ঢাকা      বুধবার ২১, নভেম্বর ২০১৮ - ৭, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী

গৌরবের ৭৩ বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ

মেডিভয়েস ডেস্ক: আজ ১০ জুলাই, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ থেকে ৭২ বছর আগে আজকের এই দিনে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল কালেজ। 

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ। মেডিকেল কলেজটি বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবন নগরীর কেন্দ্রস্থলে শহীদ মিনার ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে অবস্থিত। 

১৭৫৭ সালে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখলের প্রায় একশ বছর পর ১৮৫৩ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার একশ বছরেও এ অঞ্চলে আর কোন মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়নি। মধ্যবর্তী এ দীর্ঘ সময়ে কিছু মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। 

১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল স্কুল যা পরে মিটফোর্ড হাসপাতালের সাথে মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল (যা বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ), ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট মেডিকেল স্কুল। পূর্ববঙ্গে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে নিতে চলে আসে ১৯৩৯ সাল। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল তদানীন্তন বৃটিশ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করে। যুদ্ধের ডামাডোলে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রস্তাবটি ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ অবশেষে আলোর মুখ দেখে। 

বৃটিশ সরকার উপমহাদেশের ঢাকা, করাচি ও চেন্নাইয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উপলক্ষে ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন এবং অত্র অঞ্চলের প্রথিতযশা নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করেই ১০ জুলাই ১৯৪৬ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু হয়। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ গঠনের প্রাক্কালে স্থাপিত কমিটির প্রধান ডব্লিউ জে ভারজিন এর উপরেই ন্যস্ত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালনার গুরুদায়িত্ব। শুরুতে এনাটমি ও ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্ট না থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুলে ক্লাস করতে হত। একমাস পর এনাটমি বিভাগের অধ্যাপক পশুপতি বসু এবং ফিজিওলজি বিভাগে অধ্যাপক হীরালাল সাহা শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর হাসপাতালে ২২ নং ওয়ার্ডে ক্লাস শুরু হয়। তখন ছিল না কোন লেকচার গ্যালারি বা ডিসেকশান হল। ১৯৫৫ সালে কলেজ ভবন স্থাপনের পর সেই অভাব পূরণ হয়।

এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষাদানের পথিকৃতেরা ছিলেন ফরেনসিক মেডিসিনের ডা. এম হোসেন, ফার্মাকোলজি বিভাগে প্রফেসর আলতাফ আহমেদ, প্যাথলজি বিভাগে প্রফেসর আনোয়ার আলী এবং ডা. কাজী আবদুল খালেক, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় প্রফেসর হাবিব উদ্দিন আহমেদ ও প্রফেসর হুমায়রা সাঈদ, মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক নওয়াব আলী ও প্রফেসর মো. ইব্রাহীম, সার্জারি বিভাগে প্রফেসর মেজর এফ ডব্লিউ এলিসন, প্রফেসর ই ভন নোভাক, লেঃ কর্নেল গিয়াস উদ্দিন এবং প্রফেসর আমির উদ্দিন প্রমুখ।

কলেজটিতে বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে প্রতি বছর ১৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। বর্তমান শিক্ষার্থী ১০৫০, পোস্ট গ্রাজুয়েশন ৯০০জন। মেডিকেল কলেজটি থেকে এমবিবিএস, এমডি, এমএস, এমফিল/ডিপ্লোমা, এফসিপিএস এই ৫টি কোর্সে পড়াশুনার সুযোগ রয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কোর্স আছে ৩৯ টি। আর স্নাতকোত্তর কোর্সে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৯০০। কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। বর্তমানে কলেজটির অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ২৫ টি ডিপার্টমেন্ট,৪৮ ইউনিট এবং ৪৫ টি ওয়ার্ড রয়েছে। ৫৬০ জন নার্স এবং স্টাফের সংখ্যা প্রায় ১১৩৭ জন। ওয়ার্ড, ইউনিট এবং কেবিনে বেডের সংখ্যা ১৭০০। সাধারন বেড ১৪৪১টি, উন্নত বেড ১৪৩টি, ডাবল কেবিন ৪৩টি এবং সিঙ্গেল বেডের সংখ্যা ৩০টি। প্রায় ২৩৪ জন সিনিয়র চিকিৎসকের পাশাপাশি বিভিন্ন স্নাতকোত্তর কোর্সের চিকিৎসকগন এবং কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিয়োজিত আছেন।

এখানে ইনডোর এবং আউটডোর দুইভাবেই রোগীদের সেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ রোগীকে আউটডোরে সেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালের পরিচালক হিসাবে দায়িত্বরত আছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এই ঐতিহ্যবাহী মেডিকেল কলেজটি মানবসেবার মহানব্রতে চিরদিন উজ্জ্বল থাকুক। মেডিভয়েস পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই শুভ জন্মদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান

নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সব রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার বিষয়কে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার…

মায়ের পেট থেকে জন্মপথ খুঁজে পায় না যে শিশু!

মায়ের পেট থেকে জন্মপথ খুঁজে পায় না যে শিশু!

দুদিন যাবৎ টিভি খুললেই একটা নিউজ বেশ বড় করে দেখতে পাচ্ছি, 'জমজ শিশুর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর