ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. ফাহিম উদ্দিন

ডা. ফাহিম উদ্দিন

ইন্টার্ন চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


০৩ জুলাই, ২০১৮ ১৩:০৫

যে কারণে মানুষের মাঝে ভালবাসার বন্ধন

যে কারণে মানুষের মাঝে ভালবাসার বন্ধন

অক্সিটোসিনকে বলা হয় ‘Love hormone’/ ‘Bonding hormone’. একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষকে টাচ করে তখন অক্সিটোসিন রিলিজ হয়, কিস করলে আরো বেশি এবং অরগাজমে তার চেয়েও বেশি। 

প্রেম-ভালবাসার প্রাথমিক পর্যায়ে সেরোটোনিন, ডোপামিন, নর-এপিনেপ্রিন এই তিনটা নিউরোট্রান্সমিটারের আধিক্য বেশি দেখা যায়। যার ফলে প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা স্বামী-স্ত্রী শুধু নিজেদের সম্পর্ক নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-জ্ঞান জুড়ে প্রেম আর প্রেম। আস্তে আস্তে (ছয় মাস থেকে দু’বছর) এই তিনটা নিউরোট্রান্সমিটারের লেভেল কমতে থাকে। অক্সিটোসিন রিলিজ হতে শুরু করে।

আল্লাহ পাক যে এরকম ব্যাবস্থা করলেন, এর একটা কারণ আছে। ঐ তিনটা নিউরোট্রান্সমিটার যদি একটা সময় পর না কমতো, তাহলে মা তাঁর বাচ্চার প্রতি ঠিকমত কনসেন্ট্রেট করতে পারতো না। অন্যদিকে বাবাও তার কাজকর্ম/অর্থ উপার্জনে ঠিকমত মনোযোগী হতে পারতো না। তারা তাদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েই বিভোর থাকতো! 

এজন্য আল্লাহ পাক একটা নির্দিষ্ট সময় পর এগুলো কমিয়ে অক্সিটোসিন রিলিজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অক্সিটোসিন হল বন্ডিং হরমোন। ফলে মা-বাবা যে কাজেই ব্যাবস্থা থাকুক, যেখানেই থাকুক, তাদের মধ্যকার ইমোশনাল বন্ডিংটা বজায় থাকে। একজন অপরজনকে ভুলতে পারে না। প্রাথমিক পর্যায়ের ‘Passionate Love’ এখন ‘Affectionate Love’ এ পরিণত হয়।

কিন্তু সৃষ্টিগত কারণেই পুরুষদের (মহিলাদের তুলনায়) অক্সিটোসিন কম রিলিজ হয়। ফলে তাদের ইমোশনাল বন্ডিংটা মহিলাদের মত স্ট্রং হয় না। এজন্য অনেক স্ত্রীর-ই কমপ্লেইন...তার স্বামী তাকে আগের মত ভালবাসে না, তার জন্য আর ফুল/উপহার নিয়ে আসে না, আগের মত ঘুরতে নিয়ে যায় না ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে সৃষ্টিগত কারণেই পুরুষরা এমন।

অনেক আগে এই বিষয়টা জেনেছিলাম (from Dr. Najeeb sir) এবং তখন এই লেখাটা লিখেছিলাম। লেখাটি পুনরায় দেয়ার কারণ হল, বর্তমান সময়ে পরিচিত যত ভাই/বন্ধুর ব্রেক-আপ হয়েছে সবক্ষেত্রেই মেয়েদের একই অভিযোগ- ঠিকমত সময় দেয় না/কেয়ার নেয় না। এই থেকেই শুরু হয় অযৌক্তিক/অবাস্তব সন্দেহের। 

এরপর কথা কাটাকাটি, ঝগড়াঝাঁটি। এক কথা থেকে দশ কথা। সময়ের পরিক্রমায় এই ফিজিওলজিক্যাল ব্যাপারটাকেই তারা প্যাথলজি হিসেবে ধরে নেয়। এমনকি অনেক দম্পতীর মাঝেও এই সামান্য বিষয় নিয়ে সবসময় ঝগড়াঝাঁটি/মনোমালিন্য চলতে থাকে।

আরে ভাই, যে ছেলে সারাদিন ক্লাস-টিউশনি করে টায়ার্ড থাকে সে ফোনে আর কতটুকু সময় দিতে পারবে! যে সারাদিন হসপিটাল ডিউটি-চেম্বার করে টায়ার্ড থাকে সে আর কতটুকু সময় দিতে পারবে। সেও তো মানুষ, রোবট তো আর নয়। এতটুকু বোঝার মত মানসিকতা না থাকলে কীভাবে হবে। 

একজন অশিক্ষিত/কম শিক্ষিত মেয়ে এসব নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করলে তাও মানা যায় কিন্তু একজন শিক্ষিত/উচ্চশিক্ষিত মেয়ে যদি এসবকে কেন্দ্র করে অবাস্তব সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অহেতুক ঝগড়াঝাঁটি করতে থাকে এবং সেই সূত্র ধরে ব্রেক-আপ এর মত ডিসিশনের দিকে ধাবিত হয় তবে সেটা খুবই দু:খজনক। 

অন্তত এতটুকু বোঝার মত মানসিকতা থাকা উচিত। এই সামান্য বিষয় নিয়ে ভালো ভালো ভাই/বন্ধু গুলোর সাথে যা হয়েছে তা আসলে কোনো ভাবেই মানতে পারছি না। ছেলে হয়েই বলছি, এ যুগে ভালো ছাত্র অনেক পাওয়া যাবে কিন্তু ভালো পাত্র পাওয়া খুব কঠিন!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত