নাহিদ হাসান

নাহিদ হাসান

শিক্ষার্থী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ


০৯ জুলাই, ২০১৮ ১২:০৩ এএম

মীরার গল্প

মীরার গল্প

মিনা খালাকে দেখতে যাচ্ছি। খালার জন্য খুব মায়া হচ্ছে। আমি জানি তাঁর চোখের নিচে কালি পড়েছে, মুখ শুকিয়ে এতোটুকু হয়ে গেছে। এলোমেলো চুল কতদিন আঁচড়ানো হয়নি কে জানে!

কপালে হয়তো বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অথচ কত প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন তিনি। একসময় ফুলবাড়ি ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করতেন। খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করতেন। সারাদিন ডুবে থাকতেন গল্পের বইয়ে। জানালার ধারে, ছাদের কার্নিশে, রান্নাঘরের আদাহলুদের বাটির পাশে বই থাকতো। রান্না শেষ করে গোসল করতেন। সুন্দর করে শাড়ি পরতেন। চুল গুছিয়ে ক্লিপে আটকিয়ে বই নিয়ে বসতেন। পড়তে পড়তে একা একা হাসতেন, কাঁদতেন।

আমার গল্পের বই পড়তে ভালো লাগতো না। আমি বিকালে খেলতে যেতাম মাঠে। ছুটে আসা বলের পাশাপাশি আমার আগ্রহ ছিল ভিন্ন দিকে। মাঠের পাশে মীরাদের বাড়ি। সেই বাড়িটার জন্য মাঝে মাঝে প্রতিপক্ষের রান সংখ্যা বেড়ে যেতো। আমার মিসের জন্য দলের অন্য ছেলেরা বিরক্ত হতো। হোক, আমি ওসব গায়ে মাখি না। 

মীরা আর আমি একই কলেজে পড়ি। বাজারের ওপর তার বাবার কনফেকশনারীর দোকান আছে। ভদ্রলোক খেলাধুলা পছন্দ করেন। সে সুবাদে আমার সঙ্গে ভালো পরিচয়। দোকানে গেলে জিজ্ঞেস করেন ‘মীরা পড়াশুনা কেমন করে?’ 

তিনি মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করতে চান, নিজের পায়ে দাঁড় করাতে চান ইত্যাদি নানা কথা বলেন। ক্লাসে মীরার সঙ্গে আমার কথা হয়না। মাঝে মাঝে চোখে চোখ পড়ে গেলে আমরা দুজনে খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি।

বিকালে দরজায় চৌকাঠ ধরে মীরা এসে দাঁড়ায়। আমাদের খেলা দেখে। কোনদিন পুকুরের ধারে বাড়ির আবর্জনা ফেলে যায়। পিঁড়িতে বসে প্রতিবেশী কেউ তার চুলে বেণী করে দেয়। আমি বলের পেছনে ছুটতে ছুটতে মীরাকে দেখি। কোন কোনদিন ওদের বাড়ির মধ্যে ছক্কা হয়। আমি তাকে বলটা নিয়ে এসে দিতে বলি। সে দিনে দিনে সহজ হতে থাকে। আমরা একসাথে কোচিং করতে যাই।

নিচতলায় আমি ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং করি আর সে তৃতীয় তলায় মেডিকেল কোচিং। ক্লাস শেষে আমি বিল্ডিং এর নিচে দাঁড়িয়ে থাকি। সে নামে সবার শেষে। আমি একটু বিরক্ত হই। ‘আর একটু আগে বেরুলে কি হয়?’ সে কিছু বলে না, হাসে। 
আমরা একসাথে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরি। অনেক গল্প হয়। আমি আমার স্বপ্নের কথা বলি। তার স্বপ্নের কথা শুনি। সে কোচিং এ কম নাম্বার পেলে আমি কষ্ট পাই। আমার কষ্ট পাওয়া দেখে সেও কষ্ট পায়। আমরা একজনের দুঃখে অন্যজন দুঃখী হতে থাকি।

ইতোমধ্যে মিনা খালা অসুস্থ হয়ে পড়েন। লিভারে সমস্যা ধরা পড়ে। কিডনিতে পানি জমে গেছে। ডায়াবেটিস। বুঝতে পারি খালা আর বেশি দিন নেই। তিনি আমার রক্তের কেউ নন। আমার বাড়ি থেকে কলেজ অনেক দূরে। হোস্টেলে রেখে পড়াশোনা করানোর অবস্থা আমার বাবার নাই। এখানে আমি জায়গীর থেকে পড়াশুনা করি। কিন্তু আমাকে কোন কাজ করতে হয় না। 

মিনা খালার শ্বশুরবাড়ি এলাকার প্রভাবশালী পরিবার। উনাদের পুর্বপুরুষ জমিদার ছিলেন। আমি এখানে নিজের বাড়ির মতই থাকি। তারা আমাকে নিজের সন্তানের মতো দেখেন। যা খান আমিও তাই খাই। তাদের ছেলের বিছানায় ঘুমাই। ঈদে আমাকেও মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হয় শার্ট কেনার জন্য। কিন্তু এখন আমি মিনা খালার কাছ থেকে মুক্তি চাই। 

মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর। আমিও। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, খালা দয়া করো আমাকে, মুক্তি দাও, দয়া করো খালা!


দুই.
মিনা খালা ঘুমিয়ে আছেন। বেডের ডানপাশে আমি বসে আছি। একটা মাছি খালার ঠোঁটের কাছে ভনভন করছে। কী খসখসে হয়ে আছে খালার মুখ। গলা ধরে আসতে চাইলো। আমার আরো আগে আসা উচিৎ ছিল, পরীক্ষার জন্য আসতে পারিনি। এতো দীর্ঘ সময় খালাকে কখনো ভর্তি থাকতে হয়নি। লিভারের অবস্থা খুবই খারাপ। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

খালার ঘুম ভাঙাতে ইচ্ছে করছে না। কী শান্ত শীতল মুখ। তীব্র কষ্টে বুকের ভেতরটা পুড়ে যাচ্ছে। বারান্দায় এসে আমি মীরাকে ফোন দিলাম। 

-খালার জন্য খুব খারাপ লাগছে মীরা। এতোদিন মনে মনে চেয়েছি খালা কিছু হয়ে গেলে আমি তোমার সঙ্গে থাকতে পারবো। এই ভদ্রমহিলা আমাকে না চাইতে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। ওপারে গিয়েও হয়তো তিনি আমাদের একসাথে থাকাকে মেনে নিতে পারবেন না। মীরা, আমি ভয়ঙ্কর সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কী করবো, বলো তো?

তিন.

মীরার মন খারাপ। সারারাত কেঁদেছে। চোখ ফুলে ঢোল হয়ে আছে। এতক্ষণে একবারও আমার দিকে তাকায়নি। আমি অনুভব করতে পারছি, মাঝে মাঝে ওর গা কেঁপে কেঁপে উঠছে। কী বলে সান্ত্বনা দেবো বুঝতে পারছি না। আমি শান্ত গলায় বললাম-তুমি নেক্সট টাইম আবার পরীক্ষা দাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।

মীরার মুখের থমথমে ভাব কেটে গেলো। সে চোখ তুলে আমার দিকে তাকালো। চোখ ছলছল করছে। আর কী অসহায়, নিবিড় অভিমান ভরা মুখ। আমি চোখ ফিরিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। সে বলল-আমাদের আর দেখা না হওয়ায় ভালো, আরিফ। 
আমি অবাক হয়ে বললাম ‘এখানে দেখা হওয়া না হওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? তোমার আমার সম্পর্ক সারাজীবন একই রকম থাকবে।’

মীরার সন্দেহ যায় না। চোখের কাজলের সঙ্গে লেপটে লেগে থাকে। হারানোর ভয় তাকে প্রতিনিয়ত ভোগায়। মেডিকেল এডমিশনের পর সে নার্সিংয়ে এডমিশন দেয়। চান্স পায়। আমি ভর্তি হতে নিষেধ করি, পরের বার পরীক্ষা দিতে বলি। কিন্তু তার পরিবারের কেউ চায় না এক বছর নষ্ট হোক। অগত্যা তাকে ভর্তি হতে হয় ঢাকা নার্সিং কলেজে। 

আর আমি ভর্তি হই বুয়েটে। আমরা একই শহরে থাকি। মাঝে মাঝে আমাদের দেখা হয়। আমি বুঝতে পারি কোথায় যেন একটা দুরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। ছুটিতে ট্রেনে আমরা একসাথে বাড়ি ফিরি। দীর্ঘপথ আমরা কথা না বলে কাটিয়ে দেই।

আমি আগের মীরাকে খুঁজি। সে পালিয়ে বেড়ায়। আমার ভার্সিটির বন্ধুদের সামনে আসতে লজ্জা পায়। বিব্রত হয় নিজের পরিচয় দিতে। কারণ আমাদের তথাকথিত সমাজ তখনো নার্সিং পড়াকে যথাযথ সম্মানের আসনে ঠাঁয় দিতে পারেনি। সে ডাক্তার হতে চেয়েছিল, আক্ষেপটাকে তাকে কুড়ে কুড়ে খায়। 

বুঝতে পারি, সত্যি বলছি আমি মীরার প্রতিটা নিঃশ্বাস পড়তে পারি। পরের বছর এডমিশনের আগে সে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় মেডিকেলে রিঅ্যাড দিবে। হাতে সময় নেই। জিদ চেপে বসে। আমি অবাক হই। ওকে নিয়ে, ওর সংগ্রাম নিয়ে বিজয়িনীর গল্প লেখা হয় না। দ্বিতীয়বারও তাকে হতাশ হতে হয়। ওর যন্ত্রণা আমি অনুভব করতে পারি। বুঝাতে পারি না। বিলিভ মি, কে কী বলল তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আমাদের সম্পর্ক জটিল হতে থাকে।

-আমি আর ছোট হয়ে থাকতে পারছি না আরিফ, তোমার সামনে যতক্ষণ থাকি নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। এটা যোগ্যতা অযোগ্যতার প্রশ্ন না। এ তুমি বুঝবে না। হোস্টেলের সবাই আমাকে তোমার সঙ্গে সম্পর্কের জন্য চেনে কিন্তু আমি চেয়েছিলাম মানুষ আমাকে আমার কাজের জন্য চিনুক। তুমি হয়তো আমাকে ভুল বুঝবে। কিন্তু না এ তুমি বুঝবে না। 

আমি মিনা খালার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলি। কারণ আমার বাবা মায়ের আলাদা করে অমতের কিছু ছিল না। বংশের সবচাইতে শিক্ষিত ছেলের তকমা গায়ে থাকায় তারা আমার যেকোন সিদ্ধান্তকে সমীহ করেন। যে ভয় করছিলাম তাই হলো, খালা সরাসরি না করে দিলেন। 

তার কন্ঠে জমিদার রক্তের জিইয়ে থাকা অহংকার দেখতে পেলাম। আমি ব্যাকুল হয়ে খালাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তের হেরফের হয় না, তিনি সাফ সাফ বলে দেন ‘আমি বেঁচে থাকতে তুই ওই মেয়েকে বিয়ে করিস না, তোকে যদি এতোটুকুও ভালোবেসে থাকি তাহলে তোর যা ইচ্ছে মরার পরে করিস।’

চার.

-কেন বুঝতে পারছো না আরিফ, আমি তোমাদের সোসাইটির সঙ্গে মিশতে পারবো না। কেন এমন করছো তুমি।

-আচ্ছা, নার্সিং পড়া নিয়ে সমস্যা, এইতো? তুমি পড়া শেষ করো, তারপর চাকরি না করলেও চলবে আমাদের। তোমারও খারাপ লাগবে না। কারো সমস্যাও হবে না। 

-কারো সমস্যা না হলেও আমার সমস্যা হবে। আমি ছোটবেলা থেকে মানুষের সেবা করতে চেয়েছি। ডাক্তার হতে পারিনি এ আক্ষেপ এখন আর নেই। আমি নার্স হয়েই সারাজীবন দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে চাই।

-মীরা, প্লিজ তুমি আমাকে কিছু সময় দাও। আমি খালাকে যে করেই হোক রাজি করাবোই। সব ঠিক হয়ে যাবো।

মীরার বাড়ি থেকে বিয়ের তোড়জোড় চলে। প্রায়ই বরপক্ষের লোক দেখতে আসে। মীরা রাজি হয় না। জিদ ধরে বসে থাকে। নিজের ওপর রাগ হয়। মা মেয়ের হাত ধরে বুঝান। 

‘আরিফের সঙ্গে তোর কিছু হবে না মীরা, বৃথা স্বপ্ন দেখিস না।’ বরপক্ষের লোকজন বারান্দায় অপেক্ষা করে। ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় ছটফট করি আমি। এ মাথা থেকে ও মাথা। নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে অসহায় মনে হয়। একটু পরপর ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি কী অবস্থা ওদিকে। 

আমি ওকে বিয়েটা ভেঙে দিতে বলি। মীরার ফোঁপানির শব্দ শুনতে পাই। আমি বুঝতে পারি মীরাকে ছেলে পক্ষের সামনে যেতেই হবে। বাড়িতে মেয়ে দেখতে এসে চলে যাওয়া মেয়ের বাবার জন্য খুবই অসম্মানের। আমার ভেতরটা রাগে শেষ হয়ে যায়। মীরাকে অনেকগুলো মানুষ পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে, চা মিষ্টি খেয়ে হেসে হেসে কথা বলবে। এসব আমি সহ্য করতে পারি না।

ফোনের এ পাশ থেকে ব্যাকুল হয়ে বলতে থাকি-মীরা প্লিজ, তুমি ওদের সামনে যাবে না, কখনো যাবে না।


মিনা খালার ঘুম ভেঙেছে। আমি খালার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। চেয়েছিলাম চোখ খোলার সাথে সাথে তিনি যেন আমাকে দেখতে পান। খালা মৃদু হাসলেন। একজন নার্স এসেছে ঔষুধ দিতে। তার সঙ্গে একটা ছোট বাচ্চা। নার্স মেয়েটি খালাকে বলল-এখন কেমন আছেন,মা? 

-এখন খুব ভালো লাগছে। তোমাকে বলেছিলাম না আমার ছোট ছেলে বুয়েটে পড়ে। এই সেই।

আমি নার্স মেয়েটির সঙ্গে পরিচিত হলাম। তার নাম ফিরোজা। সে সিলেট নার্সিং কলেজ থেকে বিএসসি কমপ্লিট করেছে। পাস করার পরের বছরই চাকরি হয়েছে। বিয়ে হয়েছে। কোলে চার বছরের বাচ্চা। সে তার বাচ্চাকে দেখিয়ে বলল-মা, এটা আমার ছেলে। এখানে আনা হয় না। বাড়িতে শ্বাশুড়ির কাছে থাকে। আপনাকে দেখাতে নিয়ে আসলাম। 

খালা শিশুকে দোয়া করে দিলেন। ফিরোজা ঔষধ খাইয়ে দিলো। বারান্দা থেকে তোয়ালে এনে গা মুছিয়ে দিলো। কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে রাখলো। খালা হঠাৎ করে আমাকে ডেকে বললেন-তোর মুখ এতো শুকনো কেনরে?
আমি বললাম ‘কই না তো। বরং তোমার মুখই বেশি শুকনো, খালা’

খালা আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন। বললেন, জানিস আরিফ যখন আমার খুব কষ্ট হতো, ব্যথায় যন্ত্রণায় সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসতো তখন ফিরোজা ওষুধের ট্রে হাতে নিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়াতো। আমি আবছা আবছা মুখ দেখতে পেতাম। মনে হতো ওর হাতে একটা আলো জ্বলছে। যেন আলো হাতে নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। 

ফিরোজার মা মারা গেছে কিছুদিন আগে। একদিন সে বলল আমার চেহারা নাকি হুবহু তার মায়ের মতন। তারপর থেকে সে আমাকে মা বানিয়েছে। আল্লাহর কাছে অনেক কান্নাকাটি করেছে বলে, তার মা নাকি আবার ফিরে এসেছে। কী অদ্ভুত কাণ্ড না? বল।

আমি মাথা নাড়ালাম। হ্যাঁ আজ সত্যিই খালা অদ্ভুত লাগছে। খালা ফিরোজাকে কাছে ডাকলেন। বললেন,এখান থেকে যাওয়ার আগে আমি তোমাকে একটা উপহার দিতে চাই। 
ফিরোজা খালার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, আমার কিছু লাগবে না, আপনি সুস্থ হয়ে উঠুন। 

-কিন্তু আমাকে যে দিতেই হবে মা, আমার ছেলে একটা মেয়েকে খুব পছন্দ করে। আমি মেয়েটাকে মেনে নেইনি কারণ সে নার্সিং পড়ে। বুয়েটে পড়া ইঞ্জিনিয়ারের বউ নার্স হবে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। সে মেয়েটা আমাদের মহল্লায় বড় হয়েছে। ছোটবেলা থেকে তাকে দেখেছি। সেভাবে তাকে কল্পনা করেছি। কিন্তু এখন আমি মেয়েটাকে তোমার মধ্যে খুঁজে পাই। সেও হয়তো  ওষুধের ট্রে হাতে মানুষের ব্যথা কমিয়ে দিচ্ছে। 

ভালোবাসা কুড়োচ্ছে আমার মতন কারো কাছ থেকে। আমি ঠিক করেছি তার সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিবো। এ উপহার শুধু তোমার জন্য নয়, নার্সদের জন্য। ওদের কাছে এতো ভালোবাসা জমা হয়ে থাকে আমার ছেলের কখনো ভালোবাসার অভাব হবে না। আমি মেয়েটাকে এখানে আসতে বলেছি।

খালার কথা শেষ না হতে আমি দরজায় তাকিয়ে দেখলাম মীরা দাঁড়িয়ে আছে। ওর চোখে ভয়। গভীর বিস্ময়। ভেতরে আসার জন্য সাহস পাচ্ছে না। খালা অভয় দিয়ে বললেন,ওখানে দাঁড়িয়ে কেন মা!
হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন। আমার কাছে আয়। আয়। 

মীরা এক পা দুপা করে এগিয়ে আসছে। আমি দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি তার চোখে টলমল করছে আনন্দ অশ্রু!

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না