রবিবার ১৬, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী



অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওহাব মিনার

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যিক


মেডিকেলে চান্সপ্রাপ্ত মেধাবীদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হোক

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার পাশ নম্বর ৪০ (চল্লিশ)। অর্থাৎ কোন আবেদনকারী এই নম্বর পেলেই যে কোন মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে যদি সেই মেডিকেল কলেজ ইচ্ছুক হয়। এসএসসি ও এইচএসসিয়ের নম্বরের সাথে এই নম্বর যোগ হয়ে সিরিয়াল তৈরি হয়। 

সরকারি মেডিকেলে সাড়ে তিন হাজার ভর্তি শেষ হলে পরবর্তী সিরিয়াল থেকে টাকা থাকা সাপেক্ষে প্রাইভেটে ভর্তি শুরু হয়। নামীদামী প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ মেধার ব্যাপারে সাধারণত ছাড় দেয় না। আবার অখ্যাত, রুগ্ন মেডিকেলগুলো আপোস করে অক্ষম, দুর্বল মেধার আবেদনকারীদের নিয়ে নেয়। সাথে থাকে বিশাল বাণিজ্য।

গেল বছর আশি হাজার ছাত্র ছাত্রী পরীক্ষা দেয় যার মধ্যে পাশ নম্বর ৪০ (চল্লিশ) পেয়ে পাশ করে চল্লিশ হাজার। সরকারি বেসরকারি, দেশি- বিদেশি নিয়ে মোট ভর্তি হয় ১০ (দশ) হাজার। ত্রিশ হাজার বাদ যায়। চল্লিশ হাজারের মধ্যে যাদের সিরিয়াল মেধা তালিকায় অনেক নিচে তাদের পেরেশানি ও দৌড়াদৌড়ি থাকে দেখার মত। নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ওইসব দুর্বল আবেদনকারী ভর্তি হয়ে যায়।

সমস্যা কী?
১. এসব দুর্বল কম মেধার ছেলে মেয়েরা মেডিকেলের অসহনীয় পড়ার চাপ, প্রায় প্রতিদিন পরীক্ষা পদ্ধতিতে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফেল করতে থাকে। টিচারের বকা খায়, বাবা মার কটু কথা শুনে শুনে হতাশ হয়ে যায়। নিজেকে অপাংতেয় মনে করে। এক সময় ডিপ্রেশনের স্থায়ী রোগী হয়ে চিকিৎসা নিতে শুরু করে। কেউ কেউ আত্নহত্যার পথ বেছে নেয় যা আদৌ কাম্য নয়।

২. এই কম মেধাবী ছেলে মেয়েরা যে কারণে পরীক্ষায় খারাপ করে (আন্তরিকতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা, প্রতিযোগী মনোভাব, এন্ডুরেন্স, এন্থুসিয়াজমের অভাব) সেগুলো না থাকলে রোগীরা ভাল সেবা পাবে না। আমাদের অদক্ষ এই চিকিৎসকদের হাতেই মারা যেতে হবে।

৩. প্রতিযোগিতায় যারা এগিয়ে আছে তাদেরই ভর্তি হবার সুযোগ থাকা উচিত। পরীক্ষার পাশ নম্বর কিছুটা বাড়ালে ভালদের মধ্য থেকেই ভর্তি হত যা এখন হচ্ছে না। এখন লোয়ার টায়ারের স্টুডেন্টরা টাকার জোরে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হচ্ছে।

৪. চিকিৎসা পেশার দীর্ঘ দিনের সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

৫. চিকিৎসার মান খারাপ হলে রোগীরা ভিন দেশে যাবার যৌক্তিক কারণ খুজে পাবে। দেশ হারাবে হাজার কোটি টাকা।

সমাধান কী?
সরকার আন্তরিক হলে সমাধান সহজ।

১. চান্স প্রাপ্তদের যারা মেডিকেল কলেজে পড়তে চাইবে সিরিয়াল অনুযায়ী সবাইকে সরকার সুযোগ দেবেন। যারা সরকারীতে ভর্তি হবেন তাদের পর যারা সিরিয়াল নিজ খরচ বহন করতে চাইলে করবেন। যারা পারবেন না সরকার তাদের সহজ শর্তে লোন দেবেন। যারা লোন নিতে চাইবেন না তারা ভর্তি হবেন না। এতে মেধাবীরা বঞ্চিত হবে না। টাকা না থাকার কারণে বহু মেধাবী মুখ ইচ্ছে থাকা সত্তেও ডাক্তার হতে পারে না, এপ্রোন পড়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয় না।

২. ভর্তি নম্বর বাড়িয়ে (৪০ থেকে ৬০/৬৫/৭০) দিয়ে কম সংখ্যক (৭০০০ এর বিপরীতে ১৪০০০/১৫০০০) পাশ করানো হোক। অস্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে।

৩. এই সরকারের সময়ই ৬০০০ ডাক্তার নিয়োগ হয়েছে, আরও ৪০০০ নিয়োগের অপেক্ষায়। যে সরকার জনগণের কল্যাণে এমন উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে তারা আন্তরিক হলে এই অবিজ্ঞানিক সিদ্ধান্তও পাল্টাতে পারে।

আমরা চিকিৎসকরা এই দেশের মানুষকেই চিকিৎসা দিচ্ছি। ভুল ত্রুটি নিয়েই আমরা আছি। কিছু সফলতাও আমাদের আছে। সিদ্ধ ইরি চালের পায়েস খাবেন, না আতব চিনি গুড়া চালের সে সিদ্ধান্ত কেবল আমরাই নেব কেন? আপনি কেন সম্পৃক্ত হবেন না? এই পেশাটা নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঠেকানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের। 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

প্রিয় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী, আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ বছর ২ মাস…

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

সুইসাইড বা আত্মহত্যা হলো নিজেই নিজেকে হত্যা করা।  এটা হলো অস্বাভাবিক চিন্তার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর