০১ জুলাই, ২০১৮ ০৮:২৩ পিএম

এসির ভুল ব্যবহারেই শরীরে বাসা বাঁধছে জ্বর-নিউমোনিয়া

এসির ভুল ব্যবহারেই শরীরে বাসা বাঁধছে জ্বর-নিউমোনিয়া

মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য: ছেলের আচমকা শরীর খারাপের কারণ ঠাহর করতেই দিশেহারা তাঁরা। গরমের ছুটি চলছে। তাই স্কুলে যাতায়াতের পথে রোদ লাগার প্রশ্ন তো নেই-ই বরং রোদের বেশিরভাগ সময়টা ঘরেই থাকে রিভু। তা-ও এসির মধ্যেই। তাহলেও কেন এই সর্দি-কাশি ? চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানালেন, রিভুর যাবতীয় শরীর খারাপের নেপথ্যে রয়েছে ওই এয়ার কন্ডিশনারই।

ছোট্ট রিভুই নয়। ষাটোর্ধ্ব সমরেশ ঘোষলও কাবু হয়েছেন এই এসির কারণেই। গরমের হাত থেকে মুক্তি পেতে সদ্য অবসরপ্রান্ত সমরেশবাবু ঘরে এসি লাগিয়েছিলেন সাধ করে। আরামে এক সপ্তাহও ঘুমোতে পারেননি। বুকে সর্দি বসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি৷ পরিস্থিতি সামলাতে নার্সিংহোমে ভর্তি করতে হয় সমরেশ ঘোষালকে। জানা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, শরীরে হয়তো নিউমোনিয়ার জীবাণু বাসা বেঁধেছিল আগেই, কিন্তু অবৈজ্ঞানিক ভাবে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহারের কারণে সেটাই প্রকোপ বাড়িয়েছে। গরমের হাত থেকে বাঁচতে হুড়মুড়িয়ে ঘরে এসি বসানোর ধুম পড়েছে শহরে। সিইএসইর সদর দপ্তরে লোড বাড়ানোর আবেদন জমা পড়ছে হাজারো। কিন্তু ঠান্ডা করার যন্ত্র ব্যবহারের কায়দা জানাই নেই অধিকাংশের। আর যার জেরে হাজারো টাকার যন্ত্র কিনে লাখো খরচ করতে হচ্ছে অনেককেই। কারণ, অবিবেচকের মতো এসি ব্যবহারের জেরে সর্দি-কাশি এমনকি নিউমোনিয়ার মতোও রোগের কোপে পড়ছেন শহরবাসী।

এসি থেকে এত বিপত্তি? আরজিকর মেডিক্যাল কলেজের চেস্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুস্মিতা কুণ্ডুর কথায়, নিশ্চয়ই।এসি ঠিকমতো তাপমাত্রায় ব্যবহার করতে না পারলে সমস্যা তা হবেই। আর নতুন এসি কেনা হলে অধিকাংশ সময়েই পরিমিতভাবে এয়ার কন্ডিশন মেশিন ব্যবহার করা হয় না। আর মনে রাখতে হবে, এসিতে জমা ধূলিকণায় অ্যালার্জেন্ট মজুত থাকে। বাইরের তাপমাত্রা বাড়লে ঘর ঠান্ডা করতে তাতে এসি কম তাপমাত্রায় চালাতেই হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন শরীরকে সুস্থ রাখতে আনুমানিক ২৪-২৮ ডিগ্রির মধ্যেই এসির তাপমাত্রা রাখা বৈজ্ঞানিক। এয়ারকন্ডিশনার কিন্তু ফ্যান নয়। তাই গরম বেশি হচ্ছে বলেই ১৬ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা নামিয়ে আনলাম, এটা করা উচিত নয় মোটেই। এসিকে সময় দিতে হবে ঘর ঠান্ডা করার। তাতে এসিও ঠিক থাকবে, আবার শরীরও খারাপ হবে না, মন্তব্য এক এয়ারকন্ডিশন এক্সপার্টের।

ঘটনা হল, অপরিমিত এসি ব্যবহারের জেরে বেশি সমস্যায়। পড়ছে শিশু এবং প্রবীণরাই। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রভাস গিরি বলেন, বাবা-মা যদি দেখেন একদিন বা একরাত এসিতে থাকলেই সন্তানের ঠান্ডা লাগার ভাব হয়েছে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সতর্ক হতে হবে। সেটা না করে এসিতে থাকা চালিয়ে গেলে হিতে বিপরীত ফল হতে পারে। 

পালমনোলজিস্ট রাজা ধর আবার বলেছেন, ‘এসির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ধূলিকণা জমে যাওয়া। আর সেই ধূলিকণায় অ্যালার্জেন্ট থাকে। নিয়মিত এসি পরিস্কার করা না হলে অ্যালার্জেন্ট এর কারণে সর্দি-জ্বর বা শ্বাসনালীর সমস্যা, অনেক কিছুই হতে পারে।’ 

সূত্র: এইসময়.কম
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত