১৪ জুলাই, ২০১৮ ০১:৩৮ এএম

রাফার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে তার বাবা!

রাফার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসে তার বাবা!

মেডিভয়েস ডেস্ক: মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক সমাজকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে জারিন তাসনিম রাফা। ভার্চুয়াল জগতে এখন তাকে নিয়ে বইছে শোকের মাতম।  এই রাফাই ছিলেন সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে অত্যন্ত সক্রিয়। অসুস্থতার নিঃসঙ্গ দিনগুলোতে তিনি ফেসবুকেই সব বন্ধুদের সঙ্গে তার দুঃখ-কষ্ট বিনিময় করতেন। 

তার জীবনের শেষ স্ট্যাটাসটি ছিল তার বাবাকে নিয়ে।

গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তার বাবা সম্পর্কে জারিন তাসনিম রাফা ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার বাবাকে (অপারেশন থিয়েটার থেকে) বের করে আনা হয়েছে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি, কাল আমার ট্রান্সপ্ল্যান্ট তাই ডাক্তাররা আমার বাবার সাথে আমাকে দেখা করিয়েছেন। আমার বাবা পুরো ফ্যাকাশে, কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, এর মধ্যেও বলছে ‘আমি খুব সুস্থ, একদম ভালো।’

‘আমি আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। বাবা বুঝি এমনই হয়। যে বাবার বুকে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছি, সেই বাবা জীবন বাজি রেখেছে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য।’

‘আল্লাহ তুমি আমার বাবা-মাকে হায়াত দাও! এই দুটো মুখ যেন চিরদিন দেখতে পাই।’

তার এ স্ট্যাটাসটিই ছিল জীবনের শেষ স্ট্যাটাস। 

তার এ স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও রাফার শিক্ষিকা নিবেদিতা আইচ তাকে সান্তনা দিয়ে লেখেন, ‘রাফা, সব ভালো হবে। কাল খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন, তোমাদের এখন মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে। অনেক দোয়া রইলো।’

রাফার ওই স্ট্যাটাসে ৮শতাধিক লাইক, কমেন্ট পড়ে। কমেন্টের বেশিরভাগই তাকে উৎসাহ দিয়ে লেখা, সবাই তাকে মনের জোর বাড়ানোর বিষয়ে প্রেরণা দিয়েছেন। 

এর আগের স্ট্যাটাসটিও ছিল তার বাবাকে নিয়ে। জারিন তাসনিম রাফা একই দিন (২৭ জুন) বিকাল ৫টার দিকে ফেসবুকে লেখেন,  ‘আমার বাঁচার দরকার নাই, মরে গেলে গেলাম। কোন দরকার ছিলো না আমার বাবাকে এতটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলার। আমার বাবা একজন সুস্থ মানুষ আমার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিলো। ডা. বলেছিলেন ডোনারের কোন ঝুঁকি থাকবে না, কিন্তু এখন তেমন লাগছে না। সকাল ৮ টা থেকে এখন পর্যন্ত আমার বাবা ওখানে, তার অবস্থা ভাল না, আমি আর এই কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। আল্লাহ! একটু রহম করো।’

ওই দিন সকাল ৮টায় স্টেম সেল সংগ্রহ করার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে তাকে বের হয়। এর আগে তিনি চার দিন ধরে ৩টা করে ইনজেকশন নেন। ব্যাথার জন্য তার শরীরে জ্বরও উঠে। তিন নিজেও একজন হার্টের রোগী। কিন্তু মেয়ের জীবন বাঁচাতে জীবনের শেষ চেষ্টা হিসেবে নিজেকে এতটা কষ্ট সহ্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, আদ দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফা মরণঘাতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় দিল্লির বি এল কাপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। 

গত ২১ মে মেডিভয়েস অনলাইনে রাফাকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্যান্সারে আক্রান্ত মেডিকেল ছাত্রীর খোলা চিঠি’ শিরোনামে রাফাকে নিয়ে ওই সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে এ সংবাদটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয় 

দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজের সদস্যবৃন্দ, চিকিৎসক সমাজের দর্পণ "প্ল্যাটফর্ম" এর সহযোগিতায় তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা হয়। পরে গত ১১ জুন তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের দিল্লিতে যান।

সবাই যখন প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিলেন সুস্থ হয়ে ফিরবে রাফা। আবার হাসিমুখে ছুটে বেড়াবে মেডিকেল ক্যাম্পাসে। ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা নিজেকে নিয়োজিত করবে অকৃত্রিমভাবে। কিন্তু সে আশা পূরণ হলো না। তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আরও পড়ুন-

►বনশ্রী কেন্দ্রীয় মসজিদে রাফার জানাযা শনিবার

►যে রোগে আক্রান্ত হয়ে রাফার জীবনাবসান

►‘জান্নাতের পাখি হয়ে ভালো থাকুক রাফা’

►মেডিকেল শিক্ষার্থী রাফা আর নেই

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি