ঢাকা      শুক্রবার ১৭, অগাস্ট ২০১৮ - ২, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী

রোগ নির্ণয় সহজ করতে থ্রিডি রঙিন এক্স-রে উদ্ভাবন

মেডিভয়েস ডেস্ক: রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিকে আরও  সহজ করতে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) রঙিন এক্স-রে উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০ বছরের অক্লান্ত গবেষণায় নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা এ সাফল্য পেয়েছেন। এ উদ্ভাবনের ফলে চিকিৎসাক্ষেত্রের উন্নয়নে একধাপ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পদার্থবিদ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্ন।

সার্ন (ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ) জানায়,এটি ইমেজিং প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারের ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশের ছবি আরো স্পষ্ট ও নির্ভুল হবে। কারণ, এই পদ্ধতিতে শরীরের কোষ, কলা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া সম্ভব হবে। এক্স-রে’র চালু পদ্ধতিতে শুধুই দ্বিমাত্রিক (বাই ডাইমেনশনাল বা টু-ডি) ছবি পাওয়া সম্ভব হয়।

এই প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, সাদা-কালো ছবি ওঠায় অনেক সময়ই শরীরের ভিতরের প্রদাহ, রক্তজমা বা অস্বাভাবিক কোনও রং আমাদের চোখে ধরা পড়ত না। রঙিন এক্স-রে প্লেট হলে রোগ নির্ণয়ে অনেকটাই সুবিধা হবে।

এই গবেষণা নিয়ে বিশিষ্ট কণা পদার্থ বিজ্ঞানী নবকুমার মণ্ডল বলেন, মেডিপিক্স থ্রি-এর বিশেষ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই এই রঙিন এক্স-রে’র দুয়ার খুলে দিলেন বিজ্ঞানীরা। বস্তুকণার ফোটন, ইলেক্ট্রনের সংখ্যা নির্ণয়ের সঙ্গে তাদের শক্তির পরিমাপও করতে পারে এই প্রযুক্তি। সেই শক্তির তারতম্যের ভিত্তিতেই বানানো হয়েছে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। তাতে আলোর বিভিন্ন কম্পাঙ্কের কৃত্রিম রঙের মিশেল ঘটানো হয়েছে। এ ভাবেই ফোটনের শক্তিকে অনুধাবন করে এই প্রযুক্তিকে সামনে আনলেন সার্নের বিজ্ঞানীরা।

রেডিওলজিস্ট অভীক ভট্টাচার্যের কথায়, দৃশ্যমান আলোর সঙ্গে এক্স-রে’র ব্যবধান আছে। একটি নেগেটিভ ইলেকট্রন অপর নেগেটিভ ইলেকট্রনের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে উচ্চশক্তি সম্পন্ন কক্ষে প্রবেশ করে। খানিক পরে তা ফের নিজের কক্ষে ফিরে এলে অতিরিক্ত শক্তি ত্যাগ করতে থাকে, এতেই জন্ম নেয় ‘এক্স-রে’। এতে রঙিন পিক্সেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে, হাড়ের গায়ে আলো লেগে ফিরে আসার যে প্রতিফলন এত কাল সাদা-কালো দেখাত, রঙিন পিক্সেলে এ বার তাকেই রাঙিয়ে তোলা যাবে।

সার্ন-এর গবেষকদলের প্রধান ফিল বাটলারের দাবি, আর কোনও যন্ত্রই এত নির্ভুল ছবি তুলবে না। অধরা হিগস-বোসন কণার সন্ধান দেওয়া সার্নের বিখ্যাত লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মাধ্যমেই এই আবিষ্কার করেছেন তাঁরা।

সার্ন আরও জানায়, নতুন এই থ্রিডি এক্স-রে ইমেজিং আগের সাদা-কালো এক্স-রের ওপর ভিত্তি করেই উদ্ভাবন করা হয়েছে। তবে সেখানে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন করা হয়েছ। যেখানে পৃথিবীর বৃহত্তম সংঘর্ষক কণা লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার ব্যবহার করা হয়েছে।  যা ব্যবহার করে ২০১২ সালে হিগস বুসন আবিষ্কার করা হয়েছিল।

সার্ন জানায়, নতুন প্রযুক্তির এই এক্সরেটি অনেকটা ক্যামেরার মতো কাজ করে।  এর ইমেজ খুবই স্বচ্ছ দেখা যায় যা হাড় এবং মাংসের মধ্যকার পার্থক্য বুঝা যায় শুধু তাই নয় ক্যানসার এবং টিউমারে সাইজ ও অবস্থান ও শনাক্ত করা যাবে খুব সহজেই।

সূত্র: এএফপি ও নিউইয়র্ক টাইমস

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

তাইওয়ানের ওয়েইফু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯

তাইওয়ানের ওয়েইফু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯

তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের ওয়েইফু হাসপাতালে আগুন লেগে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে,…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর