ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪ ঘন্টা আগে
৩১ জুলাই, ২০১৬ ১২:০০

“মাউন্ট ঈ”

“মাউন্ট ঈ”

ধরুন, আপনাকে মাসখানেকের জন্য বাংলাদেশের কোন একটি মন্ত্রনালয়ের প্রধান করে দেয়া হলো। আর তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, আপনি হলেন বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী। তো, আপনার এই মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে যদি আপনি কোন কারনে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন প্রথমেই আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অগ্রাধিকার পাবে বিদেশের কোন হাসপাতালটি, একটু মাথা খাটিয়ে বলুন তো?

হ্যাঁ, আপনি যা ভেবেছেন, ঠিক সেটাই। বিশ্ববিখ্যাত মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কথাই বলছি।

আসুন ‘মাউন্ট ঈ’ এর সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিই। নামটি দেখে যে কারও কাছে মনে হতেই পারে, এটা কোন বড়সড় পাহাড় অথবা পর্বতের নাম। আসলে কিন্তু ‘মাউন্ট ঈ’ হলো সিঙ্গাপুরস্থিত ১০ তলা বিশিষ্ট এক বিখ্যাত হাসপাতাল অর্থাৎ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেরই সাধারণভাবে প্রচলিত একটি নাম। 

এশিয়ার একমাত্র "Asian Management Award for Exceptional People Development and Management:"- পুরষ্কারজয়ী এই বেসরকারী হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করে ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯।

কার্ডিওলজি, অনকোলজি এবং নিউরোসায়েন্সে বিশেষায়িত এ হাসপাতালটি মূলত: পরিচালনা করে পার্কওয়ে হেলথ নামক একটি মেডিকেল বেইসড প্রতিষ্ঠান, যারা মোট ১৬টি হাসপাতালের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই সহ বিভিন্ন দেশে হেলথ সার্ভিস দিয়ে থাকে। সিঙ্গাপুরে এটাই ওপেন হার্ট সার্জারি শুরু করা প্রথম হাসপাতাল। এটি অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট স্পেশালটি বিশিষ্ট এবং বিখ্যাত সব সার্জনের বিচরনক্ষেত্র বলেই পরিচিত।

এ হাসপাতালে যদি আপনি কোন রোগীর সাথে দেখা করতে চান, তাহলে আপনাকে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার ভেতরেই সেটি করতে হবে; কারণ এর কর্তৃপক্ষ মনে করে, তাদের পেশান্টদের যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। এ সময়ের বাইরে আপনি চাইলেও আর দেখা করা সম্ভব নয়।

যদি আপনি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান, দিনে অথবা রাতে- হ্যাঁ, সে ব্যবস্থাও রয়েছে। এদের ২৪ ঘন্টা হটলাইন: +৬৫৬২৫০০০০০। আর, যদি আপনি চান একেবারে গিয়েই দেখে আসবেন, তাতেও সমস্যা নেই। আপনাকে শুধু এই ঠিকানায় চলে যেতে হবে: 3 Mount Elisabeth Singapore 228510-  তাহলেই হবে। 
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন আসবেন এই হাসপাতালে?

* সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৭০.৫% লোক এই হাসপাতালের চিকিৎসায় সšত্তষ্ট।
*৩৪৫টি বেড বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে স্পেশালাইজড চিকিৎসকগণের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড এবং বহু সংখ্যক সাব কমিটি আলাদাভাবে বিশেষ বিশেষ সমস্যার তত্ত্বাবধান করেন।
* প্রতিনিয়ত নতুন সব টেকনোলজি আর যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে আধুনিকতম এবং রোগীর সেবায় ভীষণ আন্তরিক এক হাসপাতাল।

আপনার প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টায় পাশে পাবেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের। আর আপনি চাইলেই তাদের সাথে কনসাল্ট করতে পারেন। চাইলে আপনিও যেতে পারেন ‘মাউন্ট ঈ’ তে। যদিও মধ্যবিত্তদের জন্য ব্যাপারটি খানিকটা ব্যয়বহুল বটে। তবে চিকিৎসাসেবার চরম উৎকর্ষের এ বাস্তব প্রয়োগস্থান এগিয়ে আছে সবদিক থেকেই।

একদিন আমাদের দেশেই হয়তো এরচেয়ে ভালো মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হবে। সেদিন হয়তো নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত মানুষের যন্ত্রণাগুলোকে আমরা ভোলাতে পারবো আমাদের মমতামাখা পরশ দিয়ে। আর সে হাসপাতালের প্রাঙ্গনটুকু মুখরিত হবে আমাদেরই মতো নতুন ডক্টরদের পদচারণায়। আমরা শুধু সেই সবুজ স্বপ্নই দেখছি অবিরত। আমরা শুধু সেই রঙিন আশাতেই মেতে আছি অণুক্ষণ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত