ঢাকা      রবিবার ১৬, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী

এবিওআই পদ্ধতিতে দেশে প্রথমবারের মতো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট

মেডিভয়েস রিপোর্ট : এবিও ইনকমপ্যাটিবল কিডনি প্রতিস্থাপন (এবিওআই) পদ্ধতিতে দেশে প্রথমবারের মতো কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হলো ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশনে। গত ৫ জুলাই কুড়িগ্রামের তেইশ বছর বয়সী ইমরান ফিরোজের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

ব্ল্যাড গ্রুপ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও তার মায়ের কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে।  ইতিমধ্যে ইমরান ও তার মা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাসায় গেছেন এবং ভালো আছেন বলে জানা গেছে।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজি টিম, ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. খুরশিদুল আলম ও অধ্যাপক ডা. সাজিদ হাসানের নেতৃত্বে ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিম, ব্ল্যাড ব্যাংক স্পেশালিস্ট, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও নার্সের সমন্বয়ে বিশেষ টিম এই ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে কিডনি সংযোজনে ঘটলো যুগান্তকারী ঘটনা, বাংলাদেশ পৌঁছলো নতুন উচ্চতায়। এখন আর রোগীর সঙ্গে ডোনারের রক্তের গ্রুপের মিল নিয়ে ভাবতে হবে না। আর আধুনিক ‘এবিওআই’ পদ্ধতির ব্যবহার নিয়মিত সম্ভব হলে কিডনি দাতার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে, সমাধান হবে ডোনার সংকটের।

সাধারণত রক্তদান আর কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম একই।‘ও’ এবং ‘এবি’ গ্রুপ ছাড়া (‘ও’ গ্রুপ সর্বজনদাতা এবং ‘এবি’ গ্রুপ সর্বজনগ্রহীতা এক ব্ল্যাড গ্রুপের ব্যক্তিই সেই রক্তের গ্রুপধারী অন্য ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারেন।

কিডনি সংযোজনের ক্ষেত্রেও নিয়মটা একই, যাকে বলে ‘এবিও কমপ্যাটিবল’ কিডনি প্রতিস্থাপন। এই পদ্ধতিতে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে ‘প্লাজমাফেরেসিস’ পদ্ধতিতে রক্তের প্লাজমা বা রক্তরসকে রক্তকোষ থেকে আলাদা করা হয়।

একটি ছাঁকনির মাধ্যমে বারবার ছেঁকে সেখান থেকে অ্যান্টিবডিগুলো আলাদা করা হয়। আর অ্যান্টিবডি আলাদা করলে অন্য রক্তের গ্রুপের কোন ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা থাকে না। পুরো প্রস্তুতি শেষ হতে সময় লাগে তিন সপ্তাহ। এরপরই ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

কিডনি ফাউন্ডেশনে ট্রান্সপ্ল্যান্ট বাবদ খরচ হয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার মতো।  এই প্রক্রিয়ায় এই রোগীর ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে সাড়ে আট লাখ টাকার মতো। তবে রোগীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা, বাকীটা কিডনি ফাউন্ডেশন বহন করেছে।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোন না কোনভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এরমধ্যে প্রতিবছর সম্পূর্ণভাবে কিডনি বিকল হয় প্রায় ৪০ হাজার রোগী যাদের ৮০ শতাংশই মারা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো: শেখ হাসিনা

ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো: শেখ হাসিনা

মেডিভয়েস রিপোর্ট:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার ছোটবেলায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবো। এসএসসি পরীক্ষা…

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য নীতিমালা

যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন অবস্থান করে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন…

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া

তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একই সাথে তিন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন…

১০৭ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার শুরু ১৯ ডিসেম্বর

১০৭ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকার শুরু ১৯ ডিসেম্বর

বিসিএস (স্বাস্থ) ক্যাডার/সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সিভিল সার্জন পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট প্রণয়নের…

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

হবু চিকিৎসকের পাশে দাড়ালেন চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে আরিফুল ইসলাম। বাবা একজন চা…

স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখতে চান ডা. সানসিলা

স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখতে চান ডা. সানসিলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখতে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর