ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাছির উদ্দিন আহমেদ

পরিচালক 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


মানসন্মত চিকিৎসা পাওয়া সবার অধিকার

শুধুমাত্র মেডিকেল শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকরা নয় প্রায় সবাই রাষ্ট্র নামক কাঠামোর মধ্যে থেকে জনগণের টাকায় পড়াশোনা করে। ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই জনগণের রাজস্বের টাকায় পড়ে। তাই সবারই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে।

কিছু ডাক্তারের খারাপ আচরণ বা পেশাগত ভুলের জন্য পুরো ডাক্তার সমাজকে দোষারপ করা বিবেচনা প্রসূত আচরণ নয়। তবে পুরো চিকিৎসার ব্যপারে জনগণের প্রশ্ন করার অধিকার আছে; এটা মৌলিক অধিকার।

তাই চিকিৎসা ব্যবস্থায় আচরণ বিজ্ঞানের বিষয়টি পঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করে চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষায় নুতন করে যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের মেডিকেল পড়াশোনার পদ্ধতিগত ক্রটি চিহ্নিত করে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আরো যত্নের প্রয়োজন। সিলেবাস রিভিউ করা উচিৎ। একজন শিক্ষার্থী মানবিক পরিবেশে লালিত হলে, যত্ন পেলে তার ব্যবহারে মানবিকতা ও ভালবাসা আসবেই। সেটা দেখতে হবে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের।

আমি তিনটি হাসপাতাল চালানোর অভিজ্ঞতা এবং উন্নত দেশের ডাক্তারদের আচরণ ও সুযোগ সুবিধা দেখেছি। আমাদের পাশের দেশ ভারতে সরকারি চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন না। কারণ তাদের বেতনের কাছাকাছি নন প্র্যাকটিসিং ভাতা দেয়া হয়।

ভারতের সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা আমাদের চেয়ে ভাল নয়। কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। ওদের মেডিকেল ট্যুরিজম অনেক বিন্যস্ত। 

এদিকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার মান ও দক্ষতায় অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ইংল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল। ওদের ওখানে সিস্টেম মেনে চিকিৎসা নিতে হয়। চাইলেই আপনি জিপির রেফারেল ছাড়া স্পেশালিস্ট চিকিৎসকের কাছে যেতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল নেগলিজেনসের কারণে মৃত্যু হার ও মামলা সবচেয়ে বেশি।

দুই.
সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। মানসন্মত চিকিৎসা পাওয়া সবার অধিকার। রাষ্ট্রকে মেডিকেল নেগলেজেন্সি হলে তা দেখার জন্য নুতন করে আইন করতে হবে। মেডিকেল অডিটের কার্যকর প্রয়োগ থাকতে হবে। যে কোনো রোগীর প্রতিকার পাওয়ার অধিকার থাকতে হবে। মেডিকেল ইনকুয়েস্ট ও মেডিকেল নেগলিজেন্স দেখার জন্য প্রশিক্ষিত আইনজীবী থাকতে হবে।সব রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে।

সবাইকে যে কোনো পরিস্থিতিতে বিবেচক হতে হবে। প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসারর নীতিমালা ও গুণগত মান মনিটরিং করতে হবে। বেশিরভাগ সন্মানিত ডাক্তার কোন কমিশন নেন না। এটি যেন বন্ধ হয় তার জন্য আইন করতে হবে। এ ধরনের কমিশন যারা নেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়।

ডাক্তাদের প্রণোদনা হিসেবে বেতন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। আর কর্মপরিবেশ রোগী ও ডাক্তারবান্ধব হতে হবে। রোগী দেখার সংখ্যা নির্দিষ্ট করতে হবে।

তিন.
এদেশে এখন সবাই কমবেশি ডাক্তার! কারা চিকিৎসা দেবেন বা নামের আগে ডাক্তার লেখবেন এটার জন্য কার্যকরী নীতিমালা থাকা জরুরি। এছাড়াও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজ ও নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন।

আর চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা ও প্রায়োগিক চিকিৎসা আরো সহজ করতে হবে। এত জটিলতা পরিহার করতে হবে। এতে পেশাদাররাই টিকে থাকবে। যে ডাক্তার রোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন তিনি ডাক্তার হিসেবে কখনও টিকে থাকতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

► তাদের দায়িত্ব কেন সমগ্র ডাক্তার সমাজ নেবে?

►বাংলাদেশের চিকিৎসা সংকট

►একটি চক্র চাচ্ছে না হাসপাতাল এভাবে এগিয়ে যাক: ব্রিগে. জেনা. ডা. নাসির উদ্দিন

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা: করণীয় ও চিকিৎসা

ডিপ্রেশন একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধি যা একজন মানুষকে সবার অজান্তে তিলে তিলে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর