এম. এম. তাহমিদ হাসান

এম. এম. তাহমিদ হাসান

৫ম বর্ষ,

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া।


২১ জুলাই, ২০১৮ ০৬:৪৮ পিএম

এসপিরিনের ইতিহাস

এসপিরিনের ইতিহাস

Aspirin শব্দটি এসেছে ‘Spiraea’ থেকে। Spiraea হচ্ছে এক ধরণের গুল্ম যাতে থাকে Salicylic acid.

প্রাচীন যুগে মিশরীয়রা Willow/Cricket bat/Salix alba গাছের বাকল ব্যবহার করতো বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়ের জন্য, কিন্তু তারা জানতো না এই বাকল কিভাবে ব্যথা কমায়। বলে রাখা ভালো, এই Willow tree-এর কাঠ দিয়েই ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হয়ে থাকে।

আঠারো শতাব্দীতে এডওয়ার্ড স্টোন নামক একজন পাদ্রি Willow tree-এর বাকলে আবিষ্কার করেন এসপিরিনের উপস্থিতি। এই গাছের বাকল গুড়া করে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ জন হার্টের রোগীকে খাওয়ান। মজার ব্যাপার হলো- সবাই উপকৃত হয় ওই গুড়া খেয়ে।

এরপর হারম্যান কোব ১৮৭৪ সালে বাণিজ্যিকভাবে ফ্যাক্টরিতে তৈরি করলেন Salicylic acid. কিন্তু এটি যখন হাই ডোজে ব্যবহার করা হলো, তখন এটি বমি বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক ইরিটেশন বেশি বেশি করতে লাগলো। এজন্য একটি বাফার তৈরির প্রয়োজন পড়লো যাতে করে গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি কম হয়।

আবিষ্কারের ধারা থেমে থাকেনি। ১৮৯০ সালে জার্মান কেমিস্ট ফেলিক্স হফম্যান Salicylic acid এর এসিটাইলেশন করে তৈরি করেন Acetylsalicylic acid. আসলে এই Acetylsalicylic acid-এর অপর নামই হচ্ছে এসপিরিন। তার বাবার রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস ছিল। তিনি তার বাবাকে এই এসপিরিন খেতে দেন এবং অনেক ভাল ফলাফল পান তার বাবা।

ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়তে লাগলো এই এসপিরিনের। ১৯১৫ সাল থেকে এটি হয়ে গেলো OTC drug.

ইতোমধ্যে কার্ল ডেটলফ বারিস্ট্রম, ইনজেমার স্যামুয়েলসন এবং জন রবার্ট ভেন আবিষ্কার করে ফেললেন যে, এসপিরিন cyclooxygenase enzyme ইনহিবিটের মাধ্যমে প্রোস্টাগ্লান্ডিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। আর প্রোস্টগ্লান্ডিন-ই মূলত inflammation, clot formation ইত্যাদির জন্য দায়ী। আর তাই হার্ট এটাক, স্ট্রোক প্রতিরোধে এই এসপিরিন ব্যবহার করা যায়। এজন্য ১৯৮২ সালে তারা যৌথভাবে মেডিসিনে নোবেল প্রাইজ পান।

এসপিরিনের বিভিন্ন ডোজ রয়েছে। বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশে ৭৫ মি.গ্রা. এবং ৩০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়। সৌদি আরবে আবার ৮১ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়। তবে ট্যাবলেটের মি.গ্রা. অনুযায়ী ইন্ডিকেশনও আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

তবে এসপিরিন সম্পর্কে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো- ‘একই গাছ ক্রিকেটারদের দরকার ব্যাট বানাতে, আর রোগীদের দরকার এসপিরিন ওষুধ বানাতে।’  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত