ঢাকা      মঙ্গলবার ২৩, অক্টোবর ২০১৮ - ৮, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

ডা. সুবর্ণ শামীম আলো। একজন মেধাবী চিকিৎসক। লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ৩৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন মেধাবী এ নারী। এই অদম্য নারী চিকিৎসক ২০০৪ সালে কুমিল্লা কলাগাছিয়া এম.এ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এইচএসসিতে ভর্তি হন ঢাকার ভিকারুননিসা নুন কলেজে। 

বাবা হোমনা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক মোল্লা ও মা নাজমা বেগমের মেধাবী মেয়ে সুবর্ণ শামীম আলো কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি  পাশ করে ২০০৭ সালে চান্স পান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৩৬ তম ব্যাচে। সেশন ২০০৭-২০০৮।

পড়াশোনা করতে ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো লাগতো আর মেডিকেলের কিছু বন্ধুর অনুপ্রেরণা আর সাহায্য তার  মেডিকেলের যাত্রাকে আরও সহজ করেছে। যাদের মধ্যে পিংকি, রুমু, ঝুমু উল্লেখযোগ্য।

২০১৩ সালে দক্ষতার সাথে এমবিবিএস পাশ করেন সুবর্ণ। সলিমুল্লাহ হাসপাতাল থেকে ২০১৪ সালের মে মাসে ইন্টার্নি শেষ করেন তিনি।  শুরু হয় চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার সুবর্ন’র পথ চলা।  

মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি এফসিপিএস এর পড়াশোনা শুরু করেন ও ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে পেডিআাট্রিক্স (শিশু রোগ  বিশেষজ্ঞ) বিষয়ে এফসিপিএস পার্ট ১পাশ করেন। শুরু হয় মিডফোর্ট হাসপাতালে তার ৬ মাসের ট্রেনিং। 

এবার ডা. সুবর্ণ শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। এর সাথে নতুন সাফল্য যোগ হলো বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়), পিজিতে এমডি রেসিডেন্সিতে চান্স পাওয়া। শুরু হলো তার ট্রেনিং ।  এই মার্চে ২ বছর হলো ট্রেনিংএর। 

এর মাঝে একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় নতুন দিকে ধাবিত হয়। তা হলো ৩৬ তম বিসিএস এ  পররাষ্ট্র ক্যাডারে সারা বাংলাদেশে প্রথম হওয়া। 

চিকিৎসক স্বামীর প্রেরণায় সফলতা: প্রতিটা নারীর সফলতার পেছনে একজন ভালো, বন্ধুসুলভ অনুপ্রেরণা ও সাহায্যদানকারী জীবনসঙ্গী অনেক বেশি দরকার। ডা. সুবর্ণের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

ডা. সুবর্ণের জীবনসঙ্গী ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার ডা. আশিকুর রহমান খান। তিনি নিজেও ৩০ তম বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস পাশ করা মেধাবী চিকিৎসক। স্ত্রীর মেধার পরিচর্যা বা মূল্যায়ন করেছেন সব সময়। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন তিনি।

‘মূলত হাসব্যান্ডের অনুপ্রেরণাতেই আমার বিসিএসের জন্য পড়া শুরু। অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি তার থেকে। আজ আমার বিসিএসে প্রথম হওয়ার পেছনে তার ভূমিকা অনেক বেশী।’ বললেন ডা. সুবর্ণ। 

চিকিৎসক হয়েও কেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে?

নিজে চিকিৎসক কিন্তু কেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে এই প্রশ্নের জবাবে ডা. সুবর্ণ  বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট হিসেবে কাজ করা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত নারী যা দেখে অনেক বেশী উৎসাহ পেয়েছি আমি।

তিনি বলেন, আমরা চিকিৎসকরা বাংলাদেশে কতটা পরিশ্রম করে চিকিৎসক হই ও তার পরে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে যতটা কঠিন পথ অতিক্রম করি তা একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি;  কিন্তু বিনিময়ে চিকিৎসকরা যথার্থ মর্যাদা পান না। তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায় হয় না। কারণ চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া ও তাদের কথা উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানোর মতো কেউ নেই। তাই মনে হয়েছে কারও এগিয়ে আসা উচিত। পররাষ্ট্র ক্যাডার হওয়া আমার ইচ্ছাপূরণকে সহজ করবে বলে আমি আশাবাদী। এর মাধ্যমে আমি  দেশকে বহিঃবিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। ’

অত্যন্ত আবেগ নিয়ে কথাগুলা বলছিলেন ডা: সুবর্ণ শামীম আলো।

যেভাবে বিসিএস প্রস্তুতি

পড়াশোনার পন্থা ও কিভাবে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়েছিলেন জানতে চাইলে ডা. সুবর্ণ জানান, তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থী হওয়ায় নিয়মিত পড়ার অভ্যাস আছে তার। এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে। নিজের সর্বোচ্চ পরিশ্রমটুকু করেছেন। সকাল-বিকাল হাসপাতালে ডিউটি করে দিনে পড়ার সময় পেতেন না। রাতে টানা ৫-৬ ঘন্টা পড়েছেন। চেষ্টা করেছেন সব বুঝে বুঝে পড়তে আর নিয়মিত পড়েছেন। কোন কোচিং অথবা কোথাও পড়েননি তিনি। যতটুকু সাহায্য পেয়েছেন পড়ায় তা স্বামী ডা. আশিকুর রহমানের থেকে।  অধ্যবসায়, পরিশ্রম আর দৃঢ় ইচ্ছার জন্য সম্ভব হয়েছে ভালো ফল করার।

স্ত্রী সারা দেশের সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথম অনুভূতি জানতে চাইলে ডা. আশিক বলেন, ‘ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না কতটা খুশি আমি। গর্বিত স্বামী আমি। আজ স্ত্রীর পরিচয়ে সারা দেশের মানুষ আমাকে চিনছে। কয়জন হাসব্যান্ড এতটা সৌভাগ্যবান হোন? নিজে প্রথম হলেও হয়তো এত খুশি লাগতো না। ’ 

মেয়েদের উদ্দেশে  মেধাবী নারী ডা. সুবর্ণ  শামীম আলো বললেন, ‘আমরা নারীরা অনেক শক্তিশালী। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে মেয়েরা সব পারবে।’ 

আরও পড়ুন-

বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নারীদের পাশে ডব্লিউএসআইএফ 

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নারীদের পাশে ডব্লিউএসআইএফ 

মানসিক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। শারিরীক সুস্থতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মানসিক সুস্থতাও…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর