আলভী আরাফাত

আলভী আরাফাত

শিক্ষার্থী, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, জাফরাবাদ,করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ


০১ জুলাই, ২০১৮ ০৩:১২ পিএম

কোন খাবার কেন খাবেন?

কোন খাবার কেন খাবেন?

জীবন ধারণের জন্য খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। খাবার আমাদের শরীরের শক্তি যোগায়, সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সবল রাখে। 

দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন কাজ করি তার জন্য শক্তি ব্যয় হয় যা খাবার থেকে আসে এবং আমাদের বেচেঁ থাকার জন্য প্রয়োজন শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত সঞ্চালন, মুত্র তৈরি ও বের করা, অন্ত্রে খাদ্য পরিপাক-শোষণ ও বিপাকের জন্য ও প্রয়োজবীয় শক্তি খাবার থেকে ই আসে। তাই দৈনন্দিক খাদ্য গ্রহণের প্রতি আমাদের মনযোগ দিতে হবে।

দৈনন্দিন পরিমাণমত খাদ্য আমাদের খেতে হবে। অতিরিক্ত খাবার খেলে বা কম খাবার খেলে আমাদের বিভিন্ন রোগ হতে পারে। খাদ্যের মধ্যে দুই ধরণের উপাদান রয়েছে, খাদ্যের মুখ্য উপাদান ও গৌণ উপাদান। তাই খাদ্য উপাদানের উৎস, কাজ, কী পরিমাণ গ্রহণ করতে হবে, কম গ্রহণে কী রোগ হতে পারে, অতিরিক্ত গ্রহণে কী রোগ হতে পারে, জানা থাকা দরকার।

খাবারের মুখ্য উপাদান :
১. শর্করা
২. আমিষ
৩. স্নেহ বা চর্বি

*শর্করার উৎস:
ভাত, আটা, ময়দা, চিনি, গুড়, মিষ্টি, চিড়া, গম, ভূট্টা, আলু ইত্যাদি।
দৈনিক মোট প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তির ৫০-৬০ ভাগ শর্করা হওয়া প্রয়োজন।

*শর্করার কাজ:
১. শর্করা দেগের শক্তির প্রধান উৎস।
২. শর্করা দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. শর্করা দেহের তাপ শক্তি উৎপন্ন করে।
৪. দেহের প্রয়োজনীয় আমিষ ও স্নেহ সরবরাহ করে।
৫. মস্তিকের একমাত্র খাবার হচ্ছে গ্লুকোজ(যা শর্করা থেকে আসে)।
৬. শর্করা দেহের কাঠামো গঠনে সহায়তা করে।
৭. শর্করা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৮. যকৃত(লিভার) থেকে বিষাক্ত বর্জ্যপদার্থ অপসারন করে  
৯. শর্করা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।

*শর্করা কম খেলে কী রোগ হতে পারে:
১. শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়।
২. শরীরের কার্যকলাপ (দহন ক্রিয়া) কমে যায়।
৩. শরীরে কিটোন বডি নামে বিষাক্ত পদার্থ উৎপন্ন হয়।

*অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণে কী রোগ হতে পারে:
১. দেহের ওজন বৃদ্ধি পায়।
২. অন্ত্রকে উত্তেজিত করে।
৩. ডায়াবেটিস হতে পারে।

আমিষের উৎস:
ডিম, দুধ, মুরগির মাংস, মাছ, শুটকি, গরুর মাংস, সয়াবিন তেল, ফুলকপি, টমেটো, ডাল, বাদাম, ফল ইত্যাদি।

দৈনিক একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের দৈহিক প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম করে আমিষ খাওয়া প্রয়োজন (৬০-৮০ গ্রাম)।

*আমিষের কাজ:
১. জীবদেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে।
২. দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ রক্ষা করে।
৪. শরীরের অসমোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. আমিষ বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

*আমিষের অভাবজনিত রোগ:
১. মৃত সন্তান প্রসব
২. রক্তশূন্যতা
৩. দেহের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়
৪. শরীরের ওজন কমে যায় ও কুষ্ঠ-কাঠিন্য হয়
৫. কোয়াশিকর (শিশুদের রোগ) হয়

অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণে কী হতে পারে:
১. হৃদরোগ
২. ক্যান্সার
৩. কিডনিতে পাথর
৪. উচ্চরক্তচাপ

চর্বির উৎস:
ঘি, মাখন, ডালডা, পনির, ক্ষীর, দুধ ও দুগ্ধজাত, গরুর মাংস, খাশির মাংস ইত্যাদি। দৈনিক একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের ৩৫-৪০ গ্রাম চর্বি দরকার।

চর্বির কাজ:
১. দেহে শক্তির সংরক্ষিত উৎস হিসেবে কাজ করে।
২. দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি এসিডগুলো চর্বিজাতীয় খাবার থেকে আসে (যা দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এ সাহায্য করে)।
৩. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো( A, D, E, K) চর্বিজাতীয় খাবার থেকে আসে।
৪. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে।
৫. চর্বি রুচি বৃদ্ধি করে।
৬. দেহে শর্করা জাতীয় খাদ্যের অভাব হলে, চর্বিগুলো শর্করার উৎস হিসেবে কাজ করে।
৭. দেহের সুন্দর্য্য বৃদ্ধি করে।
৮. দেহের তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে।

* চর্বির অভাবে যা হয় :
১. ত্বকের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়
২. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো কমে যায়, যার ফলে এসব ভিটামিনের অভাবজনীত রোগ হতে পারে।
৩. শরীর দূর্বল হয়ে যায়।

*অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ করলে যা হয়:
১. অবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়)
২. অথেরোসক্লেরোসিস
৩. পিত্ততলিতে পাথর
৪. করোনারি হার্ট ডিজিজ
৫. কোলন ক্যান্সার ও বেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

খাদ্যের গৌণ উপাদান:
১. ভিটামিন
২. খনিজ লবণ
৩. পানি
৪. আঁশ জাতীয় খাবার। (গৌণ উপাদানগুলো বিস্তারিত পরবর্তী অংশে আসবে।)

এছাড়াও সারা বিশ্বে এখন মেদহীন ছিপছিপে দেহের জয়জয়কার।পরিমাণমত খাবার গ্রহণ দ্বারা ই কেবল সম্ভব মেদহীন ছিপছিপে দেহ গঠন।
যেহেতু দৈনন্দিন পরিমাণমত খাদ্য আমাদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং পরিমাণমত খাবার আমাদের দেহকে সুস্থ ও সবল রাখতে সক্ষম। তাই দৈনিক পরিমাণমত খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে