ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী

স্তন ক্যান্সার কেন হয়

মেডিভয়েস ডেস্ক : নারীদের নীরব ঘাতক বলা হয় ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সারকে। এই গোপন ব্যাধির শিকার হয়ে প্রতি বছর প্রাণ হারান হাজার হাজার নারী।বিশ্বে প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিসংখ্যানটি আসলেই ভয়াবহ এবং প্রতি ৩৬ জন আক্রান্ত নারীর মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা একজনের।

তাছাড়া এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তাই কেন এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারটি হয়ে থাকে, যা রূপ নেয় স্তন ক্যান্সারে, তা জানা জরুরি।

১. অতিরিক্ত মদ্যপান মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। স্তন ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা পেতে চান, তাহলে অবশ্যই মদ্যপান ত্যাগ করুন।

২. অবিবাহিতা, সন্তানহীনা নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেশি।

৩. একইভাবে যারা সন্তানকে কখনো বুকের দুধ পান করাননি তাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়।

৪. ৩০ বছর বয়স পরে যারা প্রথম মা হয়েছেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা একজন কমবয়সী মা হওয়া নারীর থেকে অনেক বেশি।

৫. বয়স যত বাড়ে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পায়।

৬. অল্প বয়সে বাচ্চা নিলে, দেরিতে পিরিয়ড শুরু হলে, তাড়াতাড়ি পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়ে যায়।

৭. একাধারে অনেক দিন জন্ম নিরোধ পিল খেলেও স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ:

১. সাধারণত ৩০ বছরের পূর্বে এই রোগ কম হয়।

২. বেশিরভাগ রোগী বুকে চাকা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।

৩. বুকে চাকা সেই সাথে কিছু কিছু রোগী ব্যথার কথাও বলে থাকে।

৪. কখনো কখনো বুকে চাকা বগলেও চাকা নিয়ে রোগী আসতে পারে।

৫. নিপল ডিসচার্জ এবং নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়াও এ রোগের লক্ষণ হিসাবে দেখা দিতে পারে।


কিভাবে রোগ নির্ণয় করবেন:

১. মেমোগ্রাম বা স্তনের বিশেষ ধরনের এক্সরে

২. স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম

৩. চাকা বা টিউমার থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগ ধরা পড়বে।

৪. ৩০ বছরের বেশি বয়স হলে নিজে নিজে ব্রেস্ট পরীক্ষা করতে হবে। কোনো চাকা পাওয়া যায় কিনা। চাকা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

৫. বয়স ৫০-এর উপরে হলে বছরে একবার মেমোগ্রাম করতে হবে।

 

স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা:

সম্ভব হলে সার্জারি করাই উত্তম। তাছাড়া কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি। 

স্তন ক্যান্সার এড়ানোর উপায়:

যেহেতু রোগটির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তাই এই রোগ এড়ানোর জন্য কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে।

১. রিক্স ফ্যাক্টর থাকলে সে ক্ষেত্রে মেমোগ্রাফি করুন। যেমন: ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে।

২. ৩০ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার চেষ্টা করুন।

৩. যে সমস্ত নারীরা শিশুদের স্তন্যপান করান, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কম থাকে।

৪. টাটকা শাক-সবজি ও ফল খান।

৫. সন্দেহ হলে ক্যান্সার সার্জনের শরণাপন্ন হন।

৬. ধুমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা হবার কারন সমুহ কি হতে পারে।…

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্ট খুব পরিচিত অসুখ। অনেক মেয়েই এই সমস্যায় কষ্ট পায়। কিন্তু…

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিড আমাদের দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী।…

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

প্রায়শই বলতে শোনা যায় দিন দিন নতুন নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে। আসলে…

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

লেবুর পানি, আদাজল, মধু, হলুদ, গ্রিন টি ইত্যাদি নানারকম জিনিস সেবন করলে…

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। একমাত্র সুস্থ মা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর