ঢাকা      মঙ্গলবার ২৫, জুন ২০১৯ - ১২, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী



আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

নাদিয়া ইসলাম (নিতুল)। পেশাগত জীবনে তিনি একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট)। কিন্তু তার শিল্প, সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা তাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি। এখন তিনি ডেন্টিস্ট পরিচয়ের বাইরে নিজেকে পরিচিত করেছেন রেডিও জকি, ফটোগ্রাফার ও শিল্পী হিসেবে। নিতুল প্রমাণ করে দিয়েছেন পড়াশোনা যাই করুন, আপনি চাইলে আপনার ভালবাসার, ভাল লাগার কাজগুলো আপন করে নিতে পারেন এবং সফলও হতে পারেন। 

আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের বাবা মা শুধুমাত্র ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে উৎসাহিত করেন। নিতুল দেখিয়ে দিয়েছেন একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি দক্ষ হাতে চালিয়ে যাচ্ছেন তার শিল্পীসত্তা, কাজ ও ক্যারিয়ার।

বাবা মো. নুরুল ইসলাম মিয়া ও মা ছন্দা ইসলামের মেয়ে নিতুল ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় কৃতিত্ব দেখান। মতিঝিল গভ. গার্লস হাই স্কুল ও ইস্পাহানী গার্লস কলেজ থেকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে দন্তচিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হোন ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজে। 

রেডিও জকি হয়ে ওঠার গল্প

নিতুল রেডিওতে কাজের শুরু করেন ২০১১ সালে পিপলস রেডিও ৯১.৬ এফএম-এ। সিভি’টা ড্রপ করেছিল নিতুলের বান্ধবী ঝুমা। অডিশনের কলটা পেয়ে কৌতূহলবশত যাওয়া। সিলেক্সন রাউন্ড থেকে ভয়েজ অভার, গ্রুমিং সেশন ৭ হাজার থেকে ১০ জনের মধ্যে চলে আসা দারুন এক জার্নি। অবশ্যই তার অনেক খানি অংশীদার নিতুলের শিক্ষক আর জে মুকুল ভাই। মাইক্রোফোন আর হেড ফোন হয়ে গেল নেশা। কাউকে ফলো করেন না কিন্তু ভাল লাগা থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন কিছু কাছের মানুষের থেকে। তারা হলেন সাদিয়া আপু, অপু ভাই, মুকুল ভাই, শারমিন আপু, রন ভাই। 

৬ বছর ধরে রেডিও ইন্ড্রাস্টিতে কাজ করা নিতুল ইতিমধ্যে কাজ করেছেন তিনটা রেডিওতে যার মাঝে ২০১১ সেপ্টেম্বর-২০১৬ জুলাই পিপলস রেডিও ৯১.৬ এফএম-এ করতেন লাইফ ইজ বিউটিফুল, মিস্ট্রি আনসলভড, ফ্ল্যাশ ব্যাক ক্যাফে, স্ট্রীট ক্যান্ডি, ফল্প শো, জ্যামউইদ হিটস, মিউজিক রিপাবলিক ও ফ্লিম ফ্যানাটিক নামের এই বহুল পরিচিত শোগুলা। 

২০১৬ আগস্ট-২০১৭ আগস্ট রেডিও নেকস্ট ৯৩.২ এফএম-এ কাজ করেছেন। শো এর নাম ছিল মেইড ইন বাংলাদেশ এবং অমঙ্গলের রাত। বর্তমানে কর্তব্যরত আছেন এবিসি রেডিও ৮৯.২ এফএম-এ ও নিতুলের শো এর নাম হাই ওয়ে টু চিল (রুটস এন্ড জনরা অফ মিউজিক)। 

যারা তার মতো আরজে হতে চায় তাদের জন্য নিতুলের পরামর্শ, ‘কাজকে ভালবাসতে জানতে হবে। আর একদিকে ফোকাস হওয়া যাবে না। আরজে মানে মাইক্রোফোনের পিছনে সামনে নয়। কথা দিয়ে মানুষের ভাবনার ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।’ 

এই শিল্পী পড়াশোনাতেও কোনদিকে পিছিয়ে নেই। ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন ও পরবর্তীতে অর্জন করেন ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং (ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি), ২০১২ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির হেল্থ ইকোনমিক্স এন্ড ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স ডিগ্রি। 

ফটোগ্রাফার নিতুল

ফটোগ্রাফার হিসেবেও এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পাঠশালা সাউথ এশিয়ান একাডেমী থেকে ফটোগ্রাফিতে হাতেখড়ি ও পরবর্তীতে কাজ করেছেন ফটোজার্নালিস্ট হিসেবে ডেইলি স্টার, জুমা প্রেস, ফটোফি একাডেমি অফ ফাইন আর্ট ফটোগ্রাফি, ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফার হিসেবে। শিক্ষকতা করছেন মেডিকেল এসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাট্স)-এ একজন এসিসট্যান্ট লেকচারার হিসেবে। 

ভালোবাসার পেশা

চিকিৎসক, রেডিও জকি, ফটোগ্রাফার, শিক্ষক কোন পেশাটা সবচেয়ে বেশি পছন্দ জানতে চাইলে মেডিভয়েসকে নিতুল বলেন, ‘ভালো মানুষ হবার পেশাটা সবচেয়ে বেশি প্রিয় তাতে আমার করা সবগুলো কাজই সমানভাবে সাহায্য করে। এটাই পেশা হোক আজীবন।’ এত কাজ এসব কিছুর পেছনে অনুপ্রেরণাকে জানতে চাইলে হাস্যোজ্জল ভাষায় জবাব মেলে, ‘আমি নিজেই আর আমর কাছের মানুষদের ভালবাসা, আমি পারি না ব্যাপারটা আমাকে উৎসাহিত করে যাতে আমি পারি।’ 

নিতুলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা
পজেটিভ বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করা। ঘোরাঘুরির নেশাটাও প্রচন্ড নিতুলের। বাংলাদেশের ৩২টি জিলা ইতিমধ্যে ভ্রমণ করে আসা এই তরুণ চিকিৎসক ভালোবাসেন বাংলাদেশের আদিম সংস্কৃতিকে। তার প্রবল ইচ্ছা  জাগে বিশ্ববিখ্যাত নানা কনসার্টে যাওয়ার। 

নিতুলের কথা
‘আমার মত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। নিজের মত হওয়ার চেষ্টা করুন। প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব একটা সত্তা থাকে তাকে ভালবাসুন। দেখবেন পুরো পৃথিবী আপনাকে ভালবাসবে। অনুকরণ নয় অনুসরণ করুন।’ 

আরও পড়ুন-

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

►পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ















জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর