ঢাকা      শুক্রবার ১৭, অগাস্ট ২০১৮ - ২, ভাদ্র, ১৪২৫ - হিজরী

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে ডোপিং কন্ট্রোল অফিসার (ডিসিও) অধ্যাপক ক্লিনফিল্ড জেন্সের সঙ্গে আবদুল মতিন। ছবি: সংগৃহীত সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে ডোপিং কন্ট্রোল অফিসার (ডিসিও) অধ্যাপক ক্লিনফিল্ড জেন্সের সঙ্গে ডা. আবদুল মতিন।

বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার বিশ্বকাপ ডোপিং নিয়ন্ত্রক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক আবদুল মতিন।

ডোপিং পরীক্ষা মানে কোনো খেলোয়াড় নিষিদ্ধ শক্তিবর্ধক ওষুধ, পানীয়, খাবার বা কোনো মাদকদ্রব্য গ্রহণ করেছে কি না, খেলোয়াড়দের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা-ই পরীক্ষা করে দেখা। ডোপিং নিয়ন্ত্রক বিভাগের সদস্যের মধ্যে অন্যতম ডা. আবদুল মতিনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুরে।

রাশিয়ায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী আবদুল মতিনসহ ডোপ নিয়ন্ত্রক বিভাগের চিকিৎসকদের কাজ হলো, খেলোয়াড়দের দিকে কড়া নজর রাখা। সন্দেহ হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা। মতিনদের এ দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক নাম ডোপিং কন্ট্রোল শ্যাপেরন’—সংক্ষেপে ডিসিসি।

এবারের বিশ্বকাপে যে ১১টি স্টেডিয়ামে খেলা হচ্ছে, সেগুলোতে চারজন করে ৪৪ জন এ কাজ করছেন। মতিন আছেন সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে। এখানে তাঁর সঙ্গী ইতালি, নাইজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার তিনজন চিকিৎসক। এ চারজনের নেতৃত্বে আছেন জার্মান ডোপিং কন্ট্রোল অফিসার (ডিসিও) অধ্যাপক ক্লিনফিল্ড জেন্স।

ফিফার ডোপিং কন্ট্রোল বিভাগের সহকারী হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মতিন দেখা পেয়েছেন বিশ্বের সেরা সব খেলোয়াড়ের। নানা কথাও হয়েছে তাদের।

এ প্রসঙ্গে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বাংলাদেশের একটি সংবাদ মাধ্যমকে ডা. আবদুল মতিন বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছি। ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার, মিসরের মোহাম্মদ সালাহ, রাশিয়ার ডেনিস চেরিসভ, আর্জেন্টিনার ওতামেন্দি, নাইজেরিয়ার অবিমিকেলের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।

যেভাবে ডোপ টেস্ট করা হয়

এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুল মতিন বলেন, খেলোয়াড় নির্বাচন হয়ে থাকে দুভাবেসন্দেহজনক মনে হলে কিংবা লটারির মাধ্যমে। আমরা চারজন একজন করে খেলোয়াড়ের জন্য সাইড লাইনে অপেক্ষা করতে থাকি। খেলার শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়দের ডোপ টেস্ট সম্পর্কে বলি। ডোপ টেস্টের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড় কোনোভাবেই নিজেদের ড্রেসিং রুমে যেতে পারেন না। সংবাদ সম্মেলন থাকলেও আমরা সার্বক্ষণিক খেলোয়াড়কে পর্যবেক্ষণে রাখি। তাঁদের রক্ত ও প্রস্রাব সংগ্রহ করে পরীক্ষা করি।  

ডোপিং কন্ট্রোল দলের সদস্য হওয়ার গল্প

২০১৬ সাল। আবদুল মতিন তখনো সেন্ট পিটার্সবার্গের নর্থ-ওয়েস্টার্ন স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী। রাশিয়ায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে ডোপিং নিয়ন্ত্রক বিভাগে লোক নেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই জানেন তিনি। সংশয় নিয়ে আবেদন করেন। ফিফার কাছে জমা পড়ল মতিনের মতো বিশ্বের সাড়ে ২৭ হাজার আবেদনকারীর আবেদন। তার মধ্য থেকে মাত্র ৪৪ জনকে নির্বাচিত করে ফিফা।মতিন তাঁদেরই একজন।

এ প্রসঙ্গে ডা. আবদুল মতিন বলছিলেন, আমাকে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ১০বার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষার বাইরেও বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে স্পোর্টস মেডিসিনের ওপর ডিপ্লোমা কোর্স আমাকে সহায়তা করেছে। যেমন সহায়তা করেছে ২০১৭ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ফিফা ভ্যালেন্টিন গ্রানাটকিন অনূর্ধ্ব-১৮ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং একই বছর কনফেডারেশন কাপে মেডিকেল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা।

ফুটবল খেলতেন মতিন

কৈশোরে স্কুলের ফুটবল দল ছাপিয়ে জেলা পর্যায়েও খেলেছেন আবদুল মতিন। তিনি খেলেছেন বিমান অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে। কিন্তু পড়ালেখা আর পারিবারিক চাপে খুব তাড়াতাড়ি খেলাকে বিদায় জানাতে হবে, ভাবেননি মতিন।

মেডিকেল লাইফের গল্প

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য আবদুল মতিন আবেদন করেন বৃত্তির। ২০০৫ সালে সুযোগ মেলে। উড়াল দেন বরফের দেশে।

২০১২ সালে রাশিয়ার রোস্তভ স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস ও এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৪ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গের নর্থ-ওয়েস্টার্ন স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লিনিক্যাল অর্ডিনাটুরা ইন কার্ডিওলজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। বর্তমানে একই ইউনিভার্সিটিতেই কার্ডিওলজি বিষয়ে করছেন পিএইচডি।

আবদুল মতিনের পারিবারিক জীবন

আবদুল মতিনকে এলাকার মানুষ সেলিম নামে চেনে। বাবা হাফেজ আবদুর রহিম ও মা জোহরা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট মতিন। ২০১৫ সালে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া পড়ছেন ঢাকার শমরিতা মেডিকেল কলেজে। তাঁদের পাঁচ মাসের ছেলের নাম আহনাফ সাফওয়ান।

কাতার বিশ্বকাপেও ডা. আবদুল মতিন!

ডা. আবদুল মতিন জানান, কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের চিকিৎসা দলের সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর। সেখানেও তার দায়িত্বপালনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন-

►রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

►পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এমবিবিএস ভর্তিতে সর্বনিম্ন জিপিএ ৯

এমবিবিএস ভর্তিতে সর্বনিম্ন জিপিএ ৯

মেডিভয়েস ডেস্ক: ২০১৮-২০১৯ সেশনে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি ও…

৪০তম বিসিএসে চিকিৎসকদের জন্যও সুখবর

৪০তম বিসিএসে চিকিৎসকদের জন্যও সুখবর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে।…

আর্মি মেডিকেল কোরে ক্যারিয়ারের সুযোগ

আর্মি মেডিকেল কোরে ক্যারিয়ারের সুযোগ

মেডিভয়েস ডেস্ক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তি…

এবার বগুড়ায় গণধর্ষণের শিকার নার্স

এবার বগুড়ায় গণধর্ষণের শিকার নার্স

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক নার্স গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায়…

আরো ৩টি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আরো ৩টি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে আরো তিনটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করতে যাচ্ছে সরকার।  গত…

ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি নিয়ে রাজধানীতে সেমিনার 

ব্যথামুক্ত নরমাল ডেলিভারি নিয়ে রাজধানীতে সেমিনার 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রসব বেদনার ফলে মায়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন হয়।…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর