ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, অক্টোবর ২০১৮ - ৮, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী

মেডিকেলে না পড়েও ‘বড় ডাক্তার’

মেডিভয়েস ডেস্ক : প্রেসক্রিপশনে তার পরিচয়- চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, জাতীয় মানসিক হাসপাতাল ও পিজি হাসপাতাল, ঢাকা।  কিন্তু এই দুই হাসপাতালে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কখনওই কর্মরত ছিলেন না।  তিনি সিরাজগঞ্জের আভিসিনা হাসপাতালে কর্মরত ফারজানা ইয়াসমিন।

তিনি সিরাজগঞ্জের সোহাগ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে কর্মরত।  যোগাযোগ করা হলে সোহাগ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সের মালিক মো. সোহাগ জানান, ফারজানা ইয়াসমিন এখানে ছিলেন।  কিন্তু এখন আর নেই।  আমার এখানে কিছুদিন রোগীদের কাউন্সেলিং করেছেন। 

তবে সিরাজগঞ্জের সুপরিচিত আভিসিনা হাসপাতালে তিনি কর্মরত বলে জানান মো. সোহাগ। এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড়শ রোগী আসেন। ফারজানা ইয়াসমিন সেখানে বেশ ‘বড় ডাক্তার’ হিসেবেই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অ্যাক্ট অনুযায়ী, চিকিৎসক না হয়ে কেউ ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন না।  মেডিকেল ও ডেন্টাল বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদেরই কেবল এই অনুমোদন দেয় বিএমডিসি।

অথচ ফারজানা ইয়াসমিন কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ থেকে এক বছরের একটি কোর্স করেছেন। আর এই যোগ্যতাতেই তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসক না হয়েও ওষুধ দিয়ে যাচ্ছেন রোগীদের।  আর এতে করে রোগীরা ভুল ওষুধে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরছেন, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. জহির উদ্দিন জানান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেছেন। তবে তিনি যেহেতু একজন সাইকোলজিস্ট, তার ওষুধ লেখার কথা না। কিন্তু তিনি এই কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক যিনি চিকিৎসক না হয়েও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন- এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছেন।  এখন প্রশাসন ও বিএমডিসি’র দায়িত্ব তাকে আইনের আওতায় আনা। 

নৈতিকতার কথা চিন্তা করে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে ফারজানা ইসলামের বিষয়টি ক্লিনিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসন ও বিএমডিসিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছি।

ফারজানা ইয়াসমিনের প্রেসক্রিপশনে পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালের পরিচয় লেখা রয়েছে।  কিন্তু খোঁজ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোরোগবিদ্যা বিভাগে এই নামে কোনো চিকিৎসকের সন্ধান মেলেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জনস্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি!

৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া বেশি বয়সে সন্তান…

১৬৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫৫টি পদই শূন্য!

১৬৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫৫টি পদই শূন্য!

মেডিভয়েস রিপোর্ট : ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও…

ফুলমেলা স্কুলে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত

ফুলমেলা স্কুলে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সারা পৃথিবী জুড়ে শিশুদের জীবাণু ও পানিবাহিত রোগের অন্যতম একটি…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর