ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

স্বাস্থ্য খাতে অর্জন ও অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে আলোচনায় বাংলাদেশ

সম্প্রতি সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চয়তায় বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘দ্যা ল্যান্সেট’ বাংলাদেশকে নিয়ে প্রকাশ করেছে একটি বিশেষ ধরাবাহিক গবেষণা প্রতিবেদন।

শুরুতে চিকিৎসা জগতের জনপ্রিয় মেডিকেল জার্নাল ‘দ্যা ল্যান্সেট’ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই সাপ্তাহিক জার্নালটির যাত্রা শুরু হয় ৫ই অক্টোবর ১৮২৩ সালে। চিকিৎসাশাস্ত্রে বিশ্বব্যাপী এর অবদান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ‘দ্যা ল্যান্সেট’ জার্নালটির প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ শল্যবিদ থমাস ওয়েকলী।

এটি প্রকাশনার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য ছিল বিনোদন, প্রশিক্ষন ও সংস্কার সাধন। ১৮০ বছরেরও অধিক প্রাচীন এই জার্নাল আজ পৃথিবীব্যাপী চিকিৎসাবিদ্যার স্বাধীন ও কর্তৃত্বব্যঞ্জক এক কন্ঠস্বর। উচ্চমানের বিশ্লেষন ও শল্যগবেষণা, প্রকাশনা ও বিশ্বব্যাপী প্রচারের মাধ্যমে চিকিৎসা শিল্পের কাঙ্খিত পরিবর্তন সাধনই জার্নালটির প্রয়াস।

গবেষণা ও পর্যালোচনার সমালোচনাপূর্ণ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবার জন্যে এর রয়েছে শক্তিশালী কমেন্টস সেকশন। ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ‘দ্যা ল্যান্সেট’ তার লক্ষ্য অভিমুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্প্রদায়কে পৃথিবীব্যাপি রোগব্যাধি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রমাণভিত্তিক উপাত্ত সরবরাহ করে। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক দিকে ল্যান্সেট আরও ছয়টি নির্দিষ্ট বিভাগীয় জার্নাল প্রকাশ করে। এই ছয়টি সাময়িকী মাসিক ভাবে প্রকাশিত হয়। মাসিক সাময়িকীগুলো হচ্ছে: ল্যান্সেট রেস্পিরেটরি; ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথ প্রভৃতি।

সকল ল্যান্সেট জার্নালই অনলাইন ও মুদ্রিত উভয় ভার্সনে পাওয়া যায়। ল্যান্সেট পৃথিবীর ১৫৩টি মেডিসিন বিভাগীয় জার্নালের মাঝে মর্যাদায় দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে।

সম্প্রতি ‘দ্যা ল্যান্সেট’ মেডিকেল জার্নাল বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বিশেষ সিরিজ প্রকাশ করে “বাংলাদেশ: সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চয়তায় প্রগতি” শিরোনামে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অর্জনগুলো উল্লেখপূর্বক ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো হাইলাইট করে ছয়টি প্রতিবেদনপত্র প্রকাশ করে তারা।

এ ছয়টি প্রতিবেদনপত্রের মধ্যে চারটির প্রধান লেখকবৃন্দ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এর সম্মানিত সদস্য। ‘দ্যা ল্যান্সেট’ এর বাংলাদেশ সিরিজটি সংগঠন ও সুবিন্যাস করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও ব্র্যাক।

গত ২১শে নভেম্বর ল্যান্সেট এর বাংলাদেশ সিরিজ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল হামিদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: আ. ফ. ম. রুহুল হক, এডিটর ইন চিফ ড. রিচার্ড হর্টন এবং ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. ফজলে হাসান আবেদ।

সিরিজ স্টিয়ারিং কমিটির সহ সমন্বয়কারী ছিলেন আইসিডিডিআর,বি এর উপনির্বাহী পরিচালক ডা: আব্বাস ভুঁইয়া সহ ব্র্যাক এর ভাইস চেয়ারম্যান ডা: মোশতাক রাজা চৌধুরী। সিরিজটি নিম্ন লিখিত ছয়টি পত্র নিয়ে গঠিত:-

প্রতিবেদন পত্র-১: বাংলাদেশ প্যারাডক্স: অর্থনৈতিক দারিদ্র্য সত্ত্বেও ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য কৃতিত্ব
প্রতিবেদন পত্র-২: বাংলাদেশঃ ভালো স্বাস্থ্যের জন্য মেডিকেল বহুত্ববাদের প্রয়োগ
প্রতিবেদন পত্র-৩: কমিউনিটি ভিত্তিক পন্থা ও অংশীদারিত্বঃ বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরিসেবা প্রদানে নব্যতা
প্রতিবেদন পত্র-৪: বাংলাদেশে সাম্যভিত্তিক শিশু বেঁচে থাকার অর্জন ও ব্যাখ্যা: স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন স্কেল, গতি এবং নির্বাচনশীলতা
প্রতিবেদন পত্র-৫: বাংলাদেশঃ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে স্বাস্থ্যের প্রভাব হ্রাস
প্রতিবেদন পত্র-৬: বাংলাদেশ: সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চয়তায় প্রগতি: একটি কর্মোদ্যোগের আহবান

‘দ্যা ল্যান্সেট’ অনুযায়ী এই ছয় অধ্যায় সিরিজটি পৃথিবীর অন্যতম “বিশ্ব ব্যবস্থার মহান রহস্য” এর দিকে আলকপাত করেছে। শুধু এই অসাধারণ সাফল্য অনুসন্ধানেই নয় বরং সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চয়তায় বাংলাদেশের সম্মুখে অপেক্ষামান চ্যালেঞ্জগুলোও অনুসন্ধান করেছে এই সিরিজ।

এছাড়াও সিরিজটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করে দেখে কীভাবে স্বাস্থ্য সেবায় যৎসামান্য খরচ, একটি দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং ব্যাপক দারিদ্র সত্ত্বেও প্রত্যাশিত আয়ু, টিকা কভারেজ, যক্ষ্মা এবং শিশু ও অনুর্ধ্ব ৫ বছর বয়সীদের বেঁচে থাকায় বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ এখনও ব্যাপক নগরায়ন ও দ্রুত নগরায়ন, ক্রনিক ও অ-সংক্রামক রোগের উত্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে গভীর দারিদ্র্য ও অপুষ্টি সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যার সম্মুখীন। সিরিজ রচয়িতাগণ বাংলাদেশের সার্বজনীন স্বাস্থ্য নিশ্চয়তায়, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি সেকেন্ড জেনারেশন প্রবর্তনের পরিকল্পনা নির্ধারন পূর্বক উপসংহার টানেন।

অনুলিখন : বজ্র কলম

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর