ঢাকা      মঙ্গলবার ১৭, জুলাই ২০১৮ - ১, শ্রাবণ, ১৪২৫ - হিজরী

থাইরয়েড চিকিৎসায় নতুন কিছু নিয়ে আসব: ডা. ফজলুল বারী

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফেডারেশন অব সোসাইটি ফর আলট্রাসাউন্ড মেডিসিন এন্ড বায়োলজি (আফসাম) এর পক্ষ থেকে বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ব্রোঞ্জ পদকে ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. একেএম ফজলুল বারী। সেখানে ৪২৬টিরও বেশি প্রবন্ধের মধ্যে তার প্রবন্ধটি বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পায়।

দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা, নিউক্লিয়ার মেডিসিনের বাংলাদেশে সম্ভাবনা ও ক্যারিয়ারের সুযোগসহ চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তাসহ নানা বিষয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন মেডিভয়েসের সঙ্গে। পড়ুন তার একান্ত সাক্ষাৎকার।

 

মেডিভয়েস: আপনি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সম্প্রতি একটা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন এজন্য মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। আপনার গবেষণার বিষয়টা কী ছিল?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: ধন্যবাদ। আমার গবেষণার বিষয় ছিল রেনাল ডপলার। এটা হচ্ছে আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অর্থাৎ রেনাল ডপলারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ সম্পন্ন যে বাংলাদেশি রোগীরা আছেন সেই রোগীদের কত পার্সেন্ট স্টেনোসিসের জন্য হয়ে থাকে সেটা ডিটেক্ট করা।

আর বাংলাদেশে এই স্টেনোসিসের ডিটেক্টশন করতে গিয়ে আমি দেখতে পাই যে, শতকরা ৫.৬ ভাগ হাইপারটেনশন রোগী স্টেনোসিসের কারণে রেনাল ডিজিজে ভুগছেন। এটা বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটা শতকরা ২-৩ ভাগ। এটা অত্যন্ত সহজে ও কম খরচে করা যায়। কারণ এই রেনাল স্টেনোসিস ডিটেকশনের জন্য অন্যান্য যে পদ্ধতিগুলো আছে সেগুলোর অনেক খরচ এবং এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে । এই ম্যাথডের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকার কারণে খুব সহজে আমরা রেনাল স্টেনোসিস ডিটেকশন করতে পারি।

 

মেডিভয়েস: অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা বলুন।

ডা. একেএম ফজলুল বারী: আমি প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমার রিসার্চ প্রেজেন্ট করতে যাই। এছাড়া আমি যুক্তরাষ্ট্র, দিল্লী, তাইওয়ান, জাপান,কোরিয়া থেকে ট্রেনিং নিয়েছি। সর্বশেষ গত ২৩ থেকে ২৬ মে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ফেডারেশন অব সোসাইটি ফর আলট্রাসাউন্ড মেডিসিন এন্ড বায়োলজির (আফসাম) ১৩তম কংগ্রেসে পৃথিবীর ৪৪টি দেশের ১৭৯৫ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ৪২৫টিরও অধিক প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। আমি সেখানে প্রথম হই।

আমার প্রবন্ধ সেখানে আন্তর্জাতিক বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছে। এজন্য আমি আমাদের ডাক্তার সমাজকে আহ্বান করব আপনারাও লেখেন। আমার লেখার বয়স ২০ বছর। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি দীর্ঘদিন সাধনা করার পর আন্তর্জাতিক বেস্ট অ্যাওয়ার্ড ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছি। এটা পাওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এবং বাবা-মা সহ যারা আমার সাথে ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

মেডিভয়েস: বর্তমানে কী নিয়ে কাজ করছেন?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: আপনারা জানেন প্রতি বছর আমি নতুন কিছু রিসার্চ করে থাকি। এখন আমাদের রিসার্চ চলছে আরলি এনোমেলি স্ক্যান অর্থাৎ শিশুর মার্তৃগর্ভে যে সমস্যাগুলো হয়ে থাকে, শিশুদের যে জন্মগত ত্রুটি হয়ে থাকে সেগুলো আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ডিটেকশন করা।

গর্ভবতী মায়েদের আমরা এই পরীক্ষাগুলো করে থাকি। এছাড়া আপনারা জানেন যে, ২০১৬ সালে আমার প্রবন্ধ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন মেডিসিন এন্ড বায়োলজি (ওফাম) তে গৃহীত হয়। এবং সেটা ছিল যে, থাইরয়েড ক্যান্সার নির্ণয়ে ইলাস্ট্রোস্ক্যানের ভূমিকা বিষয়ক।অর্থাৎ ইলাস্ট্রোস্ক্যানের মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সার শনাক্ত করা কতটুকু করা সম্ভব সে বিষয়ে।সেখানে আমরা রিসার্চের মাধ্যমে পেয়েছি প্রায় ৯০ ভাগ ক্যান্সার আমরা শনাক্ত করতে পারি ইলাস্ট্রোস্ক্যানের মাধ্যমে। আর ৯০ ভাগ ক্যান্সার হিস্টোপ্যাথলজিক্যালি প্রমাণ করেছি যে, এটা সম্ভব।

এছাড়া ২০১৭ সালে জাপানের কিয়েটোতে আফসানের যে সম্মেলন হয়েছিল সেখানে আমার আরেকটি প্রবন্ধ ছিল। সেটা হচ্ছে`রোল অব ইলাস্ট্রোস্ক্যানের টু ডিফারেন্সিয়েট বিনাইন ফ্রম ম্যালিগন্যান্ট থাইরয়েড লেসন্স এন্ড কোরিলেশন উইথ হিস্টোপ্যাথলজি’ ।

এ বিষয়ে বর্তমানে আমাদের কিছু রিসার্চ চালু আছে। আর আমরা থাইরয়েড চিকিৎসার জন্য নতুন কিছু জিনিস বাংলাদেশে নিয়ে আসব। আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

 

মেডিভয়েস: আপনি নিউক্লিয়ার মেডিসিনের শিক্ষকতা করছেন। এ বিষয়ের বাংলাদেশে সম্ভাবনা কেমন? বাইরে ক্যারিয়ারের সুযোগ কেমন?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: এটা হাইটেক একটা মেডিসিন সায়েন্স। এখানে নিউক্লিয়ার টেকনোলজি নিয়ে ডিল করা হয়। এখানে অনেক কিছু আছে। যেমন ধরুন আমরা ইনভেস্টিগেশন করি সেই সাথে চিকিৎসাও দিয়ে থাকি।

বিশেষ করে যারা থাইরয়েডে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা এই নিউক্লিয়ার টেকনোলজিতে হয়ে থাকে। এবং থাইরয়েড বা হাইপার থাইরয়েড চিকিৎসা রেডিও আয়োডিন দিয়ে আমরা করে থাকি। থাইরয়েড ক্যান্সারের রেডিও আয়োডিন এর মাধ্যমে আমরা যে চিকিৎসা করে থাকি সেগুলো নিউক্লিয়ার মেডিসিনের অন্তর্গত।

এছাড়া আছে কালার ডপলার আলট্রাসাউন্ড ডিভিশন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিনমাস আছে সেখানে নরমাল আলট্রাসাউন্ড এর সাথে ২০০৩ সাল থেকে ডপলার সংযুক্ত করা হয়েছে। এটা একটা আধুনিক পদ্ধতি।

এছাড়া ২০১৬ সালে ২ আগস্ট আমার হাত ধরেই নিনমাসে ক্যান্সার নির্ণয় আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান শুরু হয়েছে। এবং আমরা আরলি এনোমেলি স্ক্যান শুরু করছি। ফোর-ডি আলট্রাসাউন্ড শুরু করেছি। এটা জাতীর জন্য এবং ডাক্তারদের জন্য একটা সুখবর। আপনারা এ সুবিধাগুলো নেবেন।

মেডিভয়েস: যারা এ বিষয়ে ক্যারিয়ার করতে চায় তাদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: আপনারা যদি এ বিষয়ে ক্যারিয়ার করেন তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক প্রসেস বা ইনস্ট্রুমেন্টগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। যেমন আমাদের ডিপার্টমেন্টে রয়েছে স্প্যাক্ট - যেটা ফাংশনাল স্টাডি করা যায়। পেট এবং পেট সিটি - বাংলাদেশে যেটার একটা মেশিন কাজ করছে। আরো দুটা মেশিন ইনস্টল হচ্ছে এ বছরই। যার মাধ্যমে আমরা ক্যান্সার সুনিপুণভাবে নির্ণয় করতে পারব। রোগীদের ফলোআপ ট্রিটমেন্ট এবং পরে যে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় সেগুলো অত্যন্ত কম খরচে আমাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সায়েন্সে আমরা করে থাকি।

 

মেডিভয়েস: এখানে কী কী বিষয়ে সেবা দেয়া হয়? দেশের আর কোথায় এ ধরনের সেবা দেয়া হয়?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। এখানে আমাদের সাতটা বিভাগ আছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিভাগ হলো, থাইরয়েড বিভাগ। এখানে থাইরয়েডের সকল ধরনের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়া রয়েছে, গামা ডিভিশন, স্পেক্ট ডিভিশন, আলট্রাসাউন্ড এন্ড কালার ডপলার ডিভিশন। প্রত্যেকটা ডিভিশনে রোগীদের চিকিৎসা এবং পরে ফলোআপ করা সম্ভব। নিনমাস ছাড়াও ১৮টি মেডিক্যাল কলেজে আমাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমার সরকার আরো আটটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই কাজও শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে অারো পরিকল্পনা রয়েছে।

 

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: অবশ্যই পরিকল্পনা আছে।  আপনারা জানেন, বাংলাদেশে ‘দি থাইরয়েড সেন্টার’ আমার প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশ তথা এশিয়ায় প্রথম থাইরয়েড সেন্টার।  এখানে থাইরয়েডের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়া হচ্ছে।  এটার কার্যক্রম ২০০৩ সালে শুরু হয়।

২০০৭ সালে এটার কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়। এখন ধানমণ্ডিতে বিশাল পরিসরে থাইরয়েডের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এই সেন্টারের একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠান আছে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব থাইরয়েড এন্ড ইমাজিং রিসার্স’ (বিটমির)। এখানে এমবিবিএস এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করা যে চিকিৎসক আছে তাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

এখানে আলট্রাসাউন্ড, ইলাস্টোস্ক্যান, ডপলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আপনারা এর সুযোগ সুবিধা নিতে পারেন। আমাদের রয়েছে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল আলট্রাসাউন্ড কোর্স (এক বছর), কালার ডপলার সার্টিফিকেট কোর্স (তিন মাস), ফোর-ডি আলট্রাসাউন্ড কোর্স (তিন মাস)।

আমরা ‘এমএসসি ইন মেডিকেল আলট্রাসাউন্ড’ কোর্স শুরু করছি এ বছরই। ইতোমধ্যেই আমি রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি এবং লেজারের মাধ্যমে নন সার্জিক্যাল অপারেশন কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেটার মূল বিষয় ছিল, যখন লিভার ক্যান্সারের অপারেশন করা হয় তখন একটা রোগীর তিন মাস সার্ভাইভাল থাকে। যদি আমরা রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি এবং লেজার এবলিয়েশন করি, টিউমারটাকে বার্ন করে দিই সেক্ষেত্রে রোগী ১০ বছরের জন্য নিরাপদ থাকবে।

বাংলাদেশে প্রথম ‘দি থাইরয়েড সেন্টার’ এটা শুরু করতে যাচ্ছে। এছাড়াও আমি থাইরয়েড টিউমার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখানে দুধরনের টিউমার থাকে বিনাইন এবং ম্যালিগন্যান্ট। বিনাইনকে আমরা সহজেই বার্ণ করতে পারি রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি এবং লেজারের মাধ্যমে। এছাড়া কিছু কিছু ক্যান্সার আছে যেগুলো অপারেশন করা যায় না। সেগুলো আমরা বার্ণ করতে পারি।

এই প্রক্রিয়াগুলো আমরা সরকারি লেভেলেও যুক্ত করতে চাই। বিশেষ করে নিনমাসে। মানুষ যাতে অল্প মূল্যে সেবা পায়। এটা কাটা-ছেঁড়া ব্যাতিত একটা চিকিৎসা পদ্ধতি।

 

মেডিভয়েস: ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক হওয়া উচিত?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: কথায় আছে, ডাক্তাররা সেকেন্ড গড। এ কারনে একজন ডাক্তারের উচিত খুব ভালোভাবে রোগী দেখা। একটা রোগীকে তার কথাগুলো বলতে দেয়া উচিত, সময় নিয়ে দেখা উচিত এবং বিবেচনা করে একটা ব্যাবস্থাপত্র দেয়া উচিত।ডাক্তারদের সহনশীল হওয়া জরুরী।

অপরদিকে রোগীদের উচিত ডাক্তারদের একটু সুযোগ করে দেয়া। যাতে আমরা সহজে চিকিৎসা দিতে পারি। প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সাধারণ মানুষেরও একটা কর্তব্য আছে। তাদের উচিত হলো, ডাক্তারদের সময় দেয়া, তাড়াহুড়া না করা, নিয়ম মানা।

মেডিভয়েস: বর্তমানে ডাক্তারদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ হতে যাচ্ছে এ বিষয়টাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ডা. একেএম ফজলুল বারী: আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থা আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে একটু আলাদা। এমবিবিএস করার পর দীর্ঘ একটা সময় লাগে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। পৃথিবীর কোথাও এত সময় লাগে না।

আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় যারা জড়িত তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ যে, মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যাবস্থাকে কিভাবে আরো যুগোপযোগী করা যায় এবং ডাক্তারদেরকে আরেকটু সুযোগ সুবিধা দিয়ে কিভাবে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় তার পরিকল্পনা করা। এটা করতে হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে।

এখন অনেক আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা চলে আসছে যেগুলোতে এত সময় প্রয়োজন হয় না। এগুলো ঢেলে সাজানো দরকার। ডাক্তারদের অবশ্যই ছুটি দেয়া প্রয়োজন। কারণ ছুটি না দিলে তারা নিজেদের এগিয়ে নিতে পারবে না।

আমাদের দেশ থেকে অসংখ্য রোগী বিদেশে চলে যায়। এটা রোধ করতে হলে আমাদের ডাক্তারকে অবশ্যই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। বাংলাদেশ একটা জনবহুল দেশ। সে তুলনায় ডাক্তার কিন্তু অনেক কম। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডাক্তার তো খুবই কম। সেক্ষেত্রে এ সকল ডাক্তার যদি বাড়ানো যায়, প্রত্যেকটা মেডিক্যালে যদি এ কোর্স যুক্ত করা যায়, এমবিবিএস করার সাথে সাথেই যদি আমরা এই কোর্সে ঢুকে যেতে পারি তাহলে শুধু ডাক্তাররাই নন সাধারণ মানুষেরও উপকার হবে। রোগীরা ভালো চিকিৎসা পাবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডাক্তারদের পাঠাতে পারবো।আমাদের সরকার ইতোমধ্যেই ডাক্তারদের প্রশংসা করেছেন কারণ তারা গ্রামে যেতে চায়। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি আশা করছি।

 

মেডিভয়েস: তরুণ ডাক্তারদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

ডা. একেএম ফজলুল বারী: আমাদের তরুণ ডাক্তারদের সংখ্যা এখন বেশি। প্রতিবছর আমাদের মেডিক্যাল কলেজগুলো থেকে প্রায় দশ হাজার করে ডাক্তার বের হচ্ছে। এই ডাক্তারদের আমাদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। তা না হলে তারা বিদেশে চলে যাবে। আমাদের দেশে পড়াশোনা করে তারা বিদেশে চলে যাবে এটা কাম্য নয়।

আপনারা এমবিবিএস করার পর পরই দুটো কাজ করবেন, এক. পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন; দুই. আলট্রাসাউন্ড, কালার ডপলার টেকনোলজি কোর্স। আলট্রাসাউন্ডের প্রথম টেক্সট বই ‘আলট্রাসাউন্ড এন্ড কালার ডপলার ইন মেডিক্যাল সাইন্স’ এটা আমার লেখা। বাংলাদেশে এটিই প্রথম টেক্সট বই। ক্লিনিশিয়ানদের জন্য খুবই ভালো একটা বই। বইটি দেশে ও বিদেশে জনপ্রিয়। বইটি আলট্রাসাউন্ড শেখার জন্য যথেষ্ট। তরুণ সমাজকে আহ্বান করবো ‘বিটমির’ তে আসার জন্য।

 

মেডিভয়েস: মেডিভয়েস সম্পর্কে কিছু বলুন।

ডা. একেএম ফজলুল বারী: মেডিভয়েস একটা সুপরিচিত মেডিক্যাল মুখপত্র। এটা ডাক্তারদের বিভিন্ন বিষয় যেভাবে তুলে ধরছে সেজন্য তাদের ধন্যবাদ। তবে আমার মনে হয় মেডিভয়েসের দুটো বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া দরকার। এক. তরুণ ডাক্তারদের উৎসাহিত করা। দুই. মেডিক্যাল সেক্টরের ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রবন্ধ, বক্তব্য তুলে ধরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

ডা. সুবর্ণ শামীম আলো। একজন মেধাবী চিকিৎসক। লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে…

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

টিভি উপস্থাপিকা ডা. মলির সাফল্যগাঁথা

ডা. এসএম মলি রেজা। পেশায় চিকিৎসক এই নারী টিভি পর্দার সামনে ও পেছনে কাজ…

রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

রেডিও জকি ডা. নিতুলের জীবনের গল্প

নাদিয়া ইসলাম (নিতুল)। পেশাগত জীবনে তিনি একজন দন্তচিকিৎসক (ডেন্টিস্ট)। কিন্তু তার শিল্প,…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর